somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিদেশে বাংগালী সার্ভিস

২৩ শে মে, ২০২১ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



বাংগালীরা পশ্চিমে যাচ্ছেন; তবে, অনেকে সেখানকার সংস্কৃতি না শিখে, নিজেদের খারাপ অভ্যাসগুলো এখনো পুষে যাচ্ছেন, এটা সেই ধরণের একটি ঘটনা:

নিউইয়র্কের লং-আইল্যান্ডে কাজ করছিলাম; বাহিরে হাঁটার সময়, দোকান থেকে ১ কাপ কফি কেনার ইচ্ছে হলো; গেলাম পাশের ডাংকিন ডোনাটে; দুপুর বেলায় লম্বা লাইন; বেশীর ভাগই বয়স্ক লোকজন, সিনিয়র সিটিজেন এলাকা; সার্ভিসে সবাই বাংলাদেশী, ৪ জন তরুণী, ১ জন একটু বয়স্ক মহিলা, ১ জন মধ্য বয়সী পুরুষ, এবং ইনি ম্যানেজার। ক্যাশে ১ জন অর্ডার নিচ্ছেন, লাইন নড়ছে না; সার্ভিসের এক তরুণী ডোনাট ইত্যাদি সাজাচ্ছে, সাথে সাথে কোন এক মহিলার আধা-পর্ণ জাতীয় পরকিয়ার গল্প পুরো গ্রাফিকসহ বলছে, সবাই সেটাতে মত্ত ; দোকানে হা হা, হি হি চলছে!

অনেকক্ষণ পর, ক্যাশের কাছে আসলাম; সামনের মহিলা, প্রায় ৮০ বছর বয়স হবে, ২টি ডোনাট ও মিডিয়াম কফির অর্ডার দিলেন; দাম দেয়ার সময় কুফন দিলেন ক্যাসিয়ারকে; ৪ ডলার থেকে সামান্য বেশী বিল আসলো, মহিলা ৫ ডলারের বিল দিয়ে বিল দিয়ে খাবার নিয়ে টেবিলে গিয়ে বসলেন। ক্যাসিয়ার বাংলায় আমাকে বললেন,

-কিভাবে সাহায্য করবো আপনাকে?
অকারণ দেরী ও হৈ চৈ'তে মেজাজ ভালো ছিল না; ইংরেজীতে অর্ডার দিলাম,
-দুধসহ ছোট ডি-কাফ, ফ্যাট-ফ্রি মিলক, চিনি লাগবে না।

পয়সা দিতে যাচ্ছি, এন সময় আগের ঐ বয়স্ক মহিলা ফেরত এলেন ক্যাশে, বললেন,
-আমি কুফন দিয়েছিলাম, আমার থেকে বেশী পয়সা নেয়া হয়েছে!

ক্যাশের তরুণী অগ্নিমুর্তি ধারণ করে বললেন, "এই কুপন আমরা নিচ্ছি না"।
মহিলা হতাশ হয়ে ফিরে গেলেন; আমি ক্যাশিয়ারকে বললাম,
-কুপনটা আমাকে দেখাবেন?

-তুমি আবার কে? ক্যাশিয়ার আমাকে ধমক দিলো; ভেতরের গল্প বলা হঠাৎ করে বন্ধ হয়ে গেলো, সবাই আমাকে দেখছে; আমি বললাম,
-আমি কেহ নই; তবে, বড় যায়গায় নালিশ করবো; কুপন নিয়ে মিথ্যা বললে বড় সমস্যা হবে।
-যাও, করগে, উঁচু গলায় বললো ক্যাশিয়ার; এরপর মাহিলাকে ডেকে তার পুরো ৫ ডালারের নোট ফেরত দিলো; আমি কফি নিলাম, দোকানে ভয়ংকর নীরবতা।

দুইদিন পর, বাড়ী ফেরার পথে সেই দোকানে গেলাম, লাইন ছিল না; ক্যাশে ছিল ঠিক আগের দিনের মেয়েটি; ভেতরে হইচই করে গল্প চলছিল; আমি অর্ডার টেবিলের দিকে এগিয়ে যেতে মেয়েটা ঘোষনা করলো:
-গন্ডগোলটা এসেছে, গন্ডগোলটা এসেছে।
সে ক্যাশ থেকে সরে দাঁড়ালো, সবাই চুপ; বয়স্ক মহিলাটি ক্যাশে এলেন; আমি অর্ডার দিলাম, বাটারসহ টোস্টেড খোয়াসঁ ও এক বোতল সোডা। পয়সা দেয়ার সময় মহিলা বললেন:
-কফি?
-না, ধন্যবাদ
-ফ্রি।
আমি না করলাম। আমি টোস্টেড খোয়াসঁ'র জন্য অপেক্ষা করছি, ম্যানেজার বললো, "এই লোক বাংগালী"। ক্যাশের মহিলা বললো,
-না, বাংগালী নয়; আমি ফ্রি কফি দিতে চেয়েছিলাম, নেয়নি।

ট্রেনে উঠে প্যাকেট খুলে দেখি, টোস্টেড খোয়াসঁ'র যায়গায় ব্যাগল; আমি ব্যাগল পছন্দ করিনা, একবার খেলে সহজে ক্ষুধা লগে না; তবুও খেলাম।
পরেরদিন, কাজে যেতে থামলাম দোকানে, তরুণী ক্যাশিয়ার আমাকে দেখেই জোরেই ঘোযনা করলো,
-মাসী, গন্ডগোলটা এসে গেছে।
-গতকাল আমাকে টোস্টেড খোয়াসঁ'র যায়গায় ব্যাগল দেয়া হয়েছিল, বয়স্ক মহিলাকে বললাম।
-তাই নাকি? ঠিক আছে, ভবিষ্যতে যাতে ভুল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবো; আজ কি দেবো?
-আমি আমার টোস্টেড খোয়াসঁ চাই।
মহিলা গ্রিলের ছেলেটাকে অর্ডার দিয়ে আমার কাছে পয়সা চেলো। আমি বললাম:
-পয়সা তো গতকাল দিলাম।
-আপনাকে তো ব্যাগল দেয়া হয়েছিলো।
-ওটা আমার অর্ডার ছিলো না।

দোকানের সবাই চুপ, ম্যানেজার সামনে এলো, বললো:
-ব্যাগল তো আপনি ফেরত আনেননি।
-আপনি চান, আমি ট্রেন থেকে এসে ব্যাগল দিয়ে যাবো? এসব গন্ডগোল ছেড়ে দেন।

মহিলা আমাকে খোয়াসঁ'র প্যাকেট দিলো; আমি বেরিয়ে যাচ্ছি, শুনলাম, ম্যানেজার মহিলাকে বলছে,
-বিনা পয়সায় দেয়া ঠিক হয়নি তোমার; লোকটা মাথায় উঠবে।

শুক্রবারে কাজের থেকে আগে বাড়ী ফিরছি, কফির জন্য থামলাম, লোকজন তেমন নেই; ক্যাসিয়ার মেয়েটি ঘোষনা করলো,
-গন্ডগোল, গন্ডগোল, গন্ডগোল এসেছে।
সবাই কাজ কর্ম বন্ধ করে আমাকে দেখছিল; গ্রিলের ছেলেটা বললো, "তুমি যে গন্ডগোল, গন্ডোগল বলছ, লোটা এক সময় বুঝতে পারবে"
"আজ এই লোকের অর্ডার আমি নিচ্ছি", বলে ম্যানেজার ক্যাশে এসে দাঁড়ালো।
আমি অর্ডার দিলাম, "মিডিয়াম ডি-কাফ, ফ্যাট-ফ্রি মিলক, চিনি লাগবে না"

লোকটা নিজেই কফি বানাতে গেলো, ডি-কাফের পটে সামান্য তলানী পড়ে ছিল, সেটুকু ঢাললো, বাকীটুকু দিলো রেগুলার থেকে; আমি জানালা দিয়ে বাহিরের দিকে তাকানোর ভান করে দেখছিলাম; পুরো ক্রু ম্যানেজারের দিকে তাকিয়ে আছে; আমি কফি নিয়ে পয়সা দিয়ে, এক চুমুক খেয়ে বললাম:
-আমি ডি-কাফের অর্ডার দিয়েছিলাম?
ম্যানেজার বললো, "এটা ডি-কাফ"।

বয়স্ক মহিলা এগিয়ে এলেন, "একটু অপেক্ষা করুন, নতুন ডি-কাফ তৈরি করে দিচ্ছি"; উনি নিজেই কফি বসালেন, মিনিট চারেকের মাঝ কফি হয়ে গেছে; মহিলাটি আরেকটি অর্ডার নিচ্ছে; ম্যানেজার আমার জন্য কফি বানালো; দেখা যাচ্ছে সে রাগান্বিত; সে ফ্যট-ফ্রি দুধের যায়গায় রেগুলার দুধ দিলো দেখলাম। আমি কফিটা হাতে নিয়ে এক চুমুক খেয়ে মহিলাকে বললাম:
-আমি ফ্যাট ফ্রি দুধ চেয়েছিলাম।
মহিলা ম্যানেজারের দিকে তাকালো; দোকানের এক পাশে ম্যানেজারের টেবিল, সে সেখানে গিয়ে বসে পড়লো। মহিলা নতুন করে কফি বানিয়ে দিলো; বললেন,
-ফ্রি খোয়াসঁ দেবো আপনাকে।
-না, ধন্যবাদ।
আমি দোকান থেকে বের হচ্ছি, আগেরদিনের তরুণীটি ঘোষণা করলো,
-গন্ডগোলটা গেলো, আর যেন না আসে।


সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মে, ২০২১ রাত ৮:১৭
২৬টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মিলাদুন্নবী: ভালোবাসার নবী, মানবতার শ্রেষ্ঠ আদর্শ

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৮


মহানবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্মদিন বা মিলাদুন্নবী শুধু একটি ঐতিহাসিক স্মরণদিন নয়; এটি মানবতার জন্য এক মহান আদর্শের কথা স্মরণ করার উপলক্ষ। তাঁর আগমন ছিল এমন এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ একটি পরিচ্ছন্ন শৌচাগার

লিখেছেন রাজসোহান, ২৫ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৮



বাড়িটা দেখতে বাড়ির মতো না, যেনো একটা ঘোষণা। দ্যাখো, আমি কে।

গেটে দুইটা সিংহ, পাথরের, মুখ হাঁ করা; সিংহ দুইটা কী পাহারা দিচ্ছে তারা নিজেরাও জানে না। ভিতরে উঠান... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×