somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

১ ডলার মুল্যের ডিটেকটিভের কবলে

২৬ শে জুন, ২০২১ বিকাল ৪:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কমেন্ট ব্যানে আছি, আপনাদের লেখা পড়ছি, কমেন্ট করতে পারছি না।

চার বছর আগে, একদিন দশ এগারো বছরের একটি কিশোরী অকারণে আমাকে সন্দেহ করে, আমার কার্যকলাপের উপর অকারণ নজর রাখছিলো কিছু সময়ের জন্য; সেই কাহিনী বলছি:

আমার স্ত্রীর বার্ষিক চক্ষু চেক-আপ ছিল সেদিন দুপুর বেলায়; ডাক্তারের অফিস বেশ দুরে, গাড়ী নিতে হলো; গাড়ীর পার্কিং পাওয়া বিশাল এক সমস্যা, ডাক্তারের অফিসের আশেপাশে পার্কিং নেই; অনেকক্ষণ চারিপাশে ঘুরলাম; শেষে অফিসের পেছনে অবস্হিত একটি হাউজিং'এর পেছনে ছোট একটি রাস্তায়, শেষ বাড়ীটার পাশে পার্কিং পেলাম, এটা ছিল ডেড-এন্ড (সামনে যাবার পথ বন্ধ); হাউজিং'এর উল্টোপাশে পাইন গাছের ছোটখাট একটি জংগল।

রাস্তাটা পাশের বাড়ীর বারান্দার সাথে প্রায় লাগানো; বাড়ীর সীমানা-বেড়ার বাহিরে, রাস্তার পাশে বুনো সুর্যমুখীর একটি ঝোপ, অনেক ফুল ফুটেছে। বারান্দায় দশ এগারো বছরের একটি কিশোরী চেয়ারে বসে বই পড়ছিলো; দেখলাম, সে গাড়ীর দিকে তাকিয়ে আছে; মেয়ের ভাবসাবে মনে হচ্ছে, হাউজিং'এর লোকজন ছাড়া, বাইরের লোক এইদিকে পার্কিং করে না; আমি গাড়ী থেকে বের হওয়ার সময় সে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়িয়ে আড় চোখে আমাকে দেখলো; চোখাচোখি না হওয়ায় আমি হ্যালো ম্যালো বললাম না।

আমার স্ত্রী রাস্তার পাশের বুনো সুর্যমুখী দেখে বললো,
-আমরা এখান থেকে ২/১ টা ফুল নিতে পারবো?
-এই দেশে কেহ বুনো ফুল সাধরণত নেয় না; মেয়েরা ২/১ ছিঁড়ে নেয়, হাতে রাখে; নেয়া বোধ হয় ঠিক হবে না।

ডাক্তারের অফিসে গেলাম; স্ত্রীর চোখ পরীক্ষার জন্য ঘন্টা খানেকের বেশী সময় লাগবে, তার চোখ ডাইলিয়ুট করা হয়েছে; স্ত্রীকে বললাম যে, আমি গাড়ীতে অপেক্ষা করবো। গাড়ীর কাছে ফিরে এসে দেখি কিশোরী বারান্দায় নেই; তবে,বাড়ীর দোতালার ব্যালকনিতে ১৫/১৬ বছরের একটি বালক বাইনোকুলার হাতে পাইন বনে কি যেন দেখছে; মেয়েটার মতো ব্লন্ড চুল, মেয়ের ভাই হবে; আমাকে দেখে সে ঘরে চলে গেলো। আমি গাড়ীতে প্রবেশ করার আগে স্ত্রীর জন্য একটা ফুল ডাঁটাসহ ভেংগে নেয়ার চেষ্টা করলাম। কিন্তু বুনো সুর্যমুখীর বাকল পাটের বাকলের মতো, ছেঁড়া অসম্ভব; আমি চেষ্টা করেই যাচ্ছি, এমন সময় দেখি কিশোরী কাঁচের স্লাইডিং দরজা দিয়ে আমাকে দেখছে। ঝোপের কারনে, আমার বাকল ছেঁড়ার কসরত তার চোখে পড়ার কথা নয়। আমি গাড়ীতে গিয়ে, পেছনে রাখা একটা বড় কাঁচি নিয়ে এলাম।

ফুলের ডাঁটা কাটতে যাবো, ঠিক এমন সময় দেখলাম, ২ জন মহিলা একটা ছোট বাচ্চাসহ এদিকে আসছে; আমি তাড়াতাড়ি একটা আগাছা কাঁটা গাছের ডাল ট্রিম করা শুরু করলাম, যেন ম্যনাজমেন্টের মালি; তারা খুবই মন্দগতিতে হাঁটছে, আমি ট্রিমিং চালিয়ে যাচ্ছি; পাশ দিয়ে যাবার সময় হ্যালো বললাম; তারা উত্তর দিয়ে নিজের পথে চলে গেলো। ইতিমধ্যে, কিশোরী ঘর থেকে এসে বারান্দায় দাঁড়িয়েছে। সে আমাকে প্রশ্ন করলো:
-তুমি ওখানে কি করছ?
-আগাছা ট্রিম করছি! তুমি আমাকে হ্যালো ট্যালো না বলে, প্রশ্ন করছ কেন, পুলিশে চাকুরী কর?
-সরি, হ্যালো, কেমন আছো?
-ভালো, এবং তুমি?
-ভালো! আমি জানতে চাই, তুমি কাঁচি হাতে ওখানে কি করছো?
-আগাছা ট্রিম করছি, আমি আবারো বললাম।

-তোমার কি আগাছা ট্রিম করার কথা? তুমি তো ম্যানেজমেন্টের লোক নও!
-তুমি চাইলে, আমি তোমার চুলও ট্রিম করে দিতে পারবো!
-ঐ কাঁচি দিয়ে তুমি চুলও ট্রিম করতে পারবে? আমার সন্দেহ হচ্ছে তোমাকে, তুমি কিছু একটা গন্ডগোল করছো!
-অবশ্যই আমি তোমার চুল ট্রিম করতে পারবো; যদিও এর আগে আমি কখনো করিনি।
-আমার মনে হয়, তোমার এখান থেকে চলে যাওয়া দরকার; না হয়, আমি আমার মাকে ডাকবো!
-তোমার মা বাসায় নেই, উনি কাজে গেছেন!

মেয়ে থতমত খেয়ে গেলো! এবার দোতালার দিকে হাত তুলে বললো,
-উপরে আমার ভাই আছে, তাকে ডাকবো?
-তোমার ভাই বাইনোকুলার হাতে পাশের বাড়ীর মেয়ে দেখছে, ডাকলে তোমার উপর রাগান্বিত হবে!
-আমার ভাই কোন মেয়ে দেখছে না, সে পাশের গাছে পাখী দেখছে।
-সে কোন পাখী দেখছে, সেটা আমি জানি; ছেলেরা এক সময়ে মেয়েদের পাখী, হানি, ইত্যাদি নামে ডাকে; কিছুদিন পরে, অনেক ছেলে তোমাকেও পাখী নামে ডাকবে।

তাকে রাগান্বিত মনে হলো না; তবে, সে সুবিধা করতে পারছে না, একটু হতাশই হলো। এই সুযোগে আমি ২টা ফুল কেটে ফেলেছি; ঝোপের উচ্চতা আমার বুক অবধি হওয়ায় ওপাশ থেকে সে দেখতে পারার কথা নয়। আমি বললাম,
-মনে হয়, কে যেন তোমাদের দরজার বেল বাজায়েছে!
সে স্লাইডিং দরজা দিয়ে ভেতরে গেলো; আমি এই সুযোগে, ফুল ২টিকে গাড়ীর ভেতরে রাখলাম। সে ফিরে এসে বললো,
-তোমার কানে সমস্যা আছে?
-না, কানে নয়, চোখে সমস্যা আছে!

সে বারান্দার পাশে, ঘাসে নেমে ভাইকে ডাকলো:
-মিচ, তুমি একটু নীচে আস।
মিচের খবর নেই; সে আবার ডাকলো। এবার মিচ ব্যালকনিতে আসলো। আমি হাত নেড়ে দিলাম। কিশোরী তার ভাইকে বললো:
-এই জেন্টেলম্যান এখানে কি করছে কে জানে! লোকটাকে আমার সন্দেহ হচ্ছে।
-তুমি অকারণে দুনিয়ার সবাইকে সন্দেহ করার শুরু করেছ; অকারণে মানুষকে বিরক্ত করিও না।
ছেলেটি ঘরে চলে গেলো। আমি বললাম,
-তুমি মনে হয়, ১ ডলার মুল্যের ডিটেকটিভ সিরিজের বই পড়?
-আমি ডিটেকটিভ বই পড়ি; তবে, সেগুলো ডলার সিরিজের নয়, সেগুলো দামী লেখকের!
-বুঝেছি, তুমি পুরাতন বই'এর ক্রেতা!
তুমি কিছুই বুঝনি; তবে, তোমাকে আমার সন্দেহ হচ্ছে; তুমি কিছু একটা গন্ডগোল করছো!

সে হতাশ হয়ে ঘরে চলে গেলো; আমি গাড়ীতে বসে তার উপর নজর রাখছি। মনে হয়, সে গ্লাসে ঠান্ডা চা, বা কোন পানীয় খাচ্ছে, স্লাইডিং দরজার ওপাশ থেকে আমার দিকে খেয়াল রাখছে। প্রায় ৫০/৫৫ মিনিট পর আমার স্ত্রী এলো। এবার কিশোরী আবার বারান্দায় এলো। আমি পার্কিং থেকে বের হওয়ার সময়,গাড়ীর দরজার কাঁচ নামায়ে তাকে একটা সুর্যমুখী ফুল দেখায়ে হাত নেড়ে দিলাম।

সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে জুন, ২০২১ রাত ১:১২
৩৮টি মন্তব্য ৩৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মরহুম ওসমান হাদীর কারণে কবি নজরুলের জনপ্রিয়তা বেড়েছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৯


ইনকিলাব মঞ্চের জাবের সাহেব মাইকের সামনে দাড়িয়ে যখন বললেন , শহীদ ওসমান হাদীর শাহাদাতের উসিলায় নাকি এদেশের মানুষ আজ কবি নজরুলের মাজার চিনতে পারছে, তখন মনে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিক্ষা - ১

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২৬



সমাজ আমাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা করে। কখনো ধন-সম্পদ দিয়ে, আবার কখনোবা কপর্দকশূন্যতা দিয়েও! সমাজের এই পরীক্ষায় কেউ জিতেন, আবার কেউবা পুরোপুরি পর্যুদস্ত হয়ে বিদায় নেন এই ধরাধাম থেকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিষন্ন মেঘের ভেলায় ভেসে....

লিখেছেন ইন্দ্রনীলা, ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ১০:২৯



তোমাকে শুধু একটাবার বড় দেখতে ইচ্ছা করে...
এই ইচ্ছায় আমি হয়ে যাই একটা ঘাসফড়িং
কিংবা আসন্ন শীতের লাল ঝরাপাতা,
উড়ে যাই ভেসে যাই দূর থেকে দূরে...
অজানায়...

শরতের কাঁশফুলের পেঁজা তুলো হয়ে
ফুঁড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্রেইস

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০৩ রা মে, ২০২৬ রাত ২:০৯


এরা সাড়ে তিনফুট থেকে চারফুট দীর্ঘ,ছোট খাটো,পাতলা গড়ন বিশিষ্ট। চোখগুলো খুব বড়, নাক দৃশ্যমান নয়,ত্বক ছাই বর্ণের,অমসৃণ এবং কুঁচকানো। উন্নত প্রযুক্তি সম্পন্ন। পুরোই... ...বাকিটুকু পড়ুন

নান্দাইলের ইউনুস ও স্বপ্নভঙের বাংলাদেশ

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০


নব্বইয়ের দশকে বিটিভিতে প্রচারিত হুমায়ূন আহমেদের একটি জনপ্রিয় নাটকে একজন ভাড়াটে খুনীর চরিত্র ছিল। ভাড়াটে খুনীর নাম ইউনুস - নান্দাইলের ইউনুস। গ্রামের চেয়ারম্যান তার প্রতিদ্বন্দ্বী একজন ভালো মানুষ স্কুল শিক্ষককে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×