somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসমানি

৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১০:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাতে টিউশনি থেকে ফিরে বন্ধুদের সাথে আড্ডার ফাকে সময় পেলেই ছাদে অথবা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসি।একা একা বসে থাকি।একা থাকতে ভালো লাগে।মোবাইলটা হাতে নিয়ে ফেসবুকে বসে থাকা অথবা মোবাইলের নোট অপশনে নিজের কথাগুলো লিখে সেভ করা,সাথে কানে হেডফোন গুজিয়ে গান শোনা একটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। ইদানিং বলা চলে মোবাইলটা আমার নিত্ত সঙ্গি হয়ে গেছে।কোন কাজ না পেলে মোবাইলটা হাতে নিয়ে গেমস খেলে অথবা ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে কথা বলে দুই এক ঘন্টা অনায়াসে কাটিয়ে দেয়া যায়।
বসে ছিলাম পুকুর পাড়ে।চারপাশের অসংখ্য গাছপালার মাঝে ছোট্ট একটি সান বাধানো পুকুর আর তার পাশেই মসজিদ।
গ্রাম্য পরিবেশ,তাই সন্ধ্যার পর পরই মাগরিবের আযান শেষ হলেই চারপাশে এক স্তব্ধ পরিবেশ সৃষ্টি হয়।অর্থাৎ সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে ক্লান্ত পরিবেশ আর তার মাঝে বেড়ে ওঠা জীবগুলো এখন বিশ্রাম নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
হেডফোনের স্পিকার থেকে আস্তে আস্তে কানে ভেসে আসছিল একটি গান

"আসমানিরে দেখতে যদি তোমরা সবাই চাও,
রহিমুদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও।
ঘর তো নয় পাখির বাসা বেন্না পাতার ছানি,
একটুখানি বৃষ্টি হলে গড়িয়ে পড়ে পানি।
একটুখানি হাওয়া এলে ঘর নড়বড় করে,
তারই মাঝে আসমানিরা থাকে বছর ধরে।"

জসীম উদ্দিনের লেখা গানটির 'আসমানি'রা শহরের চার দেয়ালে বাস করে না,তারা গ্রাম্য পরিবেশে খড়কুটোর ছাউনি বানিয়ে বসবাস করে।জীবন সংগ্রামে নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য সারাদিন হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম করে সন্ধ্যার পরে ভালোবাসার মানুষটির মুখে দু'মুঠ অন্ন তুলে দেয়ার মাঝেই তাদের সমস্ত সুখ।ঝড়,বৃষ্টি, তুফানে তাদের ঘড় ভেঙে গেলেও আবার তারা ঘর বাধে,নিজের মত স্বপ্ন সাজায়, ভালোবাসার মানুষটিকে নিয়ে ছোট্ট জায়গায় খড়কুটো দিয়ে বাবুই পাখির মত বাসা বাধে।
দিন আসে দিন যায়,সূর্য ওঠে সূর্য ডোবে,সময়ের সাথে সাথে চারপাশের পরিবেশও পরিবর্তন হয় কিন্তু 'আসমানি'দের ভাগ্য কখনো পরিবর্তন হয় না।তারা যেন প্রকৃতির অভিশাপ হয়ে প্রতিটি দিন পাড় করে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×