প্রায় তিনবছর হতে চললো নিজ দেশ ছেড়ে বিদেেশ।হয়ত খুব বেশিদিন না কিন্তু আমার কাছে মনেহয় ত্রিশবছরেরও বেশি।মাঝে একবার মাত্র দেশে যাওয়া।এই তিনবছরে এমনএকটা দিন আসেনি যেদিন মনেপড়েনি তোমার কথা।মাঝে দুএকদিন ফোন না করলেই ভাবো মেয়ে বুঝি এবার ভুলেই গেল।তারপর ফোন পেয়েই কিশো্রিদের মতো অভিমান,কখনো যদি ফোনটা বন্ধ পাও তাহলেতো ভাইটাকে জ্বালিয়ে মারো।যেভাবেই পারে এক্ষুনি যেন তোমার সাথে কথা বলিয়ে দেয়।আমার ফোন বন্ধ রাখার সব দায় যেন আমার ভাইটার! আগে যখন বলতাম এত কিসের চিন্তা তোমার আমাদের নিয়ে?তুমি বলতে মা হও তখন বুঝবে। সতিই মা এখন বুঝি তোমার সব কথার মর্ম। তোমাদের ছেড়ে থাকার কষ্ট, সেটা যে এতটা ভয়াবহ কষ্ট তা হয়তো এত দূরে না আসলে কখনোই বুঝতেই পারতামনা। সেবার যখন বাবু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আমি জানলাম ১দিন পর।তুমি জানাতে চাওনি আমাকে।ভাই জানিয়েছে বলে কতোইনা রাগ ওর ওপর,যেন সব ঝামেলা একাই সামলাতে পারবে। হ্ম,সারাজীবন তো তাই করে এসেছো।সব ঝামেলা,সব কষ্ট একা সহ্য করেছো।কখনই কিচ্ছু বুঝতে দাওনি আমাদেরকে পাছে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়।তুমি,বাবু সবসময় সবকিছু আমাদের কােছ লুকােত।পৃথিবীর সব ঝামেলা,সব কষ্ট থেকে আগলে রাখার তোমাদের কি প্রানান্তকর চেষ্টা। বাবুর যখন হার্ট-এটাক হোল তখনো তোমার আমাদেরকেই সান্তনা দেয়ার কত চেষ্টা। ডাক্তার যখন বললো বাহাত্তুর ঘণ্টার আগে কিছুই বলা যাবেনা শুনে আমি ব্যাকুল হয়ে কাঁদছি সেই সময়টাও তুমি আমাকে জড়িয়ে ধরে বলছিলে কিচ্ছু হবেনা তোর বাবুর দেখিস।কোথায় তোমােক আমরা সান্তনা দেবো সেই তুমিই কিনা উলটো আমাদের সাহস যোগাচ্ছ। পরে শুনেছিলাম আমাদের দুই ভাইবোনের কাছ থেকে আড়াল হয়ে কতটা পাগলের মতো তুমি কেদেঁছিলে। জানো মা,এখনো আমি মন থেকে বিশ্বাস করি শুধু তোমার জন্যই বাবু এখনো ভালো আছে। তুমি কি জানো তোমাকে সবসময় আমি আমার ভাগ্যদেবী মানি।মনেআছে তোমার, প্রতিবার রেজাল্টের আগে আগে তোমার কান ঝালাপালা করে ফেলতাম বলতে বলতে বলোনা মা রেজাল্ট কি হবে আর তুমি মাঝেমাঝে বিরক্ত হয়ে বলতে আর কতবার বলবো বল? কিন্তু আমি নাছোড়বান্দা,তবুও এক কথাই বারবার জিজ্ঞেস করতাম কারন প্রতিবার তুমি যেটা বলতে সেটাই কিভাবে যেন মিলে যেতও।শুধু পরীক্ষার বেলায় কেন সবকিছুতেই তোমার মতামত নিয়েই আমার সবকাজ করা চাই। সেই আমি এখন কতো বদলে গিয়েছি! মাঝেমাঝে মনেহয় এখন আমি তোমার মতো হয়ে গিয়েছি, জীবনে কতো কঠিন সময় পার করেছি,হয়ত করছি এখনও কিন্তু কিছুই বলা হয়না তোমাকে। শুধু শুধু দুশ্চিন্তা করবে ভেবে। নিজে মা হয়েছি বুঝতে পারি কেমন লাগবে তোমার। এখন না হয় বাকিটা জীবন আমার মেয়ে হয়েই কাটাও।আশীর্বাদ করো যেন তোমার মতো সর্বংসহা হতে পারি। চলবে,
আলোচিত ব্লগ
"ইরান গাজা নয়" - অরুন্ধতী রয়, (মার্চ ৯, ২০২৬)

ছবিসূত্র
আমার কিছু বলার আছে - কারণ আমি আমার মায়ের মেয়ে, এবং বুক চিতিয়ে কাঁধ সোজা করে দাঁড়িয়ে এই কথাগুলো বলার গভীর প্রয়োজন এই মুহূর্তে আমি বোধ করছি। সমগ্র পৃথিবীকে... ...বাকিটুকু পড়ুন
হযরত আলী (রা.) প্রথম খলিফা হওয়ার যোগ্য ছিলেন না এবং তিনি মাওলার দায়িত্ব পালন করেননি

সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ২৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৬। বল হে সার্বভৈৗম শক্তির (রাজত্বের) মালিক আল্লাহ! তুমি যাকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) প্রদান কর এবং যার থেকে ইচ্ছা ক্ষমতা (রাজত্ব) কেড়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
আপনি কি চান আপনার মৃত্যুর পরে সামুর ব্লগাররা আপনাকে স্মরণ করুক?
আমাদের একজন ব্লগার মারা গিয়েছেন। কিন্তু, কেন যেন সামু'র প্রথম পৃষ্ঠায় শোকের কোন চিহ্ন দেখছি না! তাঁর সম্মানে কি অন্তৎঃ কিছু দিনের জন্যে সামুর ব্যানারে একটু পরিবর্তন আনা যেতো না?!... ...বাকিটুকু পড়ুন
মানসিক ভারসাম্য

আপনি ইরানের বিপক্ষে, আপনি নিরপরাধ নারী শিশু ও বৃদ্ধ অসুস্থ মানুষ হত্যার পক্ষে! - কারণ, আপনি অসুস্থ। মানসিক ভারসাম্যহীন। মানসিক ভারসাম্যহীনের সাথে হাসি মজা আলোচনা বিতর্ক কোনোটাই চলে না।... ...বাকিটুকু পড়ুন
সামুতে আমার দশ বছর
সামুতে আমার দশ বছর পূর্ণ। হঠাৎ গতকাল রাতে লক্ষ্য করে দেখলাম, দশ বছর পেরিয়ে দুই সপ্তাহ অতিক্রম করেছে।
আমি সাধারণত বছর শেষে বর্ষপূর্তি -মর্ষপূর্তি পোস্ট তেমন দেই না। এই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।