somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নাস্তিকতা ও বাক স্বাধীনতা।

২২ শে মার্চ, ২০১৩ রাত ৮:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নাস্তিকতা কি এই বিষয়ে আমি পূর্ণ গেয়ান পাই যখন আমি ফেসবুক চালানো শুরু করি।তখন শুধু এটুকই মনে হয়েছে ইসলাম সম্পর্কে আজেবাজে মন্তব্য ও নবী রাসুল নিয়ে গালাগালি যারা করতে পারে তারাই নাস্তিক।পরে আস্তে আস্তে খুজে পাই ফেসবুকের বিভিন্ন নাস্তিক সেলেব্রিটিদের।এর মধ্যে প্রথমেই চক্ষে পরে আসিফ মহিউদ্দিন কে।

আসিফ মহিউদ্দিন সম্পর্কে আমি প্রথম অবহিত হই ফেসবুকে।প্রচুর ফলওার ও সাবস্ক্রাইবার!!অবাক হয়ে প্রফাইলে ঢুকলাম,এবং যা বোঝার বুঝে নিলাম।তারপর ব্লগে তাকে সার্চ দিলাম।পেয়েও গেলাম।ওনার নাস্তিকতা নিয়ে লেখা গুলো কিছু অংশ পরে বাকি অংশ পরতে পারিনি কারন আমার বিবেক আমার প্রিয় ধর্মকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল করে লেখা পরার মতো শক্তি আমাকে দেয়নি।

ব্লগিং এর ক্ষেত্রে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসে তা হোল বাক স্বাধীনতা।বাক স্বাধীনতা কি?

বাক স্বাধীনতা মানে হোল নিজের মতামত প্রকাশের অধিকার।
ব্লগার ভিশন-২০৫০ এর ব্লগে গিয়ে এ সম্পর্কিত একটি চমৎকার লেখা পেলাম।লেখাটি নিম্নরুপঃ

বাক স্বাধীনতা (Freedom of speech or expression) হলো সর্বস্তরের মানুষের কথা বলা, বক্তৃতা-বিবৃতি বা মতামত অথবা ধারনা প্রকাশের একটি মৌলিক মানবিক অধিকার। সমার্থকভাবে এটি আবার যে কোনো মিডিয়ার মাধ্যমে কোনো তথ্য বা ধারনা জানা, দেয়া ও তাতে অংশগ্রহণ করার অধিকারও বুঝায়।

বাক স্বাধীনতার প্রাথমিক ধারনাটি মানবাধিকার সম্পর্কিত প্রাচীনতম নথিপত্রেও পাওয়া যায়। দীর্ঘ ইতিহাস না টেনে এনে সর্বশেষ অবস্থানটিই শুধু এখানে বলছি। ১৯৪৮ সালে আন্তর্জাতিকভাবে এ অধিকারটি মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণা (Universal Declaration of Human Rights)-এর আর্টিকেল-১৯-এর মাধ্যমে গৃহীত হয় - যা নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারের আন্তর্জাতিক চুক্তি (International Covenant on Civil and Political Rights-ICCPR) কর্তৃক স্বীকৃত।

অর্থাৎ নিজের মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অধিকারকেই বাক স্বাধীনতা বলা হয়।তার মানে কি এই আমি যা খুশি দেদারছে বলে যাবো?এ ক্ষেত্রে কোন বিধিনিষেধ ই থাকবেনা?
কখনোই তা নয়।

বাক স্বাধীনতা মানে কখনোই অন্নদের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত করা নয়।আপনি একজনের ধর্মীয় বিশ্বাসে যা খুশি তাই বলে যাচ্ছেন এমনকি গালি দিতেও দ্বিধাবোধ করছেন না।

আপনি নাস্তিক তাতে আমার কোন সমস্যা?
কখনোই নয়।

আপনি নাস্তিক তাই বলে আমি আপনার ব্লগিং সহ্য করতে পারছিনা?
অবশ্যই তা নয়।

আপনি নাস্তিক তাই বলে এই দেশে থাকার অধিকার কি আপনার নেই?
অবশ্যই আছে?

আপনি নাস্তিক আপনার কি মত প্রকাশের অধিকার নেই?
ক্যানও থাকবেনা?

কিন্তু তাই বলে আপনি যা খুশি তা করতে পারনে না!আপনি পারেন না লাখো কোটি মানুষের বিশ্বাস ও ধর্মীয় মর্যাদাকে এভাবে হেও করতে।সেই অধিকার আপনাকে বাক স্বাধীনতা দেয়নি।আপনি থাকুন আপনার মতো তাতে আমাদের কি?
কিন্তু সমস্যা টা ঠিক তখন দাড়ায় যখন আপনি মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে যাচ্ছেতাই বলে যাবেন।

কিছুদিন আগে খবরে দেখলাম আল্লাহ, রাসুল (সাঃ) ও ইসলাম সম্পর্কে কটুক্তি এবং বিষোদগার করার অভিযোগে নাটোরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসিফ মহিউদ্দিনসহ ৮ ব্লগার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ওই মামলায় আসামী করা হয়েছে বিটিআরসির চেয়ারম্যানকেও।

আজ দেখলাম আসিফ মহিউদ্দিনের ব্লগ সামু সরিয়ে নিয়েছে।নির্দিষ্ট কারন আমি জানিনা তবে ওখানে লেখা আছে ব্লগ ব্যবহারের শর্তাবলী লংঘন করার কারণে ।

কি সেই কারন হতে পারে?এখন পর্যন্ত যা মনে হয় হয়তো ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করার কারনেই হতে পারে।

আমি চাই আসিফ মহিউদ্দিন আবারও ব্লগে ফিরে আসুক তবে
ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করা থেকে তিনি যেন বিরত থাকেন।ব্লগার মানেই নাস্তিক এমন ধারনা আজ অনেকের মনে গেথে গেছে।কারন কি?যে ব্লগ মানেই বুঝেনা আজ তার মনে এই প্রশ্ন ক্যানও ঢুকবে?কারন এই আসিফ মহিউদ্দিনের মতো কিছু ব্লগারদের কারনে।আজ যদি তারা এরকম টি না করতেন তাহলে কারো মনে এই ধরনের প্রশ্ন কখনোই আস্তে পারতো না!

তিনি নাস্তিক না আস্তিক তার আগে পরিচয় তিনি অবশ্যই একজন মানুষ তবে এটাও মনে রাখবেন এই মানুষকেই মানুষ চিনবে তার কর্মের দ্বারা।তিনি আজ কি লিখেছেন সেটা যদি সংরক্ষিত থাকে তাহলে সেটা শুধু এই প্রজন্মই নয় দেখবে আগামি প্রজন্মও।

এই আপনি আজ নাস্তিক,সেই আপ্নাকেই আপনার মৃত্যুতে ধর্মীয় রীতিনীতিতে দাফন করা হবে।যদি তাই করা হয় তাহলে কিসের এতো আক্রোশ আপনাদের ধর্মের প্রতি?

আমি কোন বেক্তি বিশেষ কে উদ্দেশ্য করে এই লেখাটি লিখেনি।আমি ধর্মকে কে কটূক্তি কারি সবাইকে উদ্দেশ্য করেই লেখাটি লিখেছি।হয়তবা আসিফ মহিউদ্দিনের নাম টা লেখা হয়েছে কিন্তু তাকে দ্বারা আমি সব নাস্তিকদের বুঝিয়েছি।



৬টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭

সেই কথিত “তৌহিদী জনতা আজ কোথায়?
--------------------------------------------
আজ বিশ্ব রাজনীতির মানচিত্রে উত্তেজনা ইরান বিভিন্ন আরব রাষ্ট্র, ইসরায়েল,মার্কিন সংঘাত নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আমাদের দেশের সেই কথিত “তৌহিদী জনতা”, যারা সামান্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:২৫

Photo - আপলোড না হওয়ায় ইমেজ লিংক:

“দায়বদ্ধতা ও সময়োচিত সিদ্ধান্ত: ২০০৬ থেকে বর্তমানের শিক্ষা”

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সে সময় রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইস্টার ফ্রাইডে এবং যিসাসের শেষ যাত্রা: জেরুজালেমের স্মৃতিবিজড়িত পথে

লিখেছেন সৈয়দ নাসের, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৪




দিলু নাসের
আমার এই তিনটি ছবির সঙ্গে পৃথিবীর খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের বেদনাবিধুর ইস্টার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিটি ছবিই যেন এক একটি অধ্যায়, একটি যাত্রার, যা শুরু হয়েছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×