71 এর গল্প নয় / বাংলাদেশে অন্য এক যুদ্ধের গল্প
একটি গ্রাম পুড়ছে -
ঘরের বাসিন্দারা আগুনে পোড়ার হাত থেকে বাচার জন্য ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসতেই গুলির পর গুলি চালিয়ে একের পর এক সবাইকে নির্বিচারে হত্যা করে চলেছিল মিলিটারীরা -
একে একে সবাই শেষ হয়ে গেলে সব দেহ এক করে মাটিতে পুতে তার উপর না পোড়া বাড়ির টুকরো জমা করে আগুন ধরিয়ে ফিরে গেল মিলিটারীর দল।
পেছনে মাটির নীচে ঘুমিয়ে রইল সরকারী হিসেবে 44, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের হিসাবে পাড়ে পাচশত আর স্থানীয় হিসেবে আটশতর উপর মানুষ। গ্রাম : লোগাং, থানা : মারিষ্যা, জেলা : রাঙামাটি
উনিশশত একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের গল্প এটা নয়, এটি স্বাধীন বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীকৃত একটি ঘটনা -কাল: 13ই এপ্রিল 1992।
পার্বত্য চট্টগ্রামে পুরো নব্বই এর দশকে যা ঘটেছে 1971 এ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী আর্মি যা করেছে প্রকৃতিগতভাবে (পরিমানে নয়) প্রায় একই ধরনের।
প্রায় দুইশত বছর ধরে বৃটিশ বাহিনী ভারতবর্ষে যা করেছে, যা জাপানীরা কোরিয়াতে করেছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জর্মন বাহিনী যা করেছে , যা আমেরিকানরা ভিয়েতনামে করেছে, যা ইসরায়েলীরা লেবাননে করে চলেছে, যা আমেরিকানরা ইরাকে করছে-
যা এদেশীয় জোতদার মহাজন জমিদাররা অত্যাচারে জর্জরিত অনাহারি প্রতিবাদী সাধারন কৃষকের উপর করেছে, যা দাঙ্গায় মুসলমানরা হিন্দু, হিন্দুরা মুসলমানদের উপর করেছে শিখদের উপর করেছে।
এবং ইতিহাসে এরও আগে মঙ্গল, গ্রীক, রোমান এবং আরো অগণিত শক্তিমদমত্ত জাতি এবং গোষ্ঠীরা যা করেছিল।
পৃথিবীতে যেখানে এবং যখনই অস্ত্রবল প্রয়োগকে সমস্যা সমাধানের জন্য পন্থা হিসেবে গ্রহন করেছে তখনই এই অভিন্ন চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। দেশকালবোধহীন এ এক অভিন্ন চিত্রনাট্য।
(এই বিষয়ক আমার ভাবনাগুলো পুরো একটি লেখা হিসেবেই লিখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আপনাদের মন্তব্য এর পরবর্তি অংশ এর ব্যাপ্তিকে আরো জোরালো করবার ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে এই বিবেচনায় এটি খন্ডাংশ হিসেবে পোষ্ট করলাম)
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০০৬ বিকাল ৫:১০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






