somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধারণ স্টুডেন্ট!!!!

২৯ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অতঃপর নিজেদের দ্বায় এড়াতে নির্লজ্জের মত বলে বসি, “আমি একজন জেনারেল স্টুডেন্ট”, “আমি সাধারণ জনগন”। অতপর সব দোষ আপনার। এই দুটি বাক্যই যেন আমাদের রক্ষা কবজ। কিন্তু একবারো আমার বিবেক আমাকে প্রশ্ন করেনা, আমি কি ঠিক করছি???
তাহলে আপনি নিশ্চিত থাকুন আপনার বিবেক মরে গেছে, পচে গেছে ঐ বুড়িগঙ্গার জলে, উড়ে গেছে সাভারের ইটভাটার ধোয়ার সাথে কিংবা লজ্জায় আত্নহত্যা করেছে ধর্ষিতা কিশোরীটির সাথে। কিভাবে আপনার দায় এড়াবেন?
কিভাবে আপনার বিবেককে মুক্তি দিবেন? যেভাবে চির মুক্তি পেয়েছে রাস্তায় এক্সিডেন্ট করা ছেলেটির আকুতির কন্ঠ? আথচ আপনি তখন দাড়িয়ে দাড়িয়ে তামাশা দেখেছেন। একবার ভেবেও দেখেন নি ছেলেটিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেয়া আপনার দায়িত্ব।
কিভাবে দায় এড়াতেন আপনি?
আজ যদি ছেলেটির জায়গায় আপনি হতেন ?

আপনি জানেন গলির মোড়ে কিছু উঠতি যুবক মেয়েদের টীজ করে কিন্তু সেটা দেখেও না দেখার ভান করে চলে যান। আপনার হাতে যুক্তি একটিই, আমি সাধারণ জনগন আমি কি করব?
সেদিন ঠিক ই কান্না করবেন কিংবা পুলিশের ডায়েরিতে নাম উঠবেন সেদিন আপনার ছোট বোনটি ওদের দ্বারা ধর্ষিত হবে। সেদিন দায় এড়াবেন কেমন করে?

আমরা খুব সহজেই দায় এড়িয়ে যাই। কিন্তু এই বাধা সমাজে দায় এড়িয়ে আপনি কয়দিন থাকবেন? একদিন না একদিন ঐ একি দায়ে আপনাকেও পড়তে হবে। প্রতিবাদ করতে শিখুন। প্রতিবাদ করতে গেলে বাধা আসবেই। আর সেটা টপকে যাওয়াটা বড় কথা নয় বড় কথা হল আপনি প্রতিবাদ করেছেন। আপনাকে দেখে আরেক জন প্রতিবাদ করবে, তাকে দেখে আরেকজন...... এভাবেই বাড়বে।
নিজে সুখি না হতে পারুন, নিজে প্রতিবাদের ফলাফল দেখে যেতে না পারুন, আপনার নতুন প্রজন্মের জন্য তো পৃথিবীটাকে সুন্দর করে যাবেন, নাকি?


আপনার ক্যাম্পাসে র‍্যাগ হচ্ছে। শারীরিক এবং মানসিক ভাবে চরম ভাবে হেনেস্থা করা হচ্ছে নতুন ছেলেটিকে। আপনি দেখেও না দেখার ভান করে চলে গেলেন। আপনাকে জবাবদিহি করতে বললে বলবেন, আমি কি করব, আমি তো সাধারণ স্ট্যডেন্ট... আরে ব্বা, সবাই তো সাধারণ স্টুডেন্ট ই কেউ কি অসাধারন?? হ্যা আপনাদের চোখে তারা অনন্য- অসাধারন। কারন তাদেরকে আপনারাই সে সুযোগটা করে দিয়েছেন। আপনার মত সাধারণ স্টুডেন্টরা আজ ফ্যাকাল্টি বিল্ডিং আর হলের বৈধ সিটটিকেই চিনেন আর কিছু চিনেন না । আপনারা দেখে থেকেও দেশের কোন কাজেই আসেন না । স্কলারশিপ নিয়ে চলেযান আরাম আয়েশের দেশে। চলে যান সুখ খোজতে । আর আমরা??? আমরা এই দেশেই পড়ে থাকি। এদেশে এই সব অসাধারন ছাত্রদের মাঝেই বেঁচে থাকি। প্রতিবাদ করতে গিয়ে গুম হবে যাই, হারিয়ে যাই, মারা যাই, রিমান্ডে যাই আরো কত কি.........

তারপরও আপনাদের ফেইসবুক প্রোফাইলে লেখা থাকে “I hate Bangladeshi Politics”

তোর মারে বাপ হারামজাদা খাংকির পোলা।
দেশের মানুষের রক্ত ভেজা টাকায় পোড়াশোনা করিস তোরা, মনে রাখিস। তোর প্রতি তোর ফ্যামিলির যেমন দাবি আছে দেশের মানুষেরও তোড় উপর দাবি আছে । দেশ তোকে মানুষের মত মানুষ করছে যাতে তুই দেশের সেবা করতে পারিস, দেশের উন্নয়নে অংশ রাখতে পারিস। আর তুই কিনা বলে বাড়াচ্ছিস বাংলাদেশের রাজনীতি কে তুই ঘ্রিনা করিস হারামজাদা???
তোর মত সাধারণ স্টুডেণ্ট এর এই দেশে থাকার কোন অধিকার নেই। কারন বাংলাদেশের রাজনিতিকে ঘৃণা করা মানে এদেশের স্বাধীনতা কে ঘৃণা করা । ত্রিশ লক্ষ শহীদকে ঘৃণা করা। যে গৌরবউজ্জ্বল রাজনীতির কারনে আজ তুই এই দেশে জন্মাতে পেরেছিস সেই রাজনিতিকে তুই ঘৃণা করিস??
হাউ শেইম অন ইউ!!!!!!!!!!

তোদের জন্য শুধু মাত্র তোদের জন্য আজ রাজনীতির এই অবস্থা। দেশ সৃষ্টির সেই সব গৌরব উজ্জ্বল দিন গুলোতে তোর চেয়ে শত গুনে মেধাবী স্টুডেন্ট গুলোই আন্দোলন করেছিল। তারাই পড়াশোনা করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করত আবার অন্যায়ের প্রতিবাদ করে আন্দোলনে ঝাপিয়ে পড়ত।
ওরাই ছিল প্রকৃত জেনারেল স্টুডেন্ট।
আর তোরা হলি হারামজাদা............
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×