সদ্যপ্রয়াত কথাসাহিত্যিক আমাদের সবার প্রিয় হুমায়ূন আহমেদ স্যারের কোন ফেইসবুক আইডি কিংবা কোন পেজ ছিলো কিনা আমি জানিনা। সেখানে
“এবারের বই মেলায় আমার লেখা অমুক বইটি বের হচ্ছে। বইটি এত নাম্বার স্টলে পাওয়া যাবে। কিংবা রকমারি থেকে কিনতে আমার সাথে অমুক নাম্বারে যোগাযোগ করুন”
কোটেশনের টাইপের কোন পোস্ট কোনদিন তিনি করেছিলেন কিনা সেটাও আমি জানিনা।
কিংবা আমার “হিন্দি চুলের”- বই এর মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের সেলফি... এই টাইপের কোন ছবি তিনি কোনোদিন আপলোড করেছেন কিনা আমি জানিনা।
ইমদাদুল হক মিলন... সুমন্ত আসলাম... আনিসুল হক... আহসান হাবীব কিংবা মোস্তফা কামাল... এদের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এধরনের বই বিক্রির গোপন পোস্ট তারা করেন কিনা আমি জানিনা।
নজরুল, রবীন্দ্রনাথ, শ্রীকান্ত, বিভূতিভূষণ, জীবনানন্দ বেঁচে থাকলে সকালে একবার, দুপুরে একবার, বিকেলে একবার, রাতে একবার “আজ উমুক স্টলের সামনে থাকবো” “কাল উমুক কে অটুগ্রাফ দিয়েছি” “পরশু আপনার কষ্ট করে আমার বই কিনেছেন” “তরশু অমুক বইয়ের দ্বিতীয় সংস্করণ আসছে” “অমুকের সাথে সেলফি” “তমুকের সাথে গারলফি”... এই টাইপের পোস্ট দিতেন কিনা আমি জানিনা...
আমার ফ্রেন্ড লিস্টে কিছু নামিদামী(!) লেখক আছেন। তাদের হাজার হাজার ফলোয়ার। হয়ত আপনিও ফলো করেন। যখন ই ফেবুতে আসি দেখা যায় টাইমলাইনের উপর থেকে নিচ -সম্পূর্ণটা জুড়ে তাদের বইয়ের পোস্ট। পোস্ট গুলো সরাসরি বিজ্ঞাপন শিরোনাম দিয়ে লিখা হলেও একটা কথা ছিলো। সরাসরি না, পরোক্ষ ভাবে... আপনি বুঝতেও পারবেন না আপনাকে বাংলা চ্যানেলের মত নাটকের ভিতর বিজ্ঞাপন না বিজ্ঞাপনের ভিতর নাটক দেখানু হচ্ছে।
যেমন,
@ আজকের মত 'এই সমুদ্রের মেঘেরা দোকা' উপন্যাসটি অন্যপ্রকাশে শেষ হয়ে গিয়েছে।
@ আগামীকাল আবার আসবে।
@ কিংবা, শ্রদ্ধেয় হিন্দি চুলের সাথে মোড়ক উন্মোচনের সময় সেলফির বাহুডোরে...
@ স্নেহের হিন্দি চুলের বইয়ে অটোগ্রাফ দেয়ার মুহূর্তে
@ হিন্দি চুলের বইয়ের জান্টুস কভার পিক...
@ হিন্দি চুলের বইয়ের জন্য ঢাকার বাইরে থেকে যারা এসেছেন তাদের ধইন্নাপাতা...
অনেকেই বলতে পারেন, তার পোস্টে তিনি যা ইচ্ছে তা দিবেন তাতে আপনার কি।
হা ভাই, আমার আছে, আমার যায়, আমার জ্বলে... আপনার কোন সমস্যা??? আজ থেকে ফেইসবুক চালাই না অনেক দিন থেকে চালাই। ২০১৩ সালে এরকম পরোক্ষ বিজ্ঞাপনের ভিতর নাটক দেখে আমি নিজেও কয়েকটা এসব হিন্দি চুলের লেখকের বই কিনেছিলাম। তারপর যেটা খেয়েছি সেটা আছোলাই বলতে পারেন। কত টাকার বই কিনেছি সেটা না হয় নাই বললাম। বাঁশটা একটু বড়ই মনে হয়েছে আমার কাছে। তাদের লেখা পড়ে আর ঠিক থাকতে পারিনি। তিন তলা থেকে ঢেল দিয়ে রাস্তায় ফেলে দেয়ার সময় একবারো ভাবতে হয়নি। কারো মাথার উপর পড়ল নাকি নাকের উপর পড়ল সেটা দেখারো মেজাজ ছিলো না।
তাদের লেখাগুলো এতই উন্নত ধরনের যে আমার কাছে মনে হয়, ফেসবুকে যারা “Add Me” “Add Me” করে তারাও অনেক ভাল সাহিত্য রচনা করে...
ভাই শুনেন, আপনার টাকা বেশি হয়ে থাকলে গরীবকে দেয়া লাগবে না ,আপনি ড্রেনে ফেলে দেন... তবুও এসব হিন্দি চুলের লেখকের বই কিনে আমার মত মেজাজের বারোটা বাজাবেন না।
ভাল থাকুন।
*** হিন্দি চুলকে বাংলায় "বাল" বলে

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




