somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হে আগামী কালের বাবা

০১ লা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইন্টারনেট ঘাটলে দেখবেন How To নিয়ে অনেক ভিডিও আছে। How to train your dog, How to train your cat, How to train your horse, How to train your colleague etc. আর How to train your Dragon মুভির কথা তো বলাই লাগেনা। মনে হয় সবাই দেখছেন। এমন কি How to train your grirlfriend to intercourse এই টাইপের শর্ট ফিল্ম ও আছে। কিন্তু আমার মনে হয় পৃথিবীর সমচেয়ে প্রয়োজনীয় How to ভিডিও টি এখনও করা হয়নি। সেটি হবে, How to train your Children…….

বেবি... ওলে ওলে বেবিটা... বেবিটা কি কিউট দেখছো...!!!
হ্যা দুনিয়ার সব বেবিই কিউট; সেটা মানুষেরই হোক আর পশুরই হোক। কিন্তু সেই কিউট বেবিটাই একসময় গারবেজ হয়ে যায় শুধু মাত্র এই How to train এর অভাবে। শিশুটাকে সঠিক শিক্ষা না দিতে পারলে সে মানুষ হয়ে জন্ম নিয়েও মানুষ হতে পারবেনা। পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিন কাজটা হল সন্তানকে মানুষ করা। বাবা-মায়ের একটু অবহেলা, একটু উদাসীনতা, বেশি শাসন, কখনও কম শাসন, অতিরিক্ত প্রশ্রয় দান ইত্যাদি নানা কারনে কিউট শিশুটি কখনও কখনও ঐশীর মত বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে। কিংবা কখনও হয়ে যেতে পারে এরশাদ শিকদার এর মত সিরিয়াল কিলার, কখনও কালা মামুন, কালা জাহাঙ্গীর এর মত ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী, কখনও নাইলা নাইম কিংবা ডিজে সানিকার মত পর্ণস্টার। কিংবা কখনও হয়ে যেতে পারে পরিমল এর মত ধর্ষক, কিংবা সুমির মত দেহ ব্যাবসায়ী। হয়ে যেতে পারে আবুল হোসেনের মত দুর্নীতি পরায়ন কিংবা মখার মত নির্বোধ মন্ত্রী। কিংবা হয়ে যেতে পারে বাংলা ভাইয়ের মত জঙ্গি কিংবা আহমাদ শরীফ, হুমায়ন আজাদ, তসলিমা নাসরিন, অভিজিৎ, আসিফ মহিউদ্দিন, রাজীব, সুব্রত শুভ, অমি পিয়াল এদের মত আল্লাহদ্রোহী ইসলামবিদ্ধেসী...

যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনি পড়াশোনা করছেন কেন? বেশির ভাগ মানুষ একটি উত্তর ই দিবে, মানুষের মত মানুষ হওয়ার জন্য। মূলত স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটিতে পড়ে কেউ মানুষের মত মানুষ হতে পারেনা। এগুলো থেকে মানুষ জীবিকা নির্বাহের জন্য সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে। মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তোলার মত প্রতিষ্ঠান একটিই আছে দুনিয়াতে, সেটি পরিবার। একমাত্র পরিবার ই পারে একটি রক্তমাংসের শিশুকে মেধা-মনন-নৈতিকতায় সমৃদ্ধ করে মানুষের মত মানুষ রুপে গড়ে তুলতে। পরিবারে বাবা মা থেকে শিশুটি যে ধরনের আচরন শিক্ষা পায় সেটাই পরবর্তীতে তার চরিত্রে প্রভাব ফেলে।
পরিবার থেকেই শিশুরা ধর্মীয় এবং নৈতিক শিক্ষা লাভ করে। কোন বাবা মায়ের উদাসীনতা কিংবা অতি অধুনিকতার কারনে যদি কোন শিশু ধর্মীয় শিক্ষা না পায় পরবর্তীতে সেই সব শিশুই উগ্র, উশ্রিংক্ষল, বখাটে তে পরিনত হয়।

বাংলাদেশের মফঃস্বল এবং গ্রামের প্রতিটি মসজিদে আগে মক্তব নামক একটি ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাবস্থা ছিলো। শহরেরও অনেক মসজিদে মক্তব ছিলো। এখনও গ্রামে মক্তব আছে। মফঃস্বল থেকে উঠে যাওয়ার পথে। আর শহরের কথা নাই বা বললাম। এখনকার শহুরে মা বাবারা তাদের ছেলে মেয়েদের সকালে উঠিয়েই পাঠায় কোচিং করাতে। স্কুল থেকে ফিরে রেস্ট নেওয়ার আগেই চলে আসে গানের টিচার রেওয়াজ করাতে। একটু পর নাচের টিচার। কিন্তু কুরআন পড়াতে কোন টিচার রাখা হয়না... এমনকি এসব বাবা-মাও তাদের সন্তানদের কখনই কুরআন-হাদীস কিংবা ধর্মীয় শিক্ষা দেন না। কিন্তু ঠিক ই তাদের থেকে ভাল আচার ব্যাবহার আশা করেন... যেটা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটা ব্যাপার।
এসব শিশুরাই একসময় বড় হয় মরুভূমির ক্যাকটাসের মত শরীর ভরা বিষ নিয়ে। আর সেই ধর্মীয় জ্ঞেন শূন্য সায়ানাইড বিষটা তারা প্রয়োগ করে তাদের মা বাবার উপরেই। বাবা মায়ের অনিচ্ছায় বিয়ে করে বউ এর কথায় বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়...আরো অনেক কিছুই করে কয়টা বলবো...
পরিবারের পাশাপাশি শিশুরা মক্তব থেকে কুরআন শিক্ষা নিতো, হাদীস জানতো, মাসলা মাসায়েল শিখতো। আমরাও মক্তব থেকেই কুরআন শিখেছি। কিন্তু বর্তমানে মক্তব ব্যাবস্থাটি উঠে যাচ্ছে। ফলে গ্রাম এবং মফঃস্বলের শিশুরা জীবনের শুরু থেকেই ধর্মীয় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। শহরের শিশুদেরো একি অবস্থা। ফলাফলে আমরা আমাদের নতুন প্রজন্মটিকে সম্পূর্ণ ধর্মীয় জ্ঞেন শূন্য অবস্থায় পাচ্ছি। যেটা মুসলিম জাতির জন্য হুমকি স্বরূপ। ধর্মীয় শিক্ষার চর্চা এভাবে যদি আস্তে আস্তে থেমে যেতে থাকে এক সময় দেখা যাবে সম্পূর্ণ প্রজন্মটিই আল্লাহদ্রোহী ও ইসলাম বিদ্বেষী হয়ে যবে... পরবর্তীতে তাদের কে যতই ধর্মের ভাল ভাল ভাল কথা বলা হোকনা কেন কানেই তুলবে না। কারন, কাচায় না নোয়ালে বাঁশ, পাকলে করে ঠাস ঠাস...

২০ লক্ষের উপরে শুক্রকীট থাকলে আর ওভারিতে নিয়মিত ডিম্বানু উৎপন্ন হলে সকল নারী-পুরষই কিউট বেবীর জন্ম দিতে পারে... কিন্তু কয়জন পারে সেই কিউট বেবিটিকে কিউট মানুষ করতে...???
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×