
ভীষণ শীতের গভীর রাতে, গ্রামের রাস্তায় এক পুরুষ গলা ফাটিয়ে গান করতে করতে দ্রুত হেটে গিয়েছিল। সকালে বাবাকে জিজ্ঞেস করে, লোকটার গান করার হেতু জেনেছিলাম। বলেছিলেন” ওভাবে গান করে একাকিত্ব দূর করে, ভয় তাড়ায়।“
আমিও ওরকম এক গভীর রাতে ভেতরের একাকিত্ব গলায় ঢেলে ভাসিয়ে দিতে চেয়েছিলাম গান করে। হায়রে! তাই কি আর করা যায়? ভদ্র নগরে বাস করি যে!
সে রাতে আর গান করা হয়নি আমার। পরে হিসাব মিলাতে বসেছিলাম।
পাওনাদার পেলাম শুধু আজন্ম পরিচিত মা বাবা নামের দুই পার্টনারকে! স্নেহের মাণিক্যে বরাবরই ধনী করার চেষ্টা করেছে আমায়!
মানিয়ে নেওয়ার ছক আঁকতে গিয়ে কখন যে মেনে নেওয়ার ছক এঁকেছি! বুঝতেই পারিনি!! সে ছকে শুধুই দেনাদারের আনাগোনা। নিজের কষ্টের দামে অন্যকে সুখ দিয়েছি। অথচ একি! কেউ মূল্য পরিশোধ করেনি! অভিমানী আমি, তাগাদাও দেইনি কখনো আর।
হঠাৎ দুচোখ থেকে খরস্রোতা কর্ণফুলী নামে! দিশেহারা হয়ে কলম কামড়ে ভাবতে থাকি, এত খারাপ ছাত্রীতো আমি ছিলাম না, তবে হিসাবে কেন এত গড়মিল, ভারসাম্যহীনতা! আমি কি সত্যিই ভুল করেছি? নাকি “দেনাদার সম্পদ হিসাবে গণ্য” সেই সূত্রে সম্পদশালী হয়েছি? কিংকর্তব্যবিমূঢ় আমি মাথা চুলকে ছাদের দিকে তাকায়।
মনে পড়ে যায় সেই মহা হিসাবরক্ষকের কথা। সকলের দেনাপাওনার হিসাব যিনি ব্যালেন্স করবেন বলে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, তার কথা।
এলার্ম ঘড়িটা ক্রিং ক্রিং সুরে বেজে ওঠে ভোর ৫টা বেজেছে জানান দিতে। মুনাজাতে, ব্যালেন্সের সুপারিশ পাঠিয়ে দেয় আমি, সেই হিসাবরক্ষকের কাছে।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই আগস্ট, ২০১৬ রাত ৮:৪৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



