
কঠোর পরিশ্রমে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী কেউ নেই, আপনি রুটিন লাইফ লিড করেন, চরম অধ্যাবসায়ী। অন্যের দোষ খুঁজেন না, পরোপকার এবং সমাজকল্যাণে আপনি একজন দৃষ্টান্ত। আপনি বিনয়ের একজন ফার্স্ট ক্লাস অবতার।ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব বৈশিষ্ট্যগুলো নিজের মাঝে ধারণ করাকেই ত বলে নিজেকে বদলানো। যার মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দেয়া যায়। কিন্তু আসলে কি সব বদলানো যায়? যায় না। এসবের দ্বারা সেই সকল পরিস্থিতিই বদলানো যায় যা বদলযোগ্য। বদলের অযোগ্য বিষয়গুলো মাথায় রাখতে পারলে, মনে মেনে নিতে পারলে আপনার পথচলা সহজ। নতুবা দেওয়ালে মাথা ঠুকে, মর্মদহনে ছারখার হয়ে পার করতে হবে সারা জীবন।
আসুন উদাহরণস্বরূপ কিছু অপরিবর্তনীয় বাস্তবতা জেনে নেই। পৃথিবী বদলাতে বা নিজের অবস্থান পরিবর্তনে আপনার উঠে পড়ে লাগা কতখানি উচিৎ, আপনিই সিদ্ধান্ত নিন।
যেমন ধরুন,
আপনি অমরত্ব লাভ করতে পারবেন নাঃ আপনি কি ভবিষ্যৎ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ভাবেন? তাকে কি এতখানি প্রাধান্য দিচ্ছেন যার জন্য আপনার বর্তমান পুরোপুরিই নষ্ট হচ্ছে। সিদ্ধি লাভের আশায় আজ এতখানি শ্রম দিচ্ছেন কি? যার জন্য কাল তা ভোগের অবস্থায়ই থাকবেন না? যেহেতু আপনি আজীবন বেঁচে থাকবেন না, তাই ভবিষ্যৎ এর জন্য অস্বাভাবিক চাপ নিয়ে লাভ কি বলেন?
সবাইকে সন্তুষ্ট করতে পারবেন নাঃ আমার এই পোষ্টটার কথায় ভাবুন। এটি কারো কাছে হয়ত ভাল লাগবে, আবার কারো কাছে ফালতু। এটাই স্বাভাবিক। এবং বাস্তবতা। একই সাথে আশপাশের সকলকে আপনি সন্তুষ্ট করতে পারবেন না। মানুষে মানুষে ব্যক্তিত্ব, মতাদর্শ, জ্ঞানে ভিন্নতা রয়েছে। তাই একটা কাজ দিয়ে সকলকে সমানভাবে সুখী করা অসম্ভব। এখন আপনিই ভাবুন। কেউ অসন্তুষ্ট হলে সহজভাবে নেবেন? নাকি সন্তুষ্ট করতে উঠে পড়ে লাগবেন?
অন্যের ভাবনাকে বদলাতে পারবেন নাঃ আপনার অনেক ক্ষমতা। লোকে আপনাকে কুর্নিশ করে তারপর কথা বলে। কিন্তু তার ভিতরকার ঘৃণা, অথবা সম্মান নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আপনার নেই। অন্যের সম্মান, ভালবাসা, পছন্দ, ভাবনাকে কখনওই ইচ্ছানুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। সুতরাং অন্যের সম্মান পেতে বা তার ভাবনাকে বদলাতে আদা জল খেয়ে লাগবেন? নাকি নিজের বিবেকের নির্দেশ মত কাজ করে নির্ভার থাকবেন?
অতীতকে ফিরিয়ে আনতে পারবেন নাঃ আমাদের বসবাস হয় অতীতে নয়তো ভবিষ্যৎ এ। খুব কম লোক ই আমারা বর্তমানে বাস করি। আমি অমুক পরীক্ষায় ফেল করেছিলাম, তমুক ভুল করেছিলাম বলেই আজ আমার এ দশা, ইত্যাদি অতীতের ভুলগুলো টানাহেচড়া করে ভুলকেই মনে মগজে লালন করি। কিন্তু আপনি কি পারবেন সেই সময়কে ফিরিয়ে এনে ধুয়ে মুছে শুধরে দিতে? পারবেন না। তবে কেন আজকের দিনটাকে কাজে না লাগিয়ে, গতকাল কে আঁকড়ে ধরা?
খাটুন। বুক ভরে শ্বাস নিন। পৃথিবীর বুকে বাঁচুন। পদচিহ্ন রেখে যাওয়ার চেষ্টা করুন। আর কিছু বাস্তবতে মেনে নিন। এই ত জীবন। ৮০ অথবা ১০০ বছরের একটা জীবন।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৭ দুপুর ১২:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




