somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

চিনিময় মহাকাশ

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আবার খবরের শিরোনামে সুগার!

এখন যেমন আমাদের ঘরে ঘরে ‘সুগার রোগী’, তেমনই মহাকাশের এখানে ওখানে হদিশ মিলতে শুরু করেছে তাল তাল চিনির। যেন চিনির পাহাড়!

মধুমেহ রোগ যতই আশঙ্কার হোক না কেন, মহাকাশ বড়ই মধুময়!

ভাগ্যিস, মধুময় মহাকাশ!

একেবারে হালে মহাকাশে তাল তাল চিনির হদিশ মেলায় এই ব্রহ্মাণ্ডের অন্যত্রও যে প্রাণ রয়েছে অনিবার্য ভাবে, সেই বিশ্বাসই জোরালো হয়ে উঠল। কারণ, চিনিই প্রাণের মূল উপাদান রাইবো-নিউক্লিক অ্যাসিড বা RNA তৈরির জন্য সিঁড়ির প্রথম ধাপ। চিনি যখন আছে আর প্রাথমিক তথ্য যা জানাচ্ছে, সেই নিরিখে যখন বলাই যায়, ‘হাই সুগারে’ ভুগছে মহাকাশ, তখন এই ব্রহ্মাণ্ডের অন্য কোথাও, অন্য কোনওখানে অনিবার্য ভাবেই জন্ম নিয়েছে প্রাণের অন্যতম মূল উপাদান RNA অণু। তাই প্রাণ নিশ্চয়ই রয়েছে মহাকাশের অন্য কোথাও। অন্য কোনওখানেও। এই মহাবিশ্বে আমাদের আরও আরও ‘প্রাণের বন্ধু’ রয়েছে অন্যত্রও। এমটাই বিশ্বাস জ্যোতির্রসায়নবিদদের।

সেই বিশ্বাসটাই আরও জোরালো হয়েছে এ ব্যাপারে হালে ‘অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটারস’-এ প্রচুর তথ্যপ্রমাণ সহ একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হওয়ায়। কোপেনহাগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলস্ বোর ইনস্টিটিউটের জ্যোতির্রসায়নবিদ জার্স কে জোয়েরগেনসেন, ডেনমার্কের আরহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়নবিদ সিসিলি ফ্যাব্রে ও চার সহ-গবেষকের ওই প্রবন্ধে মহাকাশের কোথায় কোথায়, কী পরিমাণে প্রাণের মূল উপাদানের হদিশ মিলেছে, সে সব তথ্যপ্রমাণ সহ তুলে ধরা হয়েছে। ‘‘Detection Of Simplest Sugar. Glycoaldehyde In A Solar Type Proto Star With ALMA’’ শীর্ষক ওই প্রবন্ধে বলা হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মহাকাশের দু’টি জায়গায় প্রাণের এই অন্যতম মূল উপাদানের হদিশ মিলেছে।


মহাকাশে হদিশ মেলা গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড অণু।

কলকাতার ‘ইন্ডিয়ান সেন্টার ফর স্পেস ফিজিক্সে’র (আইসিএসপি) অ্যাস্ট্রোকেমিস্ট্রি ও অ্যাস্ট্রোবায়োলজি বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর অঙ্কন দাসের ব্যখ্যায়, ‘‘মহাকাশে সদ্য হদিশ মেলা এই চিনির সঙ্গে দোকান থেকে কেনা চিনির কিছু গুণগত ফারাক রয়েছে। আগে জেনে নেওয়া যাক, সেই ফারাকটা কী ও কোথায়? মহাকাশে পাওয়া গিয়েছে গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড। যার একটি অণুতে রয়েছে দু’টি কার্বন, চারটি হাইড্রোজেন ও দু’টি অক্সিজেন পরমাণু।

আরও পড়ুন- বৃহস্পতি, শনির ‘দাদাগিরি’ই বাঁচিয়ে চলেছে পৃথিবীকে

হাব্‌লের চেয়ে ১০০ গুণ বড় টেলিস্কোপ মহাকাশে পাঠাচ্ছে নাসা

আর দোকান থেকে আমরা যে চিনি কিনি, সেটা হল সুক্রোজ। যার একটি অণুতে থাকে ১২টি কার্বন, ২২টি হাইড্রোজেন ও ১১টি অক্সিজেন পরমাণু। তার মানেটা হল, দোকান থেকে আমরা যে চিনি কিনি, তা বানানোর একেবারে প্রথম ধাপটাই হল গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড। এটাকে বলা হয়, ‘Simplest Sugar’। এই গ্লাইকোঅ্যালডিহাইডই ধাপে ধাপে বিক্রিয়া করে জন্ম দেয় ‘রাইবোজ’-এর। যার একটি অণুতে থাকে পাঁচটি কার্বন, দশটি হাইড্রোজেন আর পাঁচটি অক্সিজেন পরমাণু। এটাকে পেন্টোজ বা ‘Simple Sugar’ বলা হয়। এই রাইবোজই হল RNA গড়ে ওঠার অন্যতম মূল উপাদান। এই DNA আর RNA অণু দিয়েই একটা কোষ গড়ে ওঠে।’’

মহাকাশে প্রাণের অন্যতম মূল উপাদান গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড পাওয়া গিয়েছে কোথায়?

অঙ্কনবাবু জানাচ্ছেন, ‘‘ওই হদিশ মিলেছে মোট তিনটি পর্যায়ে। প্রথম আবিষ্কারটা হয় ২০০০ সালে। আমাদের থেকে ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সির একেবারে কেন্দ্রস্থলে স্যাজিটারিয়াস নক্ষত্রপুঞ্জে.‘Sgr B2(N)’ মেলে গ্লাইকোঅ্যালডিহাইডের হদিশ।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ২০০৯ সালে। মিল্কি ওয়ে গ্যালাক্সিতেই। আমাদের থেকে ২৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে খুব ভারী নক্ষত্রদের জন্মস্থল ‘G31.41+0.31’-এ। আর একেবারেই হালে, ২০১৩ সালে গ্লাইকোঅ্যালডিহাইডের হদিশ মিলেছে সূর্যেরই মতো আরেকটি নক্ষত্রে। যা আদতে দু’টি নক্ষত্রের একটি ‘সোরমণ্ডল’ বা বাইনারি সিস্টেম।যাদের নাম- ‘IRAS-16293-2422’। চিলির ‘আটাকামা লার্জ মিলিমিটার অ্যারে (ALMA) টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশে ওই জৈব অণুর অস্তিত্বের প্রমাণ মিলেছে।’’

গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড আবিষ্কারের এই খবর কেন এতটা সাড়া ফেলেছে বিজ্ঞানী মহলে?

অঙ্কনবাবু জানাচ্ছেন, ‘‘এই নক্ষত্রটি রয়েছে আমাদের অনেক বেশি কাছে। আর এটাও সূর্যের মতোই একটি নক্ষত্র। এটাই প্রমাণ করে, আমাদের সৌরমণ্ডলের জন্মের সময় যে ভাবে গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড তৈরি হয়েছিল আর তা থেকে ধাপে ধাপে গড়ে উঠেছিল প্রাণের অন্যতম দুই মূল উপাদান- DNA আর RNA, সে ভাবেই সূর্যের মতো ওই নক্ষত্রেও গ্লাইকোঅ্যালডিহাইড জন্মাচ্ছে।এটাই সেখানে প্রাণ সৃষ্টির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।’’
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:০৮
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে ট্রাম্প চাচা ট্রমার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৫


সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ভোট দিয়ে এসে অনেকক্ষণ ধরেই অপক্ষো করছিলাম কখন সন্ধ্যা হবে সে প্রত্যাশায়। সন্ধ্যার পর মোটামুটি বসে গিয়েছিলাম ফলাফলের উপর টেলিভিশনে বিশেষ আলোচনা দেখার জন্য।... ...বাকিটুকু পড়ুন

"বন্ধ দুয়ার"

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪


"বন্ধ দুয়ার"

ক্লান্ত এ সপ্তাহে শুনি, আজ কারো কাজ নাই,
বন্ধ কারখানায় তালা, কোথা যাব তবে ভাই?
ছুটা বুয়া হয়ে খাটা, সে সুযোগও মেলা ভার,
তরুণী দেখিয়া মোরে, কেহ খোলে না যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩

ব্যালটের চিঠি: মাননীয় ট্রাম্প, আপনার বাকি বন্ধ

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

"আমেরিকাকে আবার মহান করব" বলে এসে যিনি দুনিয়ার সবাইকে বিরক্ত করলেন, ভোটাররা তাঁকে জানিয়ে দিলেন: হুমকি ধমকি আর উম্মাতাল আঁতলামির... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×