শেখ মুজিবর রহমানকে নিয়ে 'ধরা যাবে না, ছোঁয়া যাবে না' নীতিটা খুবই দৃষ্টিকটু। পৃথিবীর কোন নেতাই সমালোচনার উর্ধ্বে নন, শেখ মুজিবর রহমানও তার ব্যতিক্রম নন। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমেদ তার 'শেখ মুজিবের শাসনকাল' বইয়ে লিখেছিলেনঃ "‘কারাবন্দী অবস্থায় পাকিস্তানি সামরিক জান্তার হাতে নিহত হলে শেখ মুজিব বাঙালি জনমানসে অমর হয়ে থাকতেন এবং বাঙালি হৃদয়ে তাঁর মূর্তি থেকে যেত অবিনশ্বর।" ধ্রুব সত্য !
সেইজন্য এটাও বিবেচনা করতে হবে কেন সে একই সিংহপুরুষের শাসনামল নিয়ে আলোচনা করা হয়না, কেন শুধু আমাদেরকে তাঁর অজস্র জানা অজানা স্বপ্নতেই আটকিয়ে রাখা হয়? কেন 'বন্ধবন্ধু' উপাধি পাওয়া এই মানুষটার একই উপাধি কেড়ে নেয়ার আন্দোলন করা হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শাসনামলে? বিপুল পরিমাণ সাহায্য-অনুদান-ঋণ ( এমনকি পাকিস্তানের কাছ থেকেও) পাওয়া স্বত্বেও ৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে কমপক্ষে ১০ লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছে, কেন শুধু এমন শৌর্য-বীর্য নেতার মুখে 'ওরা পেয়েছে সোনার খনি, আর আমি পেয়েছি চোরের খনি' আক্ষেপ ছাড়া আর কোন পদক্ষেপ ছিল না? ৭৪ এর দুর্ভিক্ষে যখন পত্রিকার পাতায় ভুখা-নাঙ্গাদের ছবি আর শিরোনামে ভরপুর, বাঙ্গালির জন্য দরদী এই নেতা তাঁর ছেলের বিয়েতে পুত্রবধূকে স্বর্ণমুকুট দিয়ে আড়ম্বরতার সাথে কিভাবে এত আনন্দ করতে পারলেন? কেনই বা ৩৬০০০+ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরু হয়েও এক চিক্কন আলীকে ফাঁসি দিয়ে বাদবাকিদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া হল?
সবচেয়ে বড় কথা, প্যারামিলিটারি 'রক্ষীবাহিনী' তৈরি কেন করতে গেলেন? যেই রক্ষীবাহিনী লাখখানেক মানুষ হত্যা করেছে নৃশংসভাবে, ধর্ষণ লুট ডাকাতির মত কোন হীন কাজ বাদ দেয় নি... কি ই বা দরকার ছিল বাকশাল গঠনের, দেশের ৮ কোটি মানুষকে কেন একটি রাজনৈতিক দল করতেই বাধ্য করার সংস্কৃতির প্রয়োজন পড়লো? সেই অবিসংবাদিত নেতার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরেরদিনই বা কেন
ইত্তেফাকের মত আওয়ামীপন্থী পত্রিকায় শিরোনাম হলঃ 'জনসাধারণে স্বস্তির নিঃশ্বাস'
১৫ আগস্টে ৯০ % পোস্ট কেবল বঙ্গবন্ধু সংক্রান্ত ছিল।
সবশেষে বলব , ভাই, কথা বলার মত টপিকের অভাব নাই। বন্যায় উত্তরাঞ্চলের মানুষের সীমাহীন দুর্গতি। পারলে তাদের নিয়েও ২ লাইন লেখেন।
Osman Ahmed Sakib
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:২৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




