তিস্তা চুক্তি না হওয়া, টিপাইমুখ বাঁধ এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চলমান স্নায়ুযুদ্ধ এখন সাইবার যুদ্ধে রূপ নিয়েছে। ভারতীয় হ্যাকার গ্রুপ ইন্ডিশেল এর চ্যালেঞ্জের ২৫ মিনিটের মাথায় হায়দারাবাদ-এর অলইন্ডিয়া রেডিও’র সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকড করেছে দুর্বার টাইগার। রবিবার রাত পৌনে এগারোটার দিকে সাইটটি হ্যাক করে সেখান বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে দেয়া হয়।
সোমবার সকালে মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে হ্যাকিং আক্রমণের শিকার হয়েছে ১টি সরকারিসহ মোট ৮টি ওয়েবসাইট। ওয়েবসাইটগুলোর অ্যাড্রেসগুলোর মধ্যে রয়েছে http://www.iipmb.edu.in/, http://www.starting-business.in/, http://www.shadwellsbengaluru.com/, http://www.shikshasewasansthan.com/, http://www.tamilonlinematrimony.com/, http://www.tauruspowertronics.com/, http://www.tyreempire.in/, http://www.uetvn.com/, http://www.vaidhaa.com/,
http://www.vrpcapital.com/ এবং http://www.worldswishingwell.com/।
এমন পরিস্থিতিতে অনলাইন জুড়ে বিরাজ করছে উত্তেজনা। আতঙ্ক বিরাজ করছে সরকারি-বেসরকারি ওয়েবসাইটগুলোতে। ফেসবুক, টুইটার এবং গুগল প্লাস এর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে চলছে মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যের ক্ষুদে বার্তা চালাচালি।
এদিকে সাইবার হামলাকারীদের ধরতে ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নিরাপত্তা ডিজিএফআই এর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সাইবার আর্মি’র ফেসবুক গ্রুপ পেজে দেয়া পোস্ট থেকে জানা গেছে, এজন্য ডিজিএফআই, র্যাব এবং সিআইডি অনলাইন সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোর ওপর নজরদারি শুরু করেছে।
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছা দু’দেশের হ্যাকারদের মধ্যে চলমান এই অনলাইন হামলায় বিশ্বের শক্তিমান হ্যাকার দল অ্যাননিমাস সমর্থন দিলেও এখনো কোনো ধরনের কারিগরি সহায়তা দিয়েছে বলে প্রমাণ মেলেনি।
গ্রুপটির সহায়তায় এখন পর্যন্ত এক্ষেত্রে বাংলাদেশি হ্যাকাররাই আনুপাতিক হারে এগিয়ে রয়েছে। তবে দুর্বল পাসওয়ার্ড তথা নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ভারতীয় হ্যাকাররা দেশের সরকারি সাইটগুলো সহজেই দখল করতে সক্ষম হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রেই ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি এসব সাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শিথিল করেছে। অবশ্য ব্যক্তিগতভাবে পরিচালিত সাইটগুলো এখন পর্যন্ত সুরক্ষিত রয়েছে।
ফেসবুকের বিভিন্ন স্ট্যটাস ও বিভিন্ন অনলাইন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ইতিমধ্যে আরও কয়েকটি দেশের হ্যাকাররা নিজেদের পছন্দের দেশের পক্ষ নিয়ে যুদ্ধে নেমেছেন। এই কাতারে রয়েছেন পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং রাশিয়ার সাইবার যোদ্ধারা।
একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাকিস্তান, সৌদি আরব, সিরিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার সাইবার যোদ্ধারা বাংলাদেশের পক্ষ হয়ে কাজ করলেও ইসরায়েল এবং রাশিয়ার সাইবার যোদ্ধারা রয়েছেন ভারতের পক্ষে।
ইন্টারনেটভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ইতিমধ্যেই ভারতীয় হ্যাকাররা প্রায় ২শ' বাংলাদেশি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে, প্রকাশ করে দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশের ওয়েবসাইটের ড্যাটাবেজসহ গোপন অনেক তথ্য।
হ্যাকিং সম্পর্কিত তথ্যসূত্র ‘সিকিউরিটি রে’ জানিয়েছে, ভারতের হ্যাকার গ্রুপ ‘ইন্ডিশেল’ এ পর্যন্ত একশ’র মতো ওয়েবসাইট হ্যাকিংয়ে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপগুলোর দখলে রয়েছে এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় ওয়েবসাইট। সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ছাড়াও ব্যক্তিগত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটও রয়েছে এ তালিকায়।
শুরুতেই বাংলাদেশি হ্যাকাররা বহুসংখ্যক ভারতীয় ওয়েবসাইট হ্যাকড করে। হ্যাকড করা ওয়েবসাইটগুলোর হোমপেজে লেখা হয়েছে ‘‘ফেলানীকে তারের উপর গুলি করে সেটি ছবি বানিয়েছে বিএসএফ, সেগুলো আমরা সর্বত্র দেখেছি। সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে তাই সেই একই ছবি আমরা ঝুলিয়ে দিয়েছি ভারতীয় ওয়েবসাইটে। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড না থামলে আমাদের হ্যাকিং কর্মকাণ্ড থামবে না।”
এসব সাইটের হোমপেজে সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি হত্যার নানা চিত্র স্থান পেয়েছে। তবে সম্প্রতি আর হ্যাকিং আক্রমণ চালিয়ে ফেলানির ছবি না দিয়ে সরাসরি বাংলাদেশের পতাকার ছবি দেয়া হচ্ছে। আর প্রতিবাদ হিসেবে সীমান্তে বিএসএফ’র পাশবিক নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদ এবং তা বন্ধের দাবি জানানো হচ্ছে।
এছাড়াও ডিডস (ডিন্যায়েল অব সার্ভিস) অ্যাটাকের মাধ্যমে http://highcourtchd.gov.in/, http://www.wii.gov.in/, http://www.keralacm.gov.in, http://www.jntu.ac.in, http://www.indianrailways.gov.in, http://www.rrbmumbai.gov.in/, http://www.nccptrai.gov.in, http://civilsupplieskerala.gov.in/, http://www.minorityaffairs.gov.in, http://www.business.gov.in/, http://passport.gov.in/, http://www.hdmc.gov.in/, http://www.cci.gov.in/, http://www.dot.gov.in, http://www.iirs.gov.in, http://www.kerala.gov.in, http://www.mit.gov.in, cbec.gov.in, http://apit.ap.gov.in/, http://mea.gov.in/, http://www.tec.gov.in, http://cmet.gov.in/, http://mpcb.gov.in/, indiagovernance.gov.in, http://www.sebi.gov.in, http://www.nationallibrary.gov.in, http://ofb.gov.in/, http://www.viit.ac.in, naac.gov.in, http://www.jncasr.ac.in, http://www.bsf.gov.in, http://www.iiitb.ac.in/ সাইটগুলোর সার্ভার ডাউন করে দেয়া হয়।
প্রসংগত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশি হ্যাকার গ্রুপ ‘ব্ল্যাক হ্যাট হ্যাকারস’ সদস্যদের ডিস্ট্রিডিবউটেড ডিনায়েল অফ সার্ভিস বা ডিডস আক্রমণে প্রায় ৬ ঘণ্টা বন্ধ ছিল ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর ওয়েবসাইট http://www.bsf.gov.in।
এ সাইটটি যে সার্ভারে ছিল সেই সার্ভারে রক্ষিত আরও প্রায় ৪০টি সাইটও ওই একই আক্রমণে বন্ধ হয়ে যায়। আর এ হামলার দায় শিকার করে বাংলাদেশি আন্ডারগ্রাউন্ড হ্যাকার সাইবার আর্মি, ব্ল্যাকহ্যাট হ্যাকার, টাইগার হ্যাকার, রোবট পাইরেটস সহ আরও বেশ কয়েকটি হ্যাকার গ্রুপ।
এরপরই মূলত ভারতীয় ওয়েব ডিফেসার ইন্ডিয়া, স্ট্রাইকার ইন্ডিয়া, সেন ইন্ডিশেল, এশেল ইন্ডিয়া - এই ৪টি হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশের বিভিন্ন সাইটের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। ভারতীয় গ্রুপগুলো যেসব বাংলাদেশি সাইটের ওপর আক্রমণ চালায় সেগুলো হচ্ছে_ http://www.fireservice.gov.bd
http://www.mha.gov.bd, http://www.police.gov.bd, http://www.brta.gov.bd, http://www.coastguard.gov.bd, http://www.macademy.gov.bd, http://www.natpdae.gov.bd, http://www.parjatan.gov.bd, http://www.jmba.gov.bd, http://www.visitbangladesh.gov.bd, http://www.bsbk.gov.bd, http://www.urbanvolunteer-fscd.gov.bd, http://www.bsl.gov.bd, http://www.vgdupdwa.gov.bd, http://www.atomic.sparrso.gov.bd, http://www.wmip-bwdb.gov.bd, http://www.perp.gov.bd, http://www.cairo.mofa.gov.bd, http://www.vacancies.lgd.gov.bd, http://www.jmba.gov.bd fltc.gov.bd, cmmu.gov.bd, rcc.gov.bd, pep.gov.bd ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।
ভারতীয় হ্যাকিং গ্রুপ ইন্ডিশেল এর মুখপাত্র চিত্তরঞ্জন রবিবার রাত ১০.২০ মিনিটের দিকে বাংলাদেশ সাইবার আর্মির ফেসবুক গ্রুপে বাংলাদেশের হ্যাকারদের প্রতি ভারতের সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করার চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়। এর আধা ঘণ্টা পার হবার আগেই বাংলাদেশের হ্যাকার ‘দুর্বার টাইগার’ এর থাবায় আক্রান্ত হয় দেশটি জনপ্রিয় রেডিও ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র http://www.airallahabad.gov.in/ ঠিকানার ওয়েব সাইটটি।
ভারত এবং বাংলাদেশের হ্যাকাররা যখন মুখোমুখি অবস্থানে ঠিক তখনই সোমবার ভোর রাতে ইন্টারনেট সংযোগ ঘণ্টা খানেক বন্ধ রাখা হয়। রাত সাড়ে চারটা থেকে ভোর সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত জিপি, বাংলালায়ন ও কিউবি’র লাইন সংযোগ পায়নি একাধিক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



