ওদের ফ্যামিলি ভাল। বাবা মা দু’জনেই ডাক্তার। বাড়ী নারায়ণগঞ্জ হলেও ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাট আছে। বড় ভাই আর্কিটেক্ট। মেয়ে দেখতে সুন্দরী। কলেজে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ছে।
তারপর?
সুপার্থ যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিল। সুপার্থ দের বাড়িও নারায়ণগঞ্জ, নগর খানপুর। ওদের বাড়ি দেওভোগ।
তার পর?
কথাবার্তা অনেক দূর আগানোর পর আর হল না। ভেঙ্গে গেল!
আমার রুমমেট সামিরের বুক চিরে বেরিয়ে আসা দীর্ঘশ্বাস আমার অন্তর কে স্পর্শ করল। গভীর মমতায় আমি সামিরের হাত ধরলাম। সামির, চল ছাদে যাই। জীবনের সব চাওয়া কি পুরন হয় রে? বুয়েট পাশ করে ‘উচ্চ পদস্থ চাকরি’ পেলে কত সুন্দরী’র বাবা মা তোর পিছু ধাওয়া করবে! মন খারাপ করিস নে!
সুন্দরীই’ত হাতের মুঠো থেকে বেরিয়ে গেল,বাবা মা আর পিছু ধাওয়া করে কি লাভ!অসংলগ্ন কথার সাথে সামিরের আরেকটা দীর্ঘশ্বাস সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে আমার কানের লতি ছুঁয়ে গেল!
আরে বেটা ডাক্তারের মেয়ে দেখেই রোগী হয়ে গেলি! তোর রেজাল্ট যে রকম ভাল, বুয়েটের টিচার ফিচার হয়ে যেতে পারলে ত ডক্টরের মেয়ে বিয়ে করতে পারবি!!
সামির বিনা জিজ্ঞাসায় আমার পকেটে হাত দিয়ে সিগারেটের প্যাকেট থেকে সিগারেট বের করল।ধরিয়ে লম্বা করে টান দিল। মনে হল দীর্ঘশ্বাসের সাথে বেরিয়ে যাওয়া বাতাস বুক টাকে যতটা খালি করে দিয়েছিল সিগারেটের ধোঁয়া দিয়ে ততটা পুরন করে নিতে চাইছে!
ছাদে উঠে দেখি ভরা পুর্নিমা! ইউক্যালিপটাস গাছের অপুর্ব চন্দ্র-ছায়া আলপনা এঁকেছে নজরুল ইসলাম হলের ছাদে। চন্দ্র ছায়ায় ছোট্ট রেলিঙের উপর আমি আর সামির পাশাপাশি বসলাম। সিগারেটের শেষ হয়ে আসা অংশ টুকু আমার আঙ্গুলে দিয়ে সামির আকাশের দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলল, ঐ যে পুর্নিমার চাঁদ দেখছিস, সে নাকি ঐ পুর্নিমা চাঁদের চেয়েও সুন্দর!
‘নাকি’ কেন রে? তুই তাকে দেখিস নি?
দেখার সুযোগ আর পেলাম কই? কথাবার্তা অনেক দূর আগাল। দিন তারিখ সব ঠিক হল! তারপর সামান্য কারনে ভেঙ্গে গেল!
কি সেই সামান্য কারন?
বুয়েটের আরেকটা ছেলে আরো কম টাকায় রাজী হয়েছে!
কম টাকায় রাজী হয়েছে মানে???
ইন্টার মিডিয়েটের ছাত্রী! ফিজিক্স ম্যাথ দুটাই পড়াতে হবে। আমি সবকিছু বিবেচনা(!) করে পাঁচ হাজার টাকা চেয়েছিলাম। রশীদ হলের কোন বজ্জাত ছেলে নাকি সাড়ে চার হাজার টাকায় পড়াতে রাজী হয়েছে!
আমি চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছি। সিগারেট তর্জনি আর মধ্যমার ফাঁকে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করছে। করুক! আমি চাঁদের উদ্যেশ্যে মনে মনে বললাম, হে চাঁদ তুমি দ্বিধা হও! আমিও নীল আর্মস্ট্রং হই!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



