somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের একটা ‘বেয়াদপ’ আছে!

০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনাটা আজ থেকে চৌদ্দ বছর আগে আমার এক বন্ধুর মুখ থেকে শোনা।
ওদের এলাকায় এক ছেলে কে কোন ভাবেই বিয়ে দেয়া যাচ্ছে না। কারন ছেলের চোখ ‘টেরা’! আমার বন্ধু ছুটিতে বাড়ি গিয়ে ঘটনা শুনল। তারপর ছেলের বাপ মা কে বলল- আপনারা দুশ্চিন্তা করবেন না। আমি ব্যবস্থা করতেছি। ছেলেকে ডেকে বলল- শ্বশুরবাড়ির লোক যখন তোকে দেখতে আসবে তুই ভুলেও কারো দিকে চোখ তুলে তাকাবিনা। চোখ নিচের দিকে নামিয়ে রেখে আদবের সাথে ওদের কথার জবাব দিবি!

ছেলে জিজ্ঞেস করল- চোখ নিচের দিকে নামিয়ে রাখলেই কি বিয়ে দিতে রাজী হবে ভাইয়া? মেয়ে ত নাকি খুব সুন্দর!

আমার বন্ধু বলল- মুখে মুখে কথা বলস ক্যান বেয়াদপ? তোরে যেইটা করতে বলছি সেইটা কর!

যথাসময়ে হবু শ্বশুরবাড়ির লোকজন ছেলে দেখতে আসল। ছেলে মাথা নিচু রেখে সবার কদমবুসি করল। তারপর সবার সামনে মাথা নিচু করে বসে রইল। সব প্রশ্নের ‘ জ্বী হুজুর’ টাইপ জবাব দিল। নাস্তা পানি খেয়ে পান চিবাতে চিবাতে ‘ছেলে দেখক’ পার্টি ফেরত যাবার সময় তাদের সামনে এসে দাঁড়াল আমার বন্ধু। বলল- ছেলে বেশি চালাক চতুর নয়। পড়ালেখা তেও নাই। কাম কাজেও নাই। অলম্বুস টাইপের ছেলে। কিন্তু ছেলের খুব আদব লেহাজ। আপনাদের মেয়ে বিয়ে করলে জীবনে কোনদিন আপনাদের চোখে চোখে তাকিয়ে কথা বলবে না। এখন বাকীটা আপনাদের বিবেচনা।

‘জীবনে কোনদিন আপনাদের চোখে চোখে তাকিয়ে কথা বলবে না’ শুনে এবং এর লক্ষণ বাস্তবে দেখে কন্যাপক্ষ ‘ব্রিটিশ গোলামী আবেগে’ আপ্লুত। যথাসময়ে শ্রীমান লক্ষ্মী টেরা’র সাথে শ্রীমতী পটল চেরা’র বিবাহ সম্পন্ন হল।

আমাদের একটা ভয়ঙ্কর বেয়াদপ ছেলে আছে। ব্যাটার কত বড় সাহস? ওয়ার্ল্ডে এত বড় বড় খেলোয়াড় থাকতে সে কিনা এক নম্বর অল রাউন্ডার হয়! আরে বেটা একটু ধীরে সুস্থে! বাংলাদেশ মাত্র ক্রিকেট খেলা একটু আধটু শিখতে শুরু করেছে। প্রতিপক্ষের নামকরা বোলারের বলে চার মারতে পারলে মনে মনে খুশি হবি!প্রতিপক্ষের নামকরা ব্যাটসম্যান ওদের কোন কালের কোন পার্ট টাইম বোলারের সাথে তোর তুলনা করলে তাও মনে মনে খুশি হবি! আদব লেহাজের একটা ব্যাপার আছে না। বিনয়ী না হলে বড় ভাই দের থেকে শিখবি কেমনে?

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড খুব ভাল একটা কাজ করেছিল। এই বেয়াদপ টাকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। একে নিষিদ্ধ করায় বাংলাদেশ ক্রিকেট খুব ভালমত সাইজ হয়ে গেছিল। কোথাও খেলতে গিয়ে কারো সাথে কোন বেয়াদপী করতে পারে নাই। দেশে খেলতে এসেও কেউ বেয়াদপীর স্বীকার হয় নাই। আরো ভাল হত বেয়াদপ কে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করে দিলে। এতে করে পাইপ লাইনে থাকা অন্যান্য বেয়াদপ রাও সাইজ হয়ে যেত। বাংলাদের ক্রিকেট টীম পুরাই আদপ লেহাজের টিম হয়ে যেত। জীবনেও বড় কোন দলের সাথে বেয়াদপি করার সাহস করত না।

বেয়াদপগুলো যে শুধু খেলায় বেয়াদপ হয় তা না। কথাবার্তায় ও চূড়ান্ত বেয়াদপ হয়। পত্রিকায় সাক্ষাতকার দেবার সময় এরা পাবলিকের ‘সেন্টু এরিয়া’ মাথায় রেখে অতিবিনয়ী ভাব নিয়ে ‘ভুয়া শচিন টেন্ডুলকার’ না সেজে নিজের মনে আসা কথাগুলো বলে ফেলে। এতে বিদেশীদের সবকিছু কে আদর্শের চূড়ান্ত ভেবে বসা দেশপ্রেমিক জাতি বিরাট আহত হয়! ‘প্রিয় খেলোয়াড়ের নাম ব্রায়ান লারা না বলে সাকিব আল হাসান বলবে’- পরবর্তী প্রজন্ম কে এতটা অশিক্ষিত ভাবতে দেশ প্রেমিক জাতির কষ্ট হয়।

গত দুদিন মাইগ্রেনের ব্যাথায় পুরা জোম্বি হয়েছিলাম। দুনিয়াদারি খেয়াল ছিল না। আজকে পেপার খুলেই মাথাটা গরম হয়ে গেল!

কি রে সাকিব? তোর মাথা ঠিক আছে? কোথায় প্রতি ম্যাচে ডাব্বা মারবি আর বলবি- উইকেট বেঁকা ছিল। ব্যাট তেড়া ছিল। বল পিছলা ছিল!

তুই কিনা একই ম্যাচে সেঞ্চুরি করস? আবার দশ উইকেট পাস?

আমাদের এত সহ্য হয় না বাপ। আমরা ক্রিকেট খেলা নিয়ে আড্ডায় বসলে ইয়ান বোথাম, ভিভ রিচার্ডস, ইমরান, খান, কপিল দেব, রিচার্ড হ্যাডলি, গ্যারি সোবার্স নিয়ে কথা বলতে ভালবাসি। তুই আমাদের মাগুরার দেশি পোলা হয়ে এদের জায়গায় ভাগ বসাস ক্যান?



সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১১:৩৭
১০টি মন্তব্য ৯টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্মগ্রহণ কি আজন্ম পাপ?

লিখেছেন এম ডি মুসা, ২৪ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬



রাষ্ট্রের নিরাপত্তা আছে, জনগণের নিরাপত্তা কোথায়?

বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে কি নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারটুকুও আমাদের নেই? সরকার ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর থাকে। কিন্তু সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনেকটা পথ হেঁটে এসেছি

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:০৫




১৯৯৭ সাল।

আমি তখন ক্লাস নাইনে পড়ি।

স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে মামুন ভাইয়ের একটা অডিও ক্যাসেটের দোকান ছিল। পাশেই মির্জা ভাইয়ের কনফেকশনারি। টিফিনের সময় ওখানে প্যাটিস খেতাম।

সেই সময় অডিও ক্যাসেটের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশটাতো এখন রাজাকারদের....

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৮




একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে বাদী ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী (৮৭)। মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি চলার সময় জামাতের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা শিক্ষা একটা কর্মবিমুখ শিক্ষা

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৫

এদেশের মাদ্রাসা শিক্ষারে আপনি একটা স্ক্যাম হিসেবে ধরতে পারেন। মাদ্রাসার বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে যে মাদ্রাসাগুলো আছে সেগুলো বাদ দিয়ে অন্য সব মাদ্রাসাই এই স্ক্যামের ভেতরে। এটা একটা ভিক্ষার সাইকেল, দারিদ্র্য'র দুষ্টু... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিম করা কি হারাম?

লিখেছেন চারাগাছ, ২৫ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৬




জিম করা কি হারাম?

হ্যাঁ, জিম করা হারাম!

যদি জিমে গিয়ে নিজের পেশিবহুল বাহুডোরে কোনো ললনাকে জড়িয়ে ধরেন!

কিন্তু তারপরেও কথা থাকে।

এখানে জড়িয়ে ধরাটা হারাম। জিম করাটা নয়!

অর্থাৎ, জিমে গিয়ে শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×