এবারের বইমেলায় আমার একটা বই প্রকাশিত হয়েছে। সেই সুবাদে আমি চট্টগ্রাম থাকলেও বইমেলার খোঁজ খবর নিয়মিত রাখছি। আমার বইয়ের প্রকাশকের সাথে কথা বলে যেটা জেনেছি সেটা হল অন্যান্য লেখকদের তুলনায় এবার ও যথারীতি অনেক বেশি বিক্রি হচ্ছে হুমায়ুন আহমেদের বই। হুমায়ুন আহমেদ নিজেকে গন মানুষের হৃদয়ের লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গিয়েছেন। মেলায় গিয়ে পাঠক পাঠিকার সিংহ ভাগ উনাকে খুঁজবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমার ভাবনা অন্যত্র। আমার বইয়ের নগণ্য সংখ্যক ক্রেতার কাছ থেকে মেলার বিভিন্ন স্টলের সামনে প্রদর্শিত যেসব বইয়ের ছবি দেখেছি তাতে বড় রকমের ধাক্কা খেয়েছি! বেশির ভাগ বইয়ের নাম করনের স্টাইল, প্রচ্ছদ সব কিছু হুমায়ুন আহমেদ ধাঁচে। সরাসরি হিমু নাম দিয়েও কয়েকটা বই চোখে পড়ল। যেন হুমায়ুন আহমেদ একটা ব্রান্ড এবং বইয়ে কোন রকমে এই ব্র্যান্ডের ছোঁয়া লাগাতে পারলে কিছু বই বিক্রি হবেই। মলাট না উল্টেও বলা যায় এসব বই হবে অন্তঃসারশূন্য এবং এসব বইয়ের লেখকদের মধ্য থেকে কখনোই কোন সত্যিকারের সাহিত্যিক উঠে আসবেন না। কারন লেখক তার লেখকজীবনের শুরুতেই আত্নসমর্পন করে বসে আছেন। আত্ন সমর্পন করে বড় জোর নোট বই লেখক হওয়া সম্ভব। সাহিত্যিক নয়।
কিন্তু এটাই ত নিশ্চয় সামগ্রিক চিত্র নয়। পরিসংখ্যানের নিয়মেই এমন কেউ নিশ্চয় লিখছেন যিনি জনপ্রিয় কোন লেখকের কাছে নিজের স্বত্ব বিক্রি করে জনপ্রিয় হবার সস্তা চেষ্টা করেন না। তিনি হয়ত লাজুক প্রকৃতির। তাঁর লেখা বইটা পাঠক কে চিনিয়ে দেবার কোন উপায় হয়ত তাঁর জানা নেই। এটা ঠিক যিনি সত্যিকারের লেখক তাকে কোন কিছুই আটকে রাখতে পারবে না। তার সৃষ্টিই তাঁকে সাময়িক অন্ধকার ছিঁড়ে ফুঁড়ে আলোয় নিয়ে আসবে কোন না কোন দিন। কিন্তু আমার মনে হয় বাংলা একাডেমীর এতে একটা দায়িত্ব থেকেই যায়।
আমি যতটুকু জানি আমাদের সমগ্র প্রকাশনা জগত এবং বাংলা একাডেমীর ব্যাপার টা অনেক টা তেলা মাথায় তেল দেবার মত। প্রতিষ্টিত লেখক ছাড়া কেউ যদি ‘কানেকশন’ কাজে লাগিয়ে অথবা তেল দিয়ে নিজের লেখা বড় কত্তাদের কাউকে পড়তে না দেন তাহলে তারা পড়েন না। এতে করে আমার মনে হয় সৃষ্টিশীল প্রতিভারা কোন না কোন ভাবে আড়ালেই থেকে যাচ্ছেন। এমন হওয়া খুবই সম্ভব এবারের বইমেলায় প্রকাশিত সবচেয়ে ভাল উপন্যাস বা কবিতার বইটি ই হয়ত রয়ে গেছে সবার দৃষ্টির অগোচরে। কারন সৃষ্টিশীল মানুষেরা স্বভাবগত ভাবে ‘তেলশীল’ হয় না!
আমার মনে হয় এদিক টা নিয়ে বাংলা একাডেমীর এখুনি ভাবা উচিত। নইলে আগামী দশ বছরে ব্ই ও আর দশটা পণ্যের মত অন্তঃসারশূন্য একেকটা গ্ল্যামারপিস এ পরিণত হবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



