ফ্রিজ থেকে বের করা ঠান্ডা টক দই খেয়ে টনসিল ফুলে গেল। অসহ্য ব্যাথা। চিকিৎসা হিসাবে এন্টিবায়োটিক ছাড়াও লবন পানি দিয়ে কুলি করতে হয়। রাতে ঘুমানোর আগে কুলি করলে বেশি উপকার পাওয়া যায়।রাতে মুখ বন্ধ থাকে,কাজেই টনসিল ফুলানোর জন্য যে মাইক্রো অরগানিজম গুলো দায়ী সেগুলোকে রাতের অন্ধকারে ঘায়েল করা মনে হয় লবন পানির পক্ষে সহজ।
চুলায় পানি গরম হতে দিয়ে চুলার দিকে তাকিয়ে আছি। ধীরে ধীরে পানি ফুটতে শুরু করেছে। তাপশক্তি পেয়ে পানির অনুগুলো ছোটাছুটি শুরু করে দিয়েছে। ছোটাছুটির এক পর্যায়ে তারা অভিকর্ষ কে জয় করবে। ডেকচি’র ক্ষুদ্র আয়তন ছেড়ে পাড়ি দেবে আকাশের দিকে। তখন তারা আর ঘটিতে তোলা জল নয়। তখন তারা মেঘ, দিগঙ্গনা!
পুরো ঘটনা টা ঘটবে নিয়ম মেনে। নিঃশব্দ যুক্তি মেনে। মানুষ যে আজ এত কিছু বানিয়েছে তার নেপথ্যে রয়েছে এরকম কিছু ‘নিঃশব্দ যুক্তি’র আবিস্কার। নিঃশব্দ যুক্তি ‘আজকে ঠিক কালকে বেঠিক, এখানে ঠিক ওখানে ঠিক নয়’ ধরনের ঠুনকো কিছু নয় বলেই আঠারশ শতকে আবিস্কৃত বিমান উনিশ শতকে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায় না। পৃথিবীতে নির্মিত মহাকাশ যানের চাকা মঙ্গল পৃষ্ঠে গিয়েও ঠিকঠাক খুলে!
নিজে সৃষ্টি জগতের অংশ হয়েও শুধু বেঁচে থাকা কেন্দ্রিক চিন্তার চেয়ে বেশি কিছু চিন্তা করার ক্ষমতা মানুষের আছে বলেই মানুষ নিজের জীবন কে অন্য প্রানীর জীবনের চেয়ে উন্নত করতে পেরেছে। জীবন কে, জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ প্রকৃতিকে বুঝতে চেয়ে মানুষ নিজের অজান্তেই আবিস্কার করে ফেলেছে চাকা, আবিস্কার করে ফেলেছে ভাষা , আবিস্কার করে ফেলেছে কালি এবং কলম! মানুষের চিন্তা শক্তি ই মানুষ কে মানুষ বানিয়েছে।
তবে প্রত্যেক পার্টিকেলের যেমন এন্টি পার্টিকেল থাকে তেমনি প্রত্যেক মানুষের ও এন্টি মানুষ থাকে। প্রত্যেক ডক্টর জেকিলের পেয়ার হিসেবে তার ভেতরেই থাকেন মিস্টার হাইড। ডক্টর জেকিল ঠিক ততক্ষন মিস্টার হাইড কে নিজের ভেতর ‘হাইড’ করে রাখতে পারেন যতক্ষন তার চিন্তা শক্তি কাজ করে। যখন চিন্তা শক্তি লুপ্ত হয় তখন তিনি নিজেই হাইড হয়ে যান!তার জায়গায় বেরিয়ে পড়ে ভয়ঙ্কর সর্বনাশা মিস্টার হাইড! নিজের এবং অন্যের সর্বনাশ করতে মিস্টার হাইডের জুড়ি নেই।
বর্তমান যুগে সবচেয়ে অসাধারন অথচ অপ-প্রযুক্ত আবিস্কার হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তি। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগে মানুষ অবিরাম কথা বলতে পারে ফট ফট। অবিরাম টাইপ করতে পারে খট খট!এই অবিরাম ‘খটখট ফটফট’ এর খপ্পরে পড়ে কখন যে মস্তিষ্কের 'নিঃশব্দ যুক্তিরুমে' তালা পড়ে যায় সেটা নিজেও বুঝতে পারেনা। তালাবদ্ধ মস্তিষ্কের নিরেট দেয়ালে যেটা বাড়ি খায় সেটা যুক্তিরুমের বাইরের বারান্দায় কিছুক্ষন উত্তেজিত লাফঝাঁপ দিয়ে সেন্টিমেন্ট সঞ্চয় করে। তারপর অন্তর্জালের আকাশে ‘ক্ষিপ্ত খট খটাশ ফট ফটাশ পাখি’ হয়ে ডানা মেলে পৃথিবীর শান্তি বিনষ্ট করতে!
পৃথিবী অপেক্ষা করে আছে কখন মানুষ তথ্য প্রযুক্তির পরিমিত যৌক্তিক ব্যবহারে নিজেকে সীমাবদ্ধ করবে।সস্তা পুলকের ডানায় ভর দিয়ে আকাশে উড়ার উত্তেজনা পেতে গিয়ে নিজের সবচেয়ে শক্তিশালী সম্পদ মস্তিষ্কের ব্যবহার হতে নিজেকে এবং পৃথিবীকে বঞ্চিত করবে না।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে মার্চ, ২০১৫ বিকাল ৫:৩৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




