১৫/০৪/২০১৫, বাংলাদেশ
শ্রদ্ধেয় আবু ইসহাক,
আমার সালাম নেবেন।আজ থেকে কুড়ি বছর আগে আপনার রচিত ‘সূর্য দীঘল বাড়ি’ নামে একটা উপন্যাস পড়েছিলাম। তারপর কুড়ি বছর আমি এই উপন্যাসের মধ্যে বাস করেছি। এই উপন্যাস নিয়ে একটি চলচ্চিত্র নির্মান হয়েছে আমি জানি। কিন্তু কখনো দেখার প্রয়োজনবোধ করিনি। বাক্যের মাধ্যমে আমার মাথার মধ্যে যে চলচ্চিত্র আপনি তৈরি করে দিয়েছেন সেটাই বার বার দেখেছি। কুড়ি বছরে আপনার এই একটি মাত্র উপন্যাসের আচ্ছন্নতা কেটে যাওয়া দূরে থাক সেটা বরং তীব্র থেকে তীব্র আকার ধারন করেছে। মানসিক ভাবে আমি যত বেশি বেশি পরিনত হয়েছি তত বেশি বেশি আবিস্কার করেছি লেখক হিসাবে আপনার ক্ষমতার অসীমতা।কিন্তু আজকে আপনার স্তুতি করার জন্য আমি লিখতে বসি নাই।বরং অত্যন্ত মনোবেদনার সাথে আপনাকে জানাতে চাইছি আজ থেকে পঞ্চাশ ষাট বছর আগে আপনি আপনার জীবনের মহা মূল্যবান কিছু সময় নষ্ট করেছিলেন। সূর্যদীঘল বাড়ি লিখে আপনি উলু বনে মুক্তা নয়, কোহিনুর হীরা ছড়িয়েছিলেন। হায়, কি বেকুব ই না আপনি ছিলেন!
আপনার উপন্যাসের মূখ্য চরিত্র জয়গুন। হাস ডিম পাড়লে জয়গুন বড় ছেলে হাসুকে দিয়ে হাসের ডিম চারটা জুম্মাবারে মসজিদে পাঠায়। মসজিদের ইমাম জয়গুনের পাঠানো হাসের ডিম ফেরত দেয়। কারন- ‘বেপর্দা আওরতের চিজ!’, ‘সে একলা একলা মমিন্সিং যায় টেরেনে কইরা!’
ইমাম সাহেব এবং তার সঙ্গী সাথীরা সেই চল্লিশ বা পঞ্চাশের দশকে জীবন যোদ্ধা জয়গুনের প্রতি যে মানসিকতা নিক্ষেপ করেছিল আজকে দুহাজার পনের সালে আমরা ‘ভার্সিটি পরিহিত উচ্চ অশিক্ষিত’ রা নারীদের প্রতি একই মানসিকতা নিক্ষেপ করি।আপনার এই বইটি বিএ ক্লাসে পাঠ্য ছিল। মেয়ে হবার কারনে ভার্সিটি পড়ার সূযোগ না পেয়ে কলেজে বিএ পড়া এক বোনের বালিশের তলা থেকে নিয়েই আমি এই বইটি পড়েছিলাম। বিস্মিত হয়ে ভাবি আমাদের শিক্ষা মন্ত্রনালয় কি মনে করে এই বইটাকে জাতীয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন? আমাদের নকল নবীশ এবং মূখস্ত নবীশ প্রজন্ম যে সাত জন্মেও ‘বেপর্দা আওরতের চিজ!’, ‘সে একলা একলা মমিন্সিং যায় টেরেনে কইরা!’ ডায়লগের অর্থ বুঝতে পারবেনা সেটা কি তারা বুঝতে পারে নাই? বর্তমান শিক্ষামন্ত্রনালয় আশা করি এরকম ভুল করবে না। তারা হিন্দি ‘জব তক হ্যায় জান’ এর অনুবাদ বা জি বাংলা সিরিয়াল ‘বোঝেনা সে বোঝেনা’র পান্ডুলিপি বি এ ক্লাসে দিয়ে দিতে পারে। এতে শিক্ষার্থীদের আর নকল করে পাশ করতে হবে না। এমনিতেই সবাই এ প্লাস পাবে।
সূর্য দীঘল বাড়িতে ফকিরের চ্যালা যখন জয়গুন কে ঘরের মধ্যে একলা পেয়ে ইভটিজ করে তখন জয়গুন হাতে থাকা চুনের ঘটটা চ্যালার মুখে ছুড়ে মারে এবং বলে- কুত্তার পয়দা, বাইর অ ঘরতন!আপনার বর্ণনামতে ফকির অপমানিত হয়ে বের হয়ে যায় এবং সেই চুনকালি মাখা মুখ আর কখনো দেখাতে আসে নাই। আপনার যথেষ্ট দূরদর্শিতা থাকলে আপনি এভাবে এই এপিসোড শেষ করতেন না। আপনি চ্যালা কে দিয়ে জয়গুন কে রেপ করাতেন এবং কলমের মুন্সিয়ানায় দেখিয়ে দিতেন এই রেপের ঘটনার জন্য আসলে জয়গুন ই দায়ী!
ভবিষ্যতে বাংলায় গল্প উপন্যাস লিখলে আরো সাবধানে লিখবেন। মেয়েদের কে জয়গুন না বানিয়ে ‘কোমল প্রেম পন্য’ বানিয়ে লিখবেন। মাঝে মাঝে ফেসবুকে আপডেট দেবেন। আমরা লাইক দিয়ে আপনাকে সেলিব্রেটি বানিয়ে দেব!
ইতি,
বিবর্তিত পিশাচ প্রজন্মের একজন অচল মাল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


