ওয়ান ডে সিরিজের পর টি টুয়েন্টি তেও পাকিস্তান কে পর্যুদস্ত করল বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জয়ের ট্রফি নিল বাংলাদেশ ক্যাপ্টেন মাশরাফি। কিন্তু পুরোটা খেলা বা খেলা পরবর্তী অনুষ্ঠান, কোথাও রইল না তাদের স্মরণের ছাপ- যারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম দৃষ্টান্তের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছিল অথবা পঙ্গু হয়েছিল আজ থেকে দূ’বছর আগে ঠিক এই দিনে। রানা প্লাজার হতভাগ্য গার্মেন্টস শ্রমিক দের মধ্যে এমন অনেকে নিশ্চয় ছিল যারা বাংলাদেশের জয়ে আমাদের মতই হুল্লোড়ে মেতে উঠত।‘তাসকিন ম্যারি মি’ বলার মত বা ভাবার মত সাহস সঞ্চয় করে উঠতে না পারলেও মনে মনে নিশ্চয় ভাবত- ইস তাসকিন ভাই কি ভাল খেলে!
এই সাধারন শ্রমিকদের বাদ দিয়ে দেশের বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত গার্মেন্টস অচল। এরা কেউ তারকা নয়। কিন্তু এরা সবাই মিলে এমন একটা নৌকা চালায় যে নৌকা ভর্তি হয়ে আসা ডলার ইউরোর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ ফল ভোগ করে অনেকে বড় বড় ব্যবসায়িক, রাজনৈতিক বা চলচ্চিত্র তারকারা। কোন রাষ্ট্রে সবকিছু যখন পয়সা দিয়ে কেনা যায় তখন টাকার খেলায় একবার জিতে গেলেই ক্রমাগত জিততে থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। টাকার খেলায় যারা জিতে তাদের কাছে ‘খেলে এবং না খেলে পরাজিত’ রা কারনে অকারনে ধর্ণা দেয়। যারা জয়ী তাদের মোক্ষম একটা ধারনা তখন জন্মে যায়- যে পৃথিবীর সকল স্বল্প আয়ের মানুষ আসলে কোন না কোন ভাবে তাদের করুণায় বেঁচে আছে এবং সেই কারনে তারা সেই সব স্বল্প আয়ের মানুষদের প্রভু স্থানীয়। এভাবেই ‘দূর্নীতি নিয়ন্ত্রিত’ রাষ্ট্রের অধিকাংশ মানুষ সীমিত সংখ্যক চতুর মানুষের ইচ্ছের দাসে পরিণত হয় এবং এ ধরনের রাষ্ট্রে মানুষ বলে কোন কিছুর অস্থিত্ত্ব থাকেনা। এখানে যারা থাকে তারা হয় ছোটলোক অথবা বড়লোক। ছোট লোকের মৃত্যু এখানে ততক্ষন খবর থাকে যতক্ষন এটার ‘সেল ভ্যালু’ থাকে! সেল ভ্যালু শেষ-ছোট লোকের জন্য নষ্ট করার সময় ও শেষ।
রানা প্লাজা ধবসে যারা মরে গেছে বা পঙ্গু হয়ে গেছে তাদের মানুষ ভাবলে আজকে বাংলাদেশ কাল ব্যাজ পরে খেলতে নামত। আজকের জয় টা তাদের উতসর্গ করা হত। প্রধান্ মন্ত্রী যদি সত্যিকারের সাধারন মানুষের মন্ত্রী হতেন তাহলে তাদের কথা একবার অন্তত স্মরণ করতেন।এই জয়টাকে তখন সত্যি সত্যি সাধারন মানুষের জয় বলা যেত।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


