somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অমানবতার নৌকা

২২ শে মে, ২০১৫ রাত ১০:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাগরে ভাসতে থাকা অসহায় মানুষদের কথা চিন্তা করে কদিন ধরেই মনের মধ্যে অসম্ভব তোলপাড় চলছিল। কঠিন একটা প্রশ্ন মনের মধ্যে জেগে উঠেছিল। যেকোন মূল্যে জেতার সর্বনাশা রেস ই ত একটা সমাজের চুড়ান্ত দূর্নীতিগ্রস্ত কাঠামো তৈরি করতে পারে। সেই সমাজ কাঠামোতে কারো অতিরিক্ত টাকা থাকলে দিন কে রাত বলে ‘সত্যায়িত’ করতে পারে। জীবিত একজন মানুষ টাকার বিনিময়ে সংগ্রহ করতে পারে তার ডেথ সার্টিফিকেট। ধরা যাক সেরকম সমাজে একজন মানুষের সন্ধান মিলল যে জীবিত এবং যার নামে একটা ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা আছে। তাহলে ব্যাপার টা কি দাঁড়াল? একজন মানুষ বাস্তবে জীবিত কিন্তু কাগজপত্রে মৃত। প্রকৃত বাস্তবতা বলছে মানুষ টা জীবিত। দূর্নীতিগ্রস্ত সমাজের কাগুজে বাস্তবতা বলছে মানুষ টা মৃত। এখন আপনি কোনটাকে গ্রহণ করবেন? মানুষ ত আর শ্রোডিঞ্জারের বিড়াল নয় যে অর্ধেক জীবিত আর অর্ধেক মৃত হবে! তাহলে যেকোন একটা সত্য কে আমাদের গ্রহণ করতে হবে। হয় বাস্তব সত্য গ্রহণ করে তার ডেথ সার্টিফিকেট টা পুড়িয়ে ফেলতে হবে অথবা কাগজের সত্য গ্রহণ করে মানুষ টাকে হত্যা করতে হবে। সমাজের কাছে যদি মানবতা মূখ্য হয় তাহলে কাগজ পোড়ানো হবে, মানুষ টাকে বাঁচিয়ে রাখা হবে। আর সমাজের কাছে যদি দূর্নীতির কারখানায় উৎপন্ন কাগজের টুকরা টি মুখ্য হয় তাহলে কাগজ সোনা দিয়ে বাঁধানো হবে, মানুষ টাকে পুড়িয়ে মারা হবে।

ঠিক এরকম একটা কঠিন প্রশ্নের মুখেই যোগাযোগ সর্বস্ব এই পৃথিবীকে ফেলে দিয়েছিল অমানবিক নৌকায় সাগরে ভাসতে থাকা অসহায় মানুষ। পৃথিবীর নিয়ম কানুন এসব মানুষ কে সকল প্রকার স্থল ভূমিতে অনাহুত করেছে। তোমাদের কোন স্থলভুমিতে থাকার কাগুজে বৈধতা নাই, কাজেই তোমরা সাগরে ভাসতে থাক অথবা কোন অলৌকিক উপায়ে মাছে পরিনত হয়ে জলে ঝাঁপ দাও! কারণ কাগজ এবং স্বার্থবাদী মগজ অনুযায়ী তোমরা মনূষ্য গোত্রের অন্তর্ভুক্ত নও। আমি একবুক হতাশা নিয়ে বিশ্বমানবতার চেতনা দ্রবনের তলায় পড়ে যাওয়া মানবিকতার অধঃক্ষেপ টুকুর জন্য অপেক্ষা করছিলাম। আজকে পত্রিকায় যখন পড়লাম মালেশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া এই হতভাগ্য দের সাময়িক ভাবে আশ্রয় দিতে রাজী হয়েছে তখন বুক টা খানিকটা হলেও ঠান্ডা হল। ‘পৃথিবীটা ধ্বংশ হয়ে গেছে’ এই দূঃসহ অনুভুতি থেকে আমি কিছুটা হলেও মুক্তি পেলাম।

তবে এতে চুড়ান্ত খুশি হবার কিছু নেই। অসহ গরমে সমুদ্রের লোনা জলের ঝাপ্টায় স্বল্পায়তন নৌকায় বিভিন্ন বয়সী নারীপুরুষ কে যে জান্তব নারকীয় জীবন যাপন এতদিন করতে হয়েছে( নাকি এখনো করতে হচ্ছে? ওদের ইতোমধ্যে আশ্রয় দেয়া হয়েছে কিনা জানিনা) সেটা তাদের প্রাপ্য নাকি প্রাপ্য নয় সেটা ঠিক করতে জ্ঞানপাপীদের ঘাম জমাট বেঁধে ঘি হয়ে গেছে। সেই নৌকায় থাকা শিশুদের কেউ নিশ্চয় সমুদ্রের বুকে আচমকা ভেসে উঠা কোন মাছের দিকে তাকিয়ে মনে মনে ভেবেছে- ইস যদি মাছ হয়ে জন্মগ্রহণ করতাম!!

ভয়ঙ্কর মানবতাবিরোধী যে ‘টাকাবাদ’ পৃথিবীর মানবতা ধ্বংশ করে দিচ্ছে সেই টাকাবাদ কিভবে ধ্বংশ করা যায় সেটা নিয়ে ভাবার এটাই শ্রেষ্ঠ সময়। বিজ্ঞান পৃথিবী তে একধরনের যোগাযোগসাম্য প্রায় প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছে। সামান্য সুখশান্তিময় জীবন যাপনের জন্য অঢেল টাকা পয়সা, জমিদারির এখন আর প্রয়োজন নাই। মানুষ এখন চাইলেই ‘সব মানুষের পৃথিবী নির্মাণ’ প্রজেক্ট বাস্তবায়নের চিন্তা করতে পারে। সুখী হবার জন্য এক শ্রেনীর মানুষের ভয়াবহ টাকা দানবে পরিনত হয়ে আরেক শ্রেনীর মানুষ কে ইতরজীবন যাপনকারী দাস এবং আরেক শ্রেনীর মানুষ কে মাছ বা অন্য প্রানী হয়ে জন্মগ্রহণ না করার জন্য আফসোস করানোর কোন প্রয়োজন নাই।
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেরা লেখক

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৭



বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো লেখক এক কথায় - হুমায়ূন আহমেদ। হুমায়ূন আহমেদের লেখা উপন্যাস মধ্যাহ্ন বা দেয়াল - এর পাশাপাশি রাখার মতো বাংলাদেশে আর কোনো উপন্যাস আছে কিনা আমার জানা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=ডায়াটে একদিনের খাবার=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১

ডায়াটের প্রথম দিকে-একদিনের খাবার। বর্তমানে আমাদের দেহে রোগসুগের অভাব নাই। ডায়াবেটিস, প্রেসার, ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগ বলা নাই কওয়া নাই শরীরে এসে বাসা বাঁধে।

আর এসব রোগের একমাত্র কারণ আনহেলদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×