আইনস্টাইনের বিখ্যাত জেনারেল থিওরি অভ রিলেটিভিটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত হয়েছিল।আজকের ২০১৫ সাল অর্থাৎ জেনারেল থিওরি অভ রিলেটিভিটি প্রকাশের ১০০ বছর পূর্তিতে আইনস্টাইনের মনে হল পৃথিবীতে গিয়ে দেখে আসা দরকার জ্ঞান বিজ্ঞানের কি অবস্থা। স্পেস টাইম সম্পর্কে ১০০ বছরে মানুষের ধারনা কি পরিবর্তন হল সেটাও দেখা দরকার।
অমর্ত্যলোক হতে মর্ত্যলোকের কোন নির্দিষ্ট জায়গায় অবতরণ না করে স্থলভাগের যেকোন এক জায়গায় অবতরণ করবেন বলে তিনি মনস্থির করলেন। এর নাম র্যান্ডম সিলেকশন। পৃথিবীর যেকোন একটা জায়গায় সাধারণ মানুষের বিজ্ঞান চেতনা কতদূর আগাল পরীক্ষা করে দেখা!
রাত সোয়া আট টার দিকে আইনস্টাইন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি কাঁচাবাজারে অবতরণ করলেন। অফিস ফেরতা অনেকে বাজার করতেছিল। আইনস্টাইনের দিকে কেউ তেমন বিশেষ দৃষ্টিপাত করল না। বরং আইনস্টাইন নিজেই বাজারের একটি নির্দিষ্ট স্থানে তরকারী বিক্রির একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার উপর দৃষ্টিপাত করলেন।ঝাঁকার উপর রাখা সবুজ রঙের চিচিঙ্গা, ধুন্দুল, বেগুন, লাউ, কাকরোল এর উপরে যে একশ ওয়াটের বাল্ব ঝুলছে সেটাকে সবুজ রাংতা কাগজ দিয়ে মুড়ে দেয়া হয়েছে। ফলে তরকারী থেকে কেবল সবুজ আলো প্রতিফলিত হয়ে তরকারী কে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সবুজ দেখাচ্ছে। এই তরকারী কিনে নিয়ে বাসায় গিয়ে যখন দেখবে তখন ক্রেতার কাছে তরকারী কে স্বাভাবিকের চেয়ে কম সবুজ মনে হবে। কারণ, ক্রেতার মাথায় থাকবে সবুজ রাংতা কাগজে মোড়ানো বাল্বের আলোয় আলোকিত তরকারীর অধিক সবুজ রঙ! এক্ষেত্রে ক্রেতা কি করতে পারে? সে যদি নিজেকে বিভ্রমের মধ্যে রাখতে চায় তাহলে তার কিচেনের বাল্বও একটা রাংতা কাগজ দিয়ে মুড়িয়ে দেবে! আর যদি নিজেকে বিভ্রম থেকে মুক্ত করতে চায় তাহলে তরকারী কেনার আগে তরকারীর উপর ঝুলিয়ে দেয়া বাল্ব থেকে রাংতা কাগজ টা খুলে নেবে! আইন্সটাইন সিদ্ধান্ত নিলেন- এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই পর্যবেক্ষণ করবেন ক্রেতাদের মধ্যে কতজন নিজেকে মানসিক বিভ্রমের ভেতর রাখতে চায় আর কতজন নিজেকে মানসিক বিভ্রম থেকে মুক্ত করতে চায়। একশ জনের মধ্যে দশ জন যদি নিজেকে বিভ্রমের মধ্যে রাখতে চায় তাহলে এই স্থানের মানুষের ‘মানসিক বিভ্রমাংক দশমিক এক’ বলা যাবে।
আইনস্টাইন যতক্ষনে একশ ক্রেতা গুনে শেষ করলেন ততক্ষণে বাজার খালি হয়ে এসেছে, সবুজ তরকারী সব বিক্রি করা শেষ হয়ে গেছে। একটা ঝাঁকায় কেবল দুতিন কেজি আলু পড়ে আছে এবং আইন্সটাইন তীব্র হতাশ হয়ে লক্ষ্য করেছেন এই এলাকার মানুষের মানসিক বিভ্রমাংক পুরোপুরি এক অর্থাৎ একশ পার্সেন্ট! যখন অমর্ত্যলোকে ফিরে যাবার কথা ভাবছেন তখন দেখলেন নাদুস নুদুস ভুঁড়িওয়ালা এক মধ্য বয়েসি লোক থলে হাতে বাজারে প্রবেশ করলেন। লোকটার চোখে মোটা কাঁচের চশমা, ভ্রু পাকা, থুতনিতে ছাঁটা ছাগুলে দাড়ি। ‘এই ভদ্রলোক নিশ্চয় জ্ঞানী হবে’ এই কথা ভেবে আইন্সটাইন তার সাথে কথা বলার জন্য এগিয়ে গেলেন। যা ভাবছিলেন তাই! ভদ্রলোক আইন্সটাইনের দিকে ‘আপনাকে কোথায় যেন দেখেছি’ ভঙ্গিতে তাকিয়ে আছেন! আইন্সটাইন সামনে এগিয়ে গিয়ে বললেন-
- হাই, আমি আইনস্টাইন!
- হায় হায়! এজন্যই ত কই চিনা চিনা লাগে! ফাঁস প্রশ্নপত্রে আপনার ছবি দেখেছি!! আমি মোঃ কুতুব আলী। পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। কোচিং সেন্টারে ক্লাস নিয়ে একটু আগে বাসায় ফিরেছি। বিবি ছাহেবা আবার আলু কিনতে বাজারে পাঠালেন! তা আলুর বেগ নিয়ে আপনার নাকি কি একটা সূত্র আছে?
- আলুর বেগ নয়, আলো্র বেগ। সূত্র নয়, অনুসিদ্ধান্ত!
- অই হইল।দেখি আপনার আলুর বেগের সুত্র বলেন!
- আপনি একজন পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। আপনি যদি আলোকে আলু বলেন! অনুসিদ্ধান্ত কে সূত্র বলেন!!
- এদেশে সরকার থেকে মূর্খতা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে!নিয়ম করে দেয়া হয়েছে সবকিছুর আগে আপনাকে মূর্খ হতে হবে। তারপর আপনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তার, সাংবাদিক, লেখক, প্রকাশক, পাঠক যা ইচ্ছা হতে পারবেন। আপনার সমস্ত ডিগ্রীর সাথে মূর্খতা গুননীয়ক হিসাবে না থাকলে এদেশে কুকুরের জীবন আপনার জীবনের চাইতে অনেক বেশি নিরাপদ!
অধ্যাপক কুতুব আলীর কথা শুনে আইনস্টাইন বেশ মজা পেলেন। কোটের পকেট থেকে কাগজ কলম বের করে কুতুব আলীর সামনে ধরলেন। তারপর বললেন-
- দেখি আপনার বক্তব্য টুকু এই কাগজে সমীকরণ আকারে লিখুন ত। লিখে ডেট দিয়ে দিন!
অধ্যাপক কুতুব আলী হাতের বাজারের থলে নামিয়ে রাখলেন। তারপর আইন্সটাইনের হাত থেকে কাগজ কলম নিয়ে লিখলেন-
বাংলাদেশের একজন নিরাপদ উচ্চ শিক্ষিত মানুষ = মূর্খXপিএইচডিXফেলোXস্পেশালিস্টXমাস্টার্সXব্যাচেলরX….
তারপর ডেট দিয়ে দিলেন।
আইনস্টাইন কাগজ কলম পকেটে পুরতে পুরতে বিস্মিত হয়ে কুতুব আলীর দিকে তাকিয়ে রইলেন। কি অসহায় লোকটা! সমাজের নৃসংসতার নিয়ম মেনে নিজেকে একজন কৌতুহলী মানুষ থেকে দিনে দিনে একটা মূঢ় পোকায় পরিনত করছে! ‘যখন তখন বাজারে গিয়ে এককেজি আলু কিনে আনার স্বাধীনতা’র বিনিময়ে লোকটা নিজেকে বুদ্ধিবৃত্তিক পরাধীনতার শৃংখলে চিরদিনের জন্য বন্দি করে ফেলেছে!!
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা নভেম্বর, ২০১৫ বিকাল ৩:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



