somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শেল ইকো ম্যারাথন এবং একটি বাংলাদেশ

৩১ শে আগস্ট, ২০১৪ দুপুর ২:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যাত্রা পথের সূচনাটা সামুর হাত ধরেই । অন্য রকম ধ্রুব ভাই এর লিখা থেকে জেনেছিলাম প্রথম কোন কম্পিটিশন হতে যাচ্ছে এই দেশে যেখানে প্রতিযোগিরাই বানাবে গাড়ি আর সেই গাড়ি দিয়েই হবে প্রতিযোগিতা ।ইকো রানের খবরটা দেখার পর থেকে সামুতে আসতাম শুধু আপডেট এর জন্য ।উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের জন্য কম্পিটিশন উন্মুক্ত ছিল না বলে দুঃখের ও শেষ ছিল না ।

সময় তো বসে থাকে না কিন্তু বসে ছিল সেই ইকো ম্যারাথন । পুরো ১.৫ বছর । মাধ্যমিকের গন্ডি ঠেলে আমরাও তখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ।হচ্ছে না হচ্ছে না করে ঠিক ২০১৩ সালে হঠাৎ করেই হয়ে গেল কম্পিটিশন টা । এবারের দুঃখ অনেক বেশি । নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন প্রতিযোগী নাই যেখানে বরিশাল টেকনিক্যাল কলেজে ও অংশ নিয়েছে । তবে অনুষ্ঠান এর দিন সকালে ভেন্যুতে গিয়েই মন ভালো হয়ে গিয়েছিল । প্রতিটি টিম এর কর্ম চঞ্চলতা সেদিন এত বেশি মুগ্ধ করেছিল যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরত এসে সিদ্ধান্ত নিয়ে ছিলাম আমরা বানাব গাড়ি । দ্বিতীয় বার কোনভাবেই এই সুযোগ এলে মিস করা যাবে না ।

কথাটা রাখতে পেরেছি আলহামদুলিল্লাহ কিন্তু ইকোরানের আর কোন খবর নাই ।নিজেদের বাইকের ইঞ্জিন , জমানো টাকা খরচ করে গাড়ি বানিয়ে বসে আছি রেজিষ্ট্রেশনের আশায় কিন্তু সেই সুযোগ আর আসে না ।প্রাইভেট ভার্সিটিতে পড়ি বলে অনেকেই ভাবেন আমাদের টাকার কোন শেষ নেই , সুযোগের কোন কমতি নেই । বাবা-মার আলালের দুলাল আমরা । চাইলেই করে ফেলতে পারি অনেক কিছু ।কিন্তু আমাদের অভিজ্ঞতা থেকে বারবার দেখেছি ,আমাদের কাজগুলোতে সর্বদা যে মাপের বাধা আসে ,সেখানে নিজে থেকে কিছু করতে গেলেও শেষ করা হয়ে উঠে না । কিন্তু মাথার উপর বড় ভাই সমতুল্য একজন টিচারের সমর্থন ছিল বলে এত একাডেমিক জটিলতার ভীড়েও কাজটা শেষ করতে পেরেছিলাম । কোর্স ওয়ার্কের বাইরে ছিল তবুও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা আর সময় দিয়ে বলেছেন "আরেহ ছোট ছোট ঝামেলা তো একটু হবে , কাজ থামিয়ে দিও না , দেখো শেষ হয়ে যাবে ইনশা-আল্লাহ" ।



অবশেষে শেষ হলো কিন্তু যার জন্য শেষ করলাম তার দেখা নাই ।এখন উপায় ? নিকট ভবিষ্যতে দেখা মিলবে কিনা তার উত্তর জানা নাই । অগত্যা দেশের বাইরে কিছু হয় কিনা সেটাই খুঁজতে শুরু করলাম আমরা ।পেয়েও গেলাম । কিন্তু আমাদের উপর বিশ্বাস রাখতে রাজি ছিলেন না সম্মানিত শিক্ষকেরা । কারণ এত বড় কম্পটিশনে আমরা যেতে পারব , অনুমোদন হবে কিনা তা নিয়েই ছিল রাজ্যের ভয় ! কিন্তু অবিচল হয়ে বারবার যখন বলেছি তখন এক এক ধাপের অনুমোদন পেয়েছি ।

স্যারদের যখন বলেছি ভার্সিটির অনুমোদন লাগবে, স্পনসরের টাকা লাগবে (কারণ এই গাড়ি দিয়ে শেল ইকো তে যাওয়া যাবে না, সেখানে বাঘা বাঘা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের বেস্ট কাজ নিয়ে হাজির হয় এবং এই বেস্ট কাজের নমুনা আগে শেল থেকে অনুমোদিত হতে হয় , তার পর কাজ শুরু করতে হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর গাড়ি বানিয়ে কম্পিটিশনে যাওয়া নিশ্চিত কিন্তু দ্বিতীয় দফা পরীক্ষা হবে শেল এর ল্যাবরেটরীতে । সেখানে কথিত মাপ-জোক এর সাথে একচুয়াল এর কতটা রকমফের আছে তার নিরীক্ষা চলবে এবং ছোট ভুল ত্রুটি কিছু থাকলে নেগেটিভ মার্কিং আর বড়-সর গোলমাল মানেই বিদায় ) তখন প্রাওরেটি অনুযায়ী আমাদেরকে কাজ করতে বলা হয়েছিল কারণ এত বড় কিছু , মাত্র ৭-৮ দিনে করে ফেলতে পারব না বলেই হয়ত এমন টা বলেছিলেন । কিন্তু ডিজাইন, প্ল্যান জমা দেবার পর সাফল্যের সাথেই উত্রে গিয়েছি আমরা ।

নিচে আমাদের প্ল্যান , ডিজাইন আর রেজাল্ট শেয়ার করলাম নিচে








বিগত বছরে দেশের কোন নাম ছিল না আয়োজকদের লিষ্টে , যা বারবার মর্মাহত করেছে আর তাই ছোট্ট এই ব-দ্বীপ (বাংলাদেশ ) নাম টা আনতে আমাদের সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করেছি ।



কিন্তু বিপর্যয়ের শুরু এখান থেকে ! বিপর্যয় বল ফেলেছি কারণ আমাদের পর্যায়ের সর্বোচ্চ দিয়ে আমরা আমাদের কাজ করেছি । এখন শুধু আমি/ আমরা ৬ জন মিলে এই কাজ করতে অপারগ ।এই প্রতিযোগিতাটা যদি শুধু গাড়ির ইফিসিয়েন্সি বাড়ানোর কোন প্রতিযোগিতা হত তবে কোন কথা ছিল না ।কিন্তু শুধু গাড়ি তৈরি শেল ইকো ম্যারাথনের উদ্দেশ্য নয় । একটি দেশের ভবিষ্যত গাড়ি কেমন হবে , সেই গাড়ি তাদের ব্যবসায়ীদের কিভাবে বাণিজ্য করতে সহয়তা করবে , নতুন প্রকৌশলীদের মেধার বিকাশ এবং সর্বোপরি একটি দেশের কৃষ্টি-কালচারের প্রভাব সবকিছুই এর প্রতিযোগিতার অন্তর্গত । তাই শেল এর কথাগুলোই তুলে ধরলাম নিচে



প্রথম এত বড় কোন আসরে যেতে চাচ্ছি বলে আমরাও কিছুটা নার্ভাস তারপর সহজে আমাদের কাজের উপর বিশ্বাস করতে চান কেউই ।আমরাও আশা করি না একদিনে সকলের বিশ্বাস প্রাপ্তিতে, শ্রম আর মেধা দিয়েই অর্জন করতে চাই ।কিন্তু সময় এত স্বল্প আর প্রজেক্ট এত বড় আর আমাদের একা/৬ জনের সাধ্যের মধ্যে নেই এবং স্পন্সরশীপ নেয়াটা প্রতিযোগিতার একটা অংশ । শেল নিজেই জায়ান্ট তেল ব্যবসায়ী , তাই ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষা তারা করবে তা জানা কথা । কিন্তু মোটের উপর লাভ , সবার । একা কেউ লাভবান হচ্ছে না ।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে ৮ তারিখের মধ্যে আমাদের নিমোক্ত অংশ পূরণ করে জমা দিতে হবে



টাকাটা ৮ তারিখের মধ্যে মুখ্য না কিন্তু তাদের অনুমোদন আছে , সেটাই খুব জরুরী আমাদের জন্য ।শুধু শুধু তো টাকা দিবে না কেউ। তাদের প্রচারণা-প্রসার সব কিছু প্রতিযোগিতার নিয়মেই বলা আছে । দেশে, বিদেশে, সব জায়গাতে স্পন্সর রা তাদের পূর্ন ফিডব্যক পাবেন। আর আমাদের দেশে ৪-৫ লাখ টাকার স্পন্সরশীপ তো হরহামেশাই দিচ্ছে সেখানে একটা ইন্টারন্যাশনাল ইভেন্টে স্পন্সরশীপ চাওয়াটা কি খুব বেশি কিছু ?

এবার আসা যাক পার্শ্ববর্তী দেশের ছেলেদের কথায় । ভারত আর পাকিস্তান থেকে প্রতি বছর কতগুলো টিম যাচ্ছে তার একটা ছবি উপরেই দেয়া আছে ।তাদের দেশের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে কিন্তু শুরু করতে তো মানা নেই । এ বছর একটা টিম গেলে আগামী এই ধারা ক্রমানুযায়ী বাড়তেই থাকবে যা আমাদের দেশের জন্য মঙ্গলের । সেই ভারত - পাকিস্তানে কিন্তু শুধু অটোমোবাইল কোম্পানি স্পন্সর করে না । শিল্পগ্রুপ, টেলিকম, মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠান , ব্যাংক , সফট ওয়্যার ইন্ডাষ্ট্রিগুলো প্রতি বছর স্পন্সর করে তাদের ।




পাকিস্তানের গত বছরের এই টীম এর মূল স্পন্সর কিন্তু আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি পরিচিত টেলিকম সংস্থা গ্রামীণ ফোন। BMW এর মত প্রতিষ্ঠান পাবার তো কোন আশা নাই কারণ সবাই জানি অটোমোবাইল সেক্টরে আমাদের কি দশা । তবে অন্তত একটা সাবান-বিস্কিট কোম্পানি তো আশা করতে পারি এই দেশে যাদের লোগো আমরা গর্ব করে গাড়িতে লাগাব । আমাদের হাতে সময় আসলে খুব কম । তাই সবার কাছে অনুরোধ যদি কোনভাবে সহায়তা করার মত অবস্থানে থাকেন ( লিঙ্ক দিয়ে, ব্যবসায়ী হলে স্পন্সর দিয়ে ), দয়া করে সাহায্য করবেন । আপনাদের একটু খানি সহায়তা খুব বেশি কিছু করবে আমাদের জন্য ।অন্তত একটি বার দেশের পতাকাটা উড়াতে পারব ভিন্ন সংস্কৃতিতে , ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের সামনে ।

শেল ইকো ম্যারাথন আর টিম নিয়ে ডেইলি স্টারে একটা রিপোর্ট

টিমের ফেসবুক লিঙ্ক









































































সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এইচ এস সি রেজাল্ট ২০২৬ -ঢাকা বোর্ড

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৯

খুব অদ্ভুত ব্যাপার। আমাদের সময়ে চলে এলো নাকি? সেই চার দশক আগের মতন !
যা তথ্য পেলামঃ

In the 2026 HSC examinations, a total of 297,621 candidates appeared... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের হ্যালোইন উদযাপন

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৩


আজ ছিল হ্যালোইন। এই উৎসব ফসল কাটার মৌসুমের শেষ ও শীতের শুরু - এই উপলক্ষে হলেও বছরের এ সময়ে কানাডায় ঠান্ডা পড়ে যায়। তবে আজ আবহাওয়া ছিল ভালো। সারাদিন রোদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৫



সেই মেয়েটিকে খোঁজ....

ফরাসি ভাষায় বহুল প্রচলিত একটি বাক্য- Cherchez la femme। অর্থাৎ, ‘সেই মেয়েটিকে খোঁজ’।

ফরাসি লেখক আলেকজান্ডার ডুমা (Alexandre Dumas) ১৮৫৪ সালে তাঁর উপন্যাস Les Mohicans de Paris-এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×