somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রম্য রোমান্টিক গল্প..... 'চুম্বন'

২১ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


লিপি নন্দী নামে আমার এক বান্ধবী ফ্রান্সে থাকে। গত সপ্তাহে সে দেশে ফিরেছে। আসলে ওর নাম লিপি নন্দী না আমি ওই ছদ্মনামটা দিয়েছি। যদি আসল নাম দিলে মানহানি মামলা করে এই ভয়ে! দেশে ফিরেই সে আমাকে ফোন করল। পদ্মার উপর স্টিমারের উপর সে চরাট করবে। মানে ‘Journey by steamer on the pad-ma’ আর কি! আগামি কালই যেতে হবে। আমি আমার মামা রুবজ এ রহমানকে বিষয়টি খুলে বললাম, সেই সাথে আবদারও করলাম আমার সাথে যাতে হেল্পার হয়ে যায়। অবশ্য উনার বহু প্রেমের ডেটিংয়ের ক্ষেত্রে আমি বিনা পারিশ্রমিকে চকিদারির মহান দায়িত্ব পালন করেছি! আমি তো আর ওনাকে চৌকিদার বলতে পারি না, হাজার হোক মামা তো! তাই হেল্পারই বললাম। কি বুঝে যেন মামা রাজি হয়ে গেল।
পরের দিন আমরা রওয়ানা হয়ে গেলাম। রওয়ানা হওয়ার আগে মামা বলল- হলুদ পাঞ্জাবি পড়। আমি বললাম- আমার হিমুর মত উজবুক হওয়ার ইচ্ছে নেই। মামা আর কথা বাড়ালেন না। শুধু বললেন- তোর যা ভাল লাগে তাই পড়। টি শার্ট জিন্স পড়লাম। এ আমার চির ভাললাগার পোশাক। এ যেন সেই বিজ্ঞাপনের মত- “রুচি চানাচুর ইয়া জম্মের মজা!” প্রায় ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম সেই স্টিমারে। লিপির চোখে ছিল কালো সানগ্লাস। পোশাকও পড়েছিল ধবধবে সাদা। ওর সানগ্লাসের ভিতর দিয়ে পুরো পৃথিবীকে রঙিন মনে হয়। পৃথিবীকে যৌবনবতী মনে হয়। আমাকে দেখেই তার শুশ্রী দাঁত বের করে চিরপরিচিত হাসি দিল। ওর দাঁতগুলো মুক্তোর দানার মত। ও হাসলে যেন পৃথিবী হাসে!
আমার দিকে হ্যান্ডসেক করার জন্য হাত বাড়িয়ে দিয়ে বলল, Nice to meet you. আমিও খুশিতে গদগদ হয়ে বললাম- Seme to u. মামাকে দেখিয়ে বললাম, ইনি আমার মামা রুবজ এ রহমান। লিপি সালাম দিল। মামা ভেবেছিল ওয়েস্টার্ন শিক্ষায় শিক্ষিত মেয়ে হয়ত হাত বাড়িয়ে দিবে আর এই ফাঁকে একটু ছুয়েও দেখা যাবে তাকে! কিন্তু সে আশার যেন গুড়ে বালি! মামার সাথে আরও কিছু কুশলাদি বিনিময় করল সে। এরপর মামা বললেন- তোমরা কথা বল আমি একটু আসছি।
আমরা দুজনেই ছিলাম স্টিমারের সামনের একেবারে কিনারের দিকে। স্টিমারটি তখন ঢেউয়ের কারণে বেশ দুলতেছিল। আমি কী একটা কথা বলাতে ওর এমন হাসি পেল যে হাসতে হাসতে আর নিজের ভারসাম্য রাখতেই পারলো না, পানিতে পড়ে গেলো। আর আমিও এমন উজবুক সে পড়ে যাচ্ছে জেনেও ধরার কথা মনে ছিল না! আমি চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দিলাম। চারদিক থেকে মানুষ হুমরি খেয়ে পড়ল ব্যাপরটি কী তা দেখার জন্য। কিন্ত কেউ এ কুচকুচে পানির মধ্যে আর নামার সাহস পেল না।
পরের ঘটনা খুবই ভূতুরে। আমি স্টিমারেই ছিলাম কিন্তু হঠাৎ দেখলাম আমি পানিতে। বুঝতে পারলাম না, ভূতপ্রেত কেউ আমাকে ধাক্কা মেরে পানিতে ফেলেছে না কি আমার গুনধর মামা…! পানিতে পড়ে আমার জিন্স প্যান্টের ওজন আমার চেয়েও ভারি মনে হল। ক্রমেই যেন আমি ঢেউয়ের তলানিতে তলিয়ে যেতে থাকলাম। হঠাৎ দেখলাম লিপির হাত উপরের দিকে। সহসা বাঁচার ইচ্ছে আরও তীব্র হল। আমি তখন বীরের মত প্রাণপণে ওকে বাঁচানোর চেষ্টা করলাম। লিপি বোধ করি সাঁতার জানে না। আমি তার হাত ধরতেই সে মাথা বের করে আমাকে ঝাপটে ধরল। তাকে অনেক বেশি ওজনের মনে হল। পানিতে পড়ে নিরুপায় হয়ে পানি খেয়ে সে ওজন যেন আরও দ্বিগুণ বেড়ে গেছে! আমি ওর দিকে তাকাচ্ছি। এখন আর ওর চোখে সে চশমা নেই। ওর ডাগর চোখে সেকি বিষ্ময়! গত শতকে এ রকম ডাগর চোখ বোধ করি আমিও কোথাও দেখি নি। এ রকম চোখের দিকে কয়েকশ বছর অনায়াসেই তাকিয়ে থাকা যায়!
আমি তখনও ফান করে চলেছি। হেসে বলছি- ও আনার কলি! সেও দেখলাম চোখ পিটিপিটি করে বলছে- ও সেলিম! আমি বললাম- আমি সেলিম না, আমি আলিম!!! লিপি চির পরিচিত ঢঙ্গে বলল- You so fanny! কিন্তু অবস্থা খুবই বেগতিক মনে হল। একে তো নিজের এবং জিন্সের প্যান্টের ভার, তার উপর আবার ওর দ্বিগুণ ভার! আমি ক্রমাগতই যেন তলিয়ে যাওয়ার পথে। এমন সময় কে বা কারা যেন উপর থেকে লাইফ সাপোর্ট টায়ার নিচের দিকে নিক্ষেপ করল । টায়ারটি সজোরে লাগলো লিপির মাথার পিছনে। তার মাথাতে লাগতেই তার ঠোঁট আমার ঠোঁটের উপর এসে পড়ল। আমার তখন বিষ্ময়ে কেবলি মনে পড়তে লাগলো- ভারতীয় ফিল্মের নায়ক ইমরান হাশমির ঠোঁট মিলানো সেই গান- আশিক বানায়া আশিক বানায়া...
আমরা তলিয়ে গেলাম। কিন্তু বাঁচার প্রবল ইচ্ছা শক্তির কারণেই সেদিন উপরে উঠতে পেরেছিলাম। ইঞ্জিনওয়ালা নৌকা যেমন বুটকে সামনে টেনে নেয় তেমনি আমিও লিপিকে টেনে তুলি। উপরে উঠতেই দেখি সেই লাইফ সাপোর্ট টায়ার ভাসছে। মুহূর্তেই ধরে ফেললাম সেটা। এরপর লিপিও ধরল সেটা। অপার বিষ্ময় নিয়ে দুজন দুজনের দিকে তাকাচ্ছি। মনে হল কয়েকশ বছর ধরে একে অপরকে দেখি না। এমন সময় উপর থেকে মামা ডাকলেন- ভাগনা! ওকে তো?
আমি মামার দিকে তাকাই। মামা হিটলারীয় ভঙ্গিতে আমার দিকে পিটিপিটি করে তাকায়। আমিও তাকাই। মামা তখন, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পর ড. ইউনুসের মত ৩২০০ দাঁত বের করে হো হো করে হেসে উঠলো। থুক্কু, ৩২টা দাঁত বের করে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।
ঘটনার এতদিন পর মনে হচ্ছে পানির নিচে আমি কি আরও কিছু করেছিলাম? থাক না সে কথা, বলতে ইচ্ছে করছে না, প্রকাশ করার ইচ্ছে নেই বলে!
......................................
২১.০৭.২০১৪
টিলাগড়, সিলেট


সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:০৯
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×