
১.
অপরাহ্ণের বিরহীভাব গায়ে মেখে ক্লান্ত পাখির মতো পাগলি বলে, ‘আজ খুব ঠাণ্ডা লাগের’। ক্ষীণকণ্ঠের মূর্ছনায় স্নান করে বরফ রঙের বয়সী আকাশ। অনুভূতির দরজা খুলে দক্ষিণা বায়ু সঙ্গীতের হৃদতন্ত্রীতে সুর তুলে। পাতার সবুজ আল্পনায় তখনো একসমুদ্র ঘোর! অপরিপক্ক রোদের ভেতর থেকে উঠে আসে রোমান্টিকতার পরাগরেণু, পাতালপুরীর সব অবিশ্বাস নিয়ে আমি নিজের শরীর ছুঁয়ে দেখি- নাহ্! আসলে তখনো আমার ঠান্ডা লাগেনি, কিন্তু তার তেঁতুলের মতো কণ্ঠের স্পর্শকাতর সুগন্ধিতে আমার ঠাণ্ডাই লেগে গেল!
২.
রোমান্টিকতার অসীম সমুদ্র অবগাহন করে আমি অবলীলায় বললাম- এমন দিনে... পাহাড়সম জড়তায় বাকীটা আর শেষ করতে পারিনি, কিন্তু তাতেই ক্ষেপে গেল পাগলি- অস্তাগফিরুল্লা! নাউজুবিল্লাহ!! নাউজুবিল্লাহ!!! আমার গলা ধরে আসে। সাহারার ধূসর মরীচিকা আমার বিবর্ণ শরীরে লেপের মতো লেপ্টে থাকে, অনুভূতির আঙিনায় গ্রহণের কাল কেবলি জানান দেয় বিলুপ্ত সভ্যতার কথা! মধ্যযুগের ভ্যাঁপসে গন্ধ একে একে ভীড় করে দৃষ্টির আঙিনায়। অপরিপক্ক অনুভূতির কাছে হার মানে অপরাহ্ণের গোপন সুখ।
৩.
শ্লোগান কাতর ফ্যাসফ্যাসে কন্ঠে আমি বলি - ‘নাউজুবিল্লাহ’ খিতার লাগি? পাগলি তখন হাসে। হেসে কুটিকুটি হয়। তার হাসির সমুদ্রে অবগান করে অপরাহ্নের শাদা মেঘ। কেবল আমিই তখন অভিমানের বৃষ্টিতে ভিজি, ভিজে একাকার হই। প্রলাপ বকা রোগীর মতো অস্ফুট স্বরে বলি- পাগলি!
------------------------------------
মুনশি আলিম
পূর্ব শিবগঞ্জ, সিলেট
২৫.০৪.২০১৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


