somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেজি - মুহম্মদ জাফর ইকবাল (তিন)

১৩ ই মে, ২০০৬ রাত ১০:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যেখানে মানুষের জনবসতি আছে সেখানে পায়ে চলার পথ তৈরি হয়ে যায় - এই দ্বীপটিতে
দীর্ঘদিন কোনো মানুষ থাকেনি বলে কোনো পথঘাট নেই। ভেতরে ঢুকতে হলে ঝোপঝাড় ভেঙে
ঢুকতে হয়, তিনজন সেভাবেই ঢুকেছে। সবার আগে জয়ন্ত। তার হাতে বড় কিরিচ - ঝোপঝাড়
বা বুনোলতা বেশি থাকলে সেটা কেটে পথটা খানিকটা পরিষ্কার করছে। জয়ন্ত থেকে কয়েক
হাত পেছনে শ্রাবণী। সবার পিছনে নিয়াজ। পা ফেলার আগে বাঁশের লাঠিটা দিয়ে মাঝে মাঝে
পরীক্ষা করছে। ঠিক কী কারণে কারোই সঠিক জানা নেই। বালুবেলায় প্রখর রোদ ছিল,
ভেতরে তার কিছু অবশিষ্ট নেই। বড় বড় গাছের ছায়ায় আলো-অাঁধারি একধরনের আবছা
অন্ধকার।
তিনজন চুপচাপ মিনিট দশেক হাঁটার পর শ্রাবণী হঠাৎ করে নিচুগলায় বলল, "থাম।"
অন্য দুজন সাথে সাথে থেমে যায়। নিয়াজ ভয়-পাওয়া গলায় জিজ্ঞেস করে, "কী
হয়েছে?"
"না, কিছু হয়নি।"
"তাহলে ?"
"আমার শুধু মনে হচ্ছে কেউ আমাদের লক্ষ্য করছে।"
শ্রাবণীর কথা শুনে জয়ন্ত আর নিয়াজ চারিদিকে তাকাল - যতদূর চোখ যায় শুধু গাছ,
লতাপাতা ঝোপঝাড়। কেউ যদি গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে তাদের লক্ষ্য করে সেটি বোঝার
কোনো উপায় নেই। ব্যাপারটা উড়িয়ে দেবার জন্য জয়ন্ত হাত নেড়ে বলল, "কে এখানে লক্ষ্য
করবে ? তোর মনের ভুল।"
"আমি যখন ছোট ছিলাম একদিন রাতে ঘুম ভেঙে গেল। আমার শুধু মনে হতে লাগল
কেউ একজন ঘরে আছে - আমাকে লক্ষ্য করছে। ভয়ে আমি গুটিশুটি মেরে শুয়ে রইলাম।
সকালে উঠে দেখি চোর সবকিছু চুরি করে নিয়ে গেছে।"
জয়ন্ত পরিবেশটা হাল্কা করার জন্য বলল, "তোর যে এরকম অতীন্দ্রিয় ক্ষমতা আছে আগে
কখনো বলিসনি তো !"
"আগে কখনো দরকার পড়েনি।"
"ঠিক আছে ব্যাপারটা পরীক্ষা করে দেখা যাক।"
"কীভাবে ?"
"কিছুক্ষণ সামনে হেটে হঠাৎ করে ঘুরে পেছনদিকে তাকাই - দেখি কাউকে দেখা যায় কি
না।"
"ঠিক আছে।"
কথা না বলে তিনজনে বেশ কিছুক্ষণ হেঁটে গেল এবং হঠাৎ করে পেছনে ঘুরে কয়েক পা
ছুটে গেল। ওরা অবাক হয়ে দেখল সত্যি সত্যি কী একটা প্রাণী দুদ্দাড় করে পেছনে ছুটে গিয়ে
নিরাপদ দূরত্ব থেকে তাদের দিকে তাকিয়ে রইল।
শ্রবণী ভয়-পাওয়া গলায় বলল, "দেখেছিস ? দেখেছিস ? আমি বলেছি না !"
জয়ন্ত খানিকক্ষণ প্রাণীটার দিকে তাকিয়ে বলল, "এটা একটা বেজি। নেউল। ইংরেজিতে
বলে উইজল।"
"নেউল ? বেজি ?"
"হঁ্যা।"
শ্রাবণী ভুরু কুঁচকে বলল, "তুই কেমন করে জানিস ?"
"আমি জানি কারণ আমি বেজি দেখেছি। আমাদের গ্রামের বাড়িতে একজন মানুষ ছিল।
তার একটা পোষা বেজি ছিল।"
"ও।"
"অসম্ভব হিংস্র প্রাণী। কিন্তু সাইজটা বেড়ালের মতো। কাজেই আমার মনে হয় তোর ভয়
পাওয়ার কিছু নেই।"
"এরকম করে আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে কেন ?"
"মনে হয় আগে কোনো সুন্দরী মেয়ে দেখেনি।"
"ফাজলেমি করবি না। বাঁশ দিয়ে মাথায় একটা বসিয়ে দেব।"
"ঠিক আছে ফাজলেমি করব না।"
"দ্যাখ কীভাবে আমাদের দিকে তাকাচ্ছে - যেন আমাদের কথা বুঝতে পারছে।"
"বুঝতে পারছে না। বেজি হচ্ছে বেজি। তাদের মানুষের কথা বোঝার কথা নয়।"
"তাহলে পালিয়ে যাচ্ছে না কেন ?"
"কৌতুহলে।"
"এত কৌতুহল কেন ?"
জয়ন্ত মাথা নেড়ে হাল ছেড়ে দেয়ার ভঙ্গিতে বলল, "তুই কি বলতে চাইছিস এই বেজিটা
দেখে আমাদের ভয়ে চিৎকার করতে করতে পালিয়ে যাওয়া উচিত ?"
"না, তা বলছি না।" শ্রাবণী ইতস্তত করে বলল, "কিন্তু এটার ভাবভঙ্গি দেখে ভালো
লাগছে না। হয়তো এটা পাগল - হয়তো এটা র্যাবিড।"
"ঠিক আছে আমি এটাকে তাড়িয়ে দিচ্ছি - " বলে জয়ন্ত তার কিরিচ উচিয়ে বেজিটার
দিকে ছুটে গেল। বেজিটা শেষমুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করল এবং একেবারে শেষমুহূর্তে পেছনের
দুই পায়ের ওপর ভর দিয়ে প্রায় মানুষের মতো দাঁড়িয়ে পেছন দিকে লাফিয়ে একটা ঝোপের
আড়ালে অদৃশ্য হয়ে গেল। জয়ন্ত স্বীকার না করে পারল না, বেজিটা একটু অস্বাভাবিক। এই
ধরনের বুনা প্রাণী মানুষকে আরো অনেক বেশি ভয় পায়।
জয়ন্ত শ্রাবণীর কাছে এসে বলল, "হয়েছে তো ? তোর বেজি পালিয়েছে।"
শ্রাবণী মাথা নাড়ল, কিন্তু কোনো কথা বলল না।
তিনজন আবার হাঁটতে থাকে। হাঁটতে হাঁটতে নিয়াজ চাপা গলায় বলল, "আমার ব্যাপারটা
ভালো লাগছে না।"
জয়ন্ত জিজ্ঞেস করল, "কোন ব্যাপারটা ?"
নিয়াজ বলতে পারল না। প্রকৃত ব্যাপারটি যদি তারা জানত তাহলে তাদের কারোই ভালো
লাগত না। তারা তখনো বুঝতে পারছিল না প্রতি পদক্ষেপেই তারা একটা বিশাল বিপর্যয়ের
দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল।
আরো মিনিট দশেক হাঁটার পর হঠাৎ করে গাছপালা হালকা হয়ে তারা খোলা একটা
জায়গায় চলে এল। ঘন অরণ্য থেকে বের হওয়ার কারণেই তাদের ভেতরের চাপা আতঙ্কের
ভাবটা একটু কমে এসেছে। তারা চারিদিকে ঘুরে তাকাল এবং আবিষ্কার করল প্রায় এক
কিলোমিটার দূরে একটা বাসা। এরকম একটি দ্বীপের জন্যে বাসাটি নিঃসন্দেহে আধুনিক। কিন্তু
এতদূর থেকেও তাদের বুঝতে কোনো অসুবিধে হয় না যে বাসাটি দীর্ঘদিন থেকে অব্যাবহৃত হয়ে পড়ে আছে। ঝোপঝাড়ে ঢেকে আছে, জানালা খোলা, দরজা ভাঙা এবং রঙ উঠে বিবর্ণ হয়ে
আছে। নিয়াজ বলল, "ওটা নিশ্চয়ই পাগলা ডাক্তারের বাসা।"
"হঁ্যা।" শ্রাবণী মাথা নাড়ল, "ভদ্রলোক নিশ্চয়ই খুব শৌখিন ছিলেন। এরকম একটা
নির্জন দ্বীপে কী চমৎকার বাসা তৈরি করেছেন দেখেছিস ?"
"শৌখিন এবং মালদার।" জয়ন্ত বলল, "এরকম একটা নির্জন দ্বীপে এরকম একটা বসা
তৈরি করতে অনেক মালপানি দরকার।"
শ্রাবণী কোনো কথা না বলে দূরে বাসাটির দিকে তাকিয়ে রইল। খানিক্ষণ পর বলল,
"এতদূর যখন এসেছি তখন বাসাটি দেখে যাই।"
নিয়াজ ইতস্তত করে বলল, "চল তাহলে, দেরি করিস না।"
তিনজনের ছোট দলটা আবার রওনা দিল। একটু আগে সবাই মিলে যেভাবে সাবধানে
হাঁটছিল, খোলামেলা জায়গায় এসে সেই সাবধানতাটুকু অনেক কমে গেল। তাড়াতাড়ি গিয়ে
ফিরে আসার জন্যে এবারে নিয়াজ হাঁটছে সামনে - নিয়াজের পিছনে জয়ন্ত এবং সবার পিছনে
শ্রাবণী।
হাঁটতে হাঁটতে নিয়াজ সম্ভবত একটু অন্যমনস্ক হয়েছিল, বাংলোর মতো চমৎকার বাসাটির
কাছাকাছি চলে এসেছে সেটাও দেখছিল একটু পরে পরে, তাই ঠিক কোথায় পা ফেলছে
খেয়াল করেনি। হঠাৎ করে নিয়াজ আবিষ্কার করল, সামনের ঝোপঝাড় লতাপাতার আড়ালে
মাটি নেই এবং সে একটা গর্তে পড়ে যাচ্ছে। নিজেকে বাঁচানোর সহজাত প্রবৃত্তিতে সে হাতের
কাছে ঝোপঝাড় গাছপালা যেটাই পেল সেটাই ধরার চেষ্টা করল। কিন্তু কোনটাই তার ওজনকে
ধরে রাখার মতো শক্ত নয় এবং সে সবকিছু নিয়ে পড়ে যাচ্ছিল। ঠিক তখন জয়ন্ত আর শ্রাবণী
ছুটে এসে তাকে ধরে ফেলল। নিয়াজ আতঙ্কে চীৎকার করে হাত-পা ছুড়তে থাকে এবং
আরেকটু হলে সে অন্যদেরকে টেনে নিয়ে গর্তে পড়ে যেত - কিন্তু শেষ মুহূর্তে তারা নিজেদের
সামলে নিল। শ্রাবণী আর নিয়াজ কোনমতে নিয়াজকে গর্ত থেকে টেনে তুলল।
ঘটনার আকস্মিকতায় এত হতবাক হয়ে গেছে যে নিয়াজ প্রথমে কোনো কথা বলতে পারল
না। খানিকক্ষণ চেষ্টা করে বলল, "বুবি ট্র্যাপ।"
"বুবি ট্র্যাপ ?" জয়ন্ত ভুরু কুঁচকে বলল, "এই জঙ্গলে বুবি ট্র্যাপ কে বসাবে ?"
শ্রাবণী সাবধানে গর্তের কাছে এগিয়ে গেল। বেশ বড় গোলাকার একটা গভীর গর্ত। গর্তের
ওপর লতাপাতা গাছপালা দিয়ে ঢাকা। উপর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই যে এখানে
এতবড় একটা গর্ত। শ্রাবণী মাথা নেড়ে বলল, "নিয়াজ ঠিকই বলেছে। আসলেই বুবি ট্র্যাপ।"
"এখানে বুবি ট্র্যাপ কে বসাবে ?" জয়ন্ত সাবধানে পুরো জায়গাটা দেখে বলল, "এই দ্বীপে
কোন মানুষ থাকে না।"
"হয়তো থাকে।"
"যদি থাকে তাহলে সে বুবি ট্র্যাপ বাসাবে কেন ?" জয়ন্ত গর্তের উপর লতাপাতা
গাছপালাগুলো দেখে বলল, "আমার মনে হয় এটা ন্যাচারাল ফেনোমেনন। এমনিতেই একটা
বড় গর্তের উপর কিছু ঝোপঝাড় গজিয়েছে।"
"কোনো কারণ ছাড়াই ?"
"কারণ থাকলেও সেটা প্রাকৃতিক কারণ।"
জয়ন্তের ব্যাখ্যাটা কারোরই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছিল না - কিন্তু আপাতত সেটা গ্রহণ করা ছাড়া
কোনো উপায় নেই। শ্রাবণী খানিকক্ষণ গর্তটা পরীক্ষা করে নিয়াজকে জিজ্ঞেস করল, "তুই
ব্যথা পাসনি তো ?"
নিয়াজ মাথা নাড়ল, "মনে হয় না। একটু-আধটু ছাল উঠে গেছে।"
শ্রাবণী তার ব্যাগ খুলে একটা মলম জাতীয় টিউব বের করে বলল, "নে, লাগিয়ে নে।
এন্টিসেপটিকের কাজ করবে।"
নিয়াজ শুকনো গলায় বলল, "পড়ে গেলে কী হত ?"
"কী আর হত - দড়ি দিয়ে বেঁধে আমরা টেনে তুলে ফেলতাম।"
"মনে পড়ে জব্বার মিয়া বলেছিল গর্তের মাঝে পড়ে গিয়ে মরে গিয়েছিল ?"
"এই গর্তের ভেতর পড়লে কেউ মরে যায় না - বড়জোর হাত-পা ভেঙে যেত।" শ্রাবণী
আবার গর্তে ভেতর উঁকি দিয়ে হঠাৎ কী একটা দেখে আতঙ্কে চিৎকার করে পিছনে সরে গেল।
জয়ন্ত ভয় পাওয়া গলায় বলল, "কী ? কী হয়েছে ?"
"ভেতরে তাকিয়ে দ্যাখ।"
জয়ন্ত একটু এগিয়ে গিয়ে ভেতরে তাকাল। ভেতরে অন্ধকার, ভালো দেখা যায় না।
সরসর করে একধরনের শব্দ হচ্ছে। সে রোদ থেকে চোখ আড়াল করে ভেতরে তাকিয়ে শিউরে উঠল, এক মানুষ সমান একটি গর্তের নিচে কিলবিল করছে সাপ। একটি-দুটি সাপ নয় -
অসংখ্য সাপ। জয়ন্ত নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারে না। একধরনের আতঙ্ক নিয়ে সে
নিশ্বাস বন্ধ করে তাকিয়ে থাকে।
নিয়াজ অবাক হয়ে গুড়ি মেরে এগিয়ে এল, বলল, "কী ?"
জয়ন্ত ফিসফিস করে বলল,"সাপ।"
"সাপ ?"
"হঁ্যা।"
"কী সাপ ?"
"জানি না - তাকিয়ে দ্যাখ।"
নিয়াজ রোদ থেকে চোখ আড়াল করে নিচে তাকিয়ে হতচকিত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ সে
নিশ্বাস নিতে পারে না। তারপর বড় একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, "তোরা যদি আমাকে টেনে
তুলতে না পারতি কী হত বুঝতে পারছিস ?"
জয়ন্ত মাথা নাড়ল।
"আমি আর এখানে এক সেকেণ্ডও থাকছি না। চল যাই।"
জয়ন্ত কোনো কথা না বলে যন্ত্রমুগ্ধের মতো গর্তের নীচে তাকিয়ে থাকে। নিয়াজ বলল,
"কী হল ? কথা বলছিস না কেন ?"
"স্নেক-পীট। এটা হচ্ছে সাপের গর্ত - এখানে সাপেরা থাকে।"
"হঁ্যা। সাপদের বাসা।"
"কিন্তু -"
"কিন্তু কী ?"
"গর্তের দেয়ালটা তাকিয়ে দেখ।"
"কী দেখব ?"
"দেখেছিস দেয়ালটা কত মসৃণ ? তার মানে এখান থেকে কোনো সাপ বের হতে পারে
না।"
শ্রাবণী কয়েক হাত পিছনে দাঁড়িয়ে থেকে বলল, "তুই কী বলতে চাইছিস ?"
"সাপগুলো যদি এখান থেকে বের হতে না পারে তাহলে ওরা খায় কী ?"
শ্রাবণী চোখ পাকিয়ে বলল, "সাপের লাঞ্চ ডিনার নিয়ে তোর এত মাথাব্যথা কেন ?"
"না", জয়ন্ত একটু অধৈর্য হয়ে বলল, "বুঝতে পারছিস না - দেখে মনে হচ্ছে এখানে
কেউ সাপগুলোকে পুষছে ?"
"একটু আগে তুই-ই না বললি এখানে কোন মানুষ নাই ?"
"সেইজন্যেই তো বুঝতে পারছি না।"
শ্রাবণী মাথা নেড়ে বলল, "সাপদের বের হওয়ার জন্যে লিফট লাগে না। তারা গর্ত দিয়ে
বের হতে পারে। নিচে গর্ত আছে। আর না থাকলে তারা গর্ত করে নেবে।"
জয়ন্ত মাথা নাড়ল, বলল, "তা ঠিক। কিন্তু -"
"কিন্তু কী ?"
"দেখে মনে হয়, কেউ যেন খুব যতড়ব করে একটা স্নেক-পীট তৈরি করেছে। দ্যাখ একবার
তাকিয়ে দ্যাখ।"
শ্রাবণী মুখ শক্ত করে বলল, "জয়ন্ত, পৃথিবীতে রাজাকারদের পরে আমি যে-জিনিসটা ঘেনড়বা
করি সেটা হচ্ছে সাপ। কাজেই তুই আমাকে সাপ দেখানোর চেষ্টা করবি না।"
জয়ন্ত উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "ঠিক আছে, তোকে দেখানোর চেষ্টা করব না। কিন্তু এটা
একটা ফ্যানটাসটিক জায়গা।"
নিয়াজ বলল, "আমার মতো আছাড় খেয়ে ভেতরে তো পড়িসনি তাই মনে হচ্ছে
ফ্যানটাসটিক জায়গা।"
"ব্যথা তো পাসনি।"
"ব্যাথা না পেলে কী হবে ? ভয় পেয়েছি। ভয়। বুঝলি ?"
জয়ন্ত নিয়াজের কাঁধে হাত রেখে বলল, "আই অ্যাম সরি নিয়াজ। আমি খুব
ইনসেনসেটিভ মানুষের মতো ব্যবহার করছি।"
"ঠিক আছে। এখন সেনসেটিভ মানুষের মতো ব্যবহার কর। এখান থেকে বের হ।"
জয়ন্ত পকেট থেকে সিগারেট বের করে মুখে লাগিয়ে সাবধানে ম্যাচ দিয়ে সিগারেটটা ধরিয়ে
একটা লম্বা টান দিয়ে দূরের বাসাটির দিকে তাকিয়ে বলল, "বাসাটার এত কাছে এসে না-দেখে
চলে যাব ?"
নিয়াজ ্#956;ুদ্ধ হয়ে বলল, "তোর এখনো শখ আছে ?"
"না মানে, এখন তো ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গেল। এরকম একটা গর্তে পড়ে গিয়ে মানুষ
সাপের কামড় খেয়ে মারা যায়। এর মাঝে কোনো রহস্য নেই - কোনো ভৌতিক ব্যাপার
নেই।"
"তুই কী বলতে চাইছিস ?"
"আমি বলছিলাম কী - এখন যেহেতু কারণটা জেনে গিয়েছি আমাদের তো ভয় পাওয়ার
কিছু নেই। ঐ বাসাটায় গিয়ে একটু ঘুরে দেখে আসি।"
নিয়াজ শ্রাবণীর দিকে তাকাল। শ্রাবণী বলল, "জয়ন্তের কথায় একটা যুক্তি অবশ্যি আছে।
এতদূর যখন এসেছি বাসাটা দেখে যাই। দেখি পাগলা ডাক্তারের কোনো রহস্যভেদ করতে পারি
কি না।"
জয়ন্ত বলল, "তুই নিশ্চিত থাক - এবার আমি সামনে সামনে যাব। লাঠি দিয়ে ঠুকে ঠুকে
দেখব কোনো গর্ত আছে কিনা।"
নিয়াজ একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, "চল। কিন্তু তোদের বলে রাখছি, বাসাটায় যাব, ঢুকব
আর বের হব।"
"ঠিক আছে।"
"ওয়ার্ড অব অনার ?"
জয়ন্ত নাক মুখ দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে বলল, "ওয়ার্ড অব অনার।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×