somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেজি - মুহম্মদ জাফর ইকবাল (ছয়)

১৩ ই মে, ২০০৬ রাত ১১:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দেয়ালে হেলান দিয়ে পা ছড়িয়ে তিনজন বসে আছে। শরীরের নানা জায়গায় রক্ত শুকিয়ে
আছে। কোথাও পানি নেই। তিনজন তিনটি বিকারে খানিকটা এলকোহল নিয়ে একটুকরো
কাপড়ে ভিজিয়ে রক্ত মোছার চেষ্টা করছে।
শ্রাবণী বলল, "শুধু শুধু চেষ্টা করছি। বেজির দল আবার এল বুঝি।"
"প্রথম ধাক্কাটা তো সামলে নিয়েছি।"
শ্রাবণী জয়ন্তের দিকে তাকিয়ে বলল, "পরের ধাক্কাটা হবে আরো শক্ত।"
নিয়াজ একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, "আমরা কি একটার পর একটা ধাক্কা সহ্য করতে
থাকব ? আমাদের কী এখান থেকে বের হয়ে যেতে হবে না ?"
"হঁ্যা। যেতে হবে।"
"সেটা কীভাবে করব ? এই ল্যাবরেটরিতে অল্প কয়টা বেজি আমাদের নাস্তানাবুদ করে
ছেড়ে দিয়েছে - বাইরে আমরা কেমন করে যাব ? আমাদের ছিঁড়ে টুকরো টুকরো করে ফেলবে
না ?"
জয়ন্ত কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু তার আগেই শ্রাবণী চিৎকার করে লাফিয়ে উঠে
দাঁড়াল। তার দৃষ্টি অনুসরণ করে অন্য দুজন তাকিয়ে দেখে একটা সাপ ফণা তুলে দাঁড়িয়ে
আছে। জয়ন্ত ফিসফিস করে বলল, "ভয় পাবি না, কেউ ভয় পাবি না। আমার কাছে বন্দুক
আছে, আরেকটু কাছে এলেই গুলি করে দেব।"
জয়ন্ত কথা শেষ করার আগেই দ্বিতীয় সাপটিকে দেখা গেল এবং সেটি পুরোপুরি ঘরের
ভেতরে আসার আগেই দরজার নিচে দিয়ে তৃতীয় সাপটির মাথা প্রবেশ করলো।
শ্রাবণী পেছনে সরে গিয়ে একটা টেবিলের ওপরে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বলল, "কী হচ্ছে
এখানে ? কী হচ্ছে ? এত সাপ কোথা থেকে আসছে ? কোথা থেকে আসছে ?"
শ্রাবণীর কথা শেষ হবার আগেই আরো দুটি সাপের মাথা উঁকি দিল। জয়ন্ত আতঙ্কিত হয়ে
দেখল, দরজার নিচে দিয়ে আরো সাপের মাথা কিলবিল করছে। জয়ন্ত হতচকিত হয়ে দাঁড়িয়ে
থাকে, হঠাৎ করে সে এত সাপ কোথা থেকে আসছে খানিকটা অনুমান করতে পারে। কিন্তু এখন সেটা নিয়ে চিন্তা করার সময় নেই। সে বন্দুকটা তুলে চিৎকার করে বলল, "সরে যা
সবাই, পেছনে সরে যা।"
জয়ন্ত বন্দুকটা তুলে বড় কয়েকটা সাপ লক্ষ করে নিশানা করে ট্রিগার টেনে ধরল। গুলি
হবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত ছিল না, কিন্তু গুলি হল। বন্ধ ঘরে সেই বিকট শব্দে সবার কানে
তালা লেগে যায়। ধোঁয়া সরে গেলে দেখতে পেল সাপগুলো গুলিতে ছিনড়বভিনড়ব হয়ে গেছে।
কয়েকটা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তারা অনেকগুলো বেজির চিৎকার শুনতে পেল -
সেগুলো দুদ্দার করে সিঁড়ি দিয়ে ছুটে পালিয়ে যাচ্ছে।
নিয়াজ হাতের লাঠি দিয়ে সাপগুলোকে মারার চেষ্ট করে। কয়েকটার শিরদাঁড়া ভেঙে দিল।
কয়েকটা ল্যাবরেটরির কোনায় লুকিয়ে গেল। প্রাথমিক উত্তেজনাটুকু কেটে যাবার পর শ্রাবণী
কাঁদো-গলায় বলল, "দেখলি ? দেখলি বেজিগুলো কী করছে ?"
"সাপ ধরে এনে ছেড়ে দিচ্ছে।"
"কত বড় বদমাইশ দেখেছিস ?"
নিয়াজ হাতের লাঠিটা হাতে নিয়ে সতর্ক-চোখে ঘরের চারপাশে তাকাতে তাকাতে বলল,
"তুই এমনভাবে কথা বলছিস যেন ওগুলো বেজি না - মানুষ।"
"হঁ্যা।" শ্রাবণী মাথা নেড়ে বলল, "ফিচলে বুদ্ধি দেখেছিস ?"
জয়ন্ত বলল, "পড়িস নি - অহি-নকুল সম্পর্ক। এই হচ্ছে সেই অহি-নকুল। নকুল
অহিকে ধরে এনে এখানে ছেড়ে দিচ্ছে।"
"এরপরে কী করবে ?"
"ভাগ্যিস এখনো আগুন জ্বালানো শিখেনি - যদি জানত তাহলে আমি হাণ্ড্রেড পার্সেন্ট
শিওর বাসায় আগুন লাগিয়ে দিত।"
নিয়াজ একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, "অাঁতেলদের মতো শুধু কথা বলিস না - কী করা যায়
ভেবে ঠিক কর।"
জয়ন্ত রেগে গিয়ে বলল, "আমি আঁতেলদের মতো শুধু কথা বলছি ?"
"বলছিসই তো। সেই তখন থেকে ভ্যাদর ভ্যাদর করছিস।"
শ্রাবণী বিরক্ত হয়ে বলল, "এটা ঝগড়া করার সময় ? চুপ করবি তোরা ?"
দুজনে চুপ করে কঠিন মুখে শ্রাবণীর দিকে তাকাল। শ্রাবণী বলল, "আগে এই ঘরটা
মোটামুটি সিকিওর ছিল, এখন এর ভেতরে সাপ ছেড়ে দিয়েছে। ভেতরে কয়টা সাপ লুকিয়ে
আছে কে জানে। এখানে থাকা যাবে না।"
"এখন পর্যন্ত দেখা গেছে বেজিগুলো আগুনকে ভয় পায়। আগুনটাই আমাদের ভরসা।"
জয়ন্ত নিয়াজের দিকে তাকিয়ে বলল, "কী করবি আগুন দিয়ে ?"
"ধর, অনেকগুলো মশাল তৈরি করে - সেগুলো হাতে নিয়ে যদি হেঁটে যাই ? বিচে গিয়ে
জব্বার মিয়ার ট্রলারের জন্যে অপেক্ষা করি ?"
জয়ন্ত খানিকক্ষণ তীক্ষ্নচোখে নিয়াজের দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর বলল, "ইট মে
ওয়ার্ক। ঠিকই বলেছিস। তবে একটা ডেঞ্জার আছে।"
"কী ডেঞ্জার ?"
"যদি আমাদের আ্#956;মন করে বসে আমাদের কিছু করার নেই।"
"বন্দুকটা আছে।"
"হঁ্যা, বন্দুকটা দিয়ে কিছু গুলি করতে পারি - কয়েকটা মারতে পারি - কিন্তু তাতে লাভ
কী?"
শ্রাবণী অস্থির হয়ে বলল, "কিন্তু কিছু-একটা তো করতে হবে - আমরা তো এভাবে বসে
থাকতে পারব না ?"
জয়ন্ত একটা নিশ্বাস ফেলে বলল, "বেঁচে থাকার জন্যে দরকার হলে এভাবে বসেই থাকতে
হবে। এখনো জব্বার মিয়া আছে - জব্বার মিয়া হচ্ছে আমাদের বাইরের পৃথিবীর সাথে
কানেকশন। সে যখন এসে দেখবে আমরা বিচে নাই - তখন নিশ্চয়ই কিছু-একটা করবে।
দরকার হলে আমাদের এখানে সাপের সাথে বেজির সাথে বসে থাকতে হবে।"
বেজিদের দ্বিতীয় আ্#956;মণটা হলো আরো পরিকল্পিত। বাসার ছাদে ধুপধাপ শুনে তারা
বারান্দায় এসে দেখে, পাশের একটা বড় কড়ই গাছের ওপরে বেজিগুলো একটা গাছের লতা
বেঁধেছে। সেই লতাটি ধরে ঝুল খেয়ে ছাদের ওপর বেজিগুলো লাফিয়ে এসে নামছে। দৃশ্যটি
নিজের চোখে না দেখলে তারা বিশ্বাস করত না। বেজির মতো একটা প্রাণী যে গাছের ডালে একটা লতা বাঁধতে পারে সেটাই বিশ্বাস হতে চায় না। দড়ির মতো চমৎকার এরকম একটা
লতা কোথায় পেয়েছে সেটাও একটা রহস্য। নিয়াজ বাইনোকুলার দিয়ে দেখে বলল, "লতাটি
বেণির মতো বুনে নেওয়া হয়েছে।"
তিনজন খানিকক্ষণ বেজিদের এই অবিশ্বাস্য কার্য্#956;ম দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখল। শেষ পর্যন্ত
জয়ন্ত বলল, "এগুলোকে থামাতে হবে।"
নিয়াজ জিজ্ঞেস করল, "কীভাবে থামাব ?"
"গুলি করে।"
বন্দুকে গুলি ভরতে গিয়ে জয়ন্ত থেমে গিয়ে বন্দুকটা নিয়াজের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল,
"নে এবারে তুই গুলি কর।"
"আমি আগে কখনো গুলি করিনি।"
"সেইজন্যেই দিচ্ছি। এইম করে ট্রিগার টেনে ধরবি।"
"নিশানা যদি না হয় ?"
"না-হওয়ার কী আছে ? ছররা গুলি - নিশানার দরকারও নেই।"
নিয়াজ গাছের লতা বেঁধে ঝুলে আসা একটা বেজিকে গুলি করতেই বেজিগুলো কর্কশ স্বরে
চিৎকার করতে শুরু করল। তারা অবাক হয়ে লক্ষ করল, বেজিগুলো অত্যন্ত সুশৃঙ্খল, চোখের
পলকে সেগুলো কোথাও লুকিয়ে গেল। দেখে মনে হল কোথাও কিছু নেই। মিনিট দশেক পর
ধীরে ধীরে বেজিগুলো বের হয়ে আসে, তারপর আবার লতাটি টেনে টেনে একটা বেজি গাছের
উপর উঠতে থাকে। তাদের ধৈর্যের কোনো অভাব নেই এবং কিছুক্ষণের মাঝে আবার লতায়
ঝুল খেয়ে বাসার ছাদে লাফিয়ে পড়তে শুরু করে। দেখে মনে হয় বেজিগুলো বুঝে গিয়েছে
তাদের কাছে গুলি বেশি নেই। এভাবে খুব বেশিবার তাদেরকে উৎপাত করা হবে না।
বাসার ছাদে একটা নির্দিষ্ট সংখ্যা উপস্থিত হওয়ার পর সেগুলো নিশ্চয়ই কার্নিশ বেয়ে
ভেতরে ঝাঁপিয়ে পড়বে। একসাথে কতগুলো আসবে এবং কীভাবে আ্#956;মন করবে তারা এখনো
জানে না। বসে বসে অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছু করার নেই। ছাদে বেজিদের ধুপধাপ শব্দ
ছাড়া আর কোথাও কোনো শব্দ নেই। চারপাশে একধরনের ভয়-ধরানো আতঙ্ক। দুপুর গড়িয়ে
বিকেল হয়ে এসছে - কিছুক্ষণ পর অন্ধকার হয়ে আসবে - তখন কী হবে কে জানে !"
ঠিক এরকম সমযে তারা অনেক দূর থেকে একটা ট্রলারের শব্দ শুনতে পেল। শ্রাবণী
বলল, "জব্বার মিয়া ট্রলার নিয়ে এসেছে।"
অন্য দুজন কোনো কথা বলল না। এই ভয়ংকর দুঃস্বপেড়বর জগৎ থেকে পালিয়ে যাবার
একটা অদম্য ইচ্ছা কাজ করছে কিন্তু কিছু করতে পারছে না। হঠাৎ করে তাদের ভেতরে
একধরনের অস্থির হতাশা এসে ভর করে। নিয়াজ প্রায় বেপরোয়া হয়ে বলল, "চল মশাল
জ্বালিয়ে বের হয়ে যাই।"
গত কয়েক ঘন্টার ঘটনায় তাদের ভেতরে এরকম ভয়ঙ্কর একটা চাপ পড়েছে যে, সেটা
সহ্য করা কঠিন হয়ে যাচ্ছিল।
তারা আরো একটু হলে নিয়াজের কথায় হয়তো সত্যি সত্যি বের হয়ে পড়তো। কিন্তু ঠিক
তখন হঠাৎ করে ঝুপঝাপ করে চারিদিকে থেকে বেজিগুলো লাফিয়ে পড়তে শুরু করল। জয়ন্ত
চিৎকার করে বলল, "ল্যাবরেটরি ঘরে -"
কিন্তু জয়ন্তর কথা শেষ হবার আগেই প্রাায় বিশ থেকে ত্রিশটি বেজি তার ওপর একসাথে
ঝাঁপিয়ে পড়ল। প্রচণ্ড ধাক্কা সহ্য করতে না-পেরে সে হুমড়ি খেয়ে নিচে পড়ে যায়। জয়ন্ত
ছটফট করতে থাকে এবং তার সারা শরীরে বেজিগুলো কিলবিল করতে থাকে। নিয়াজ আর
শ্রাবণী পাগলের মতো লাঠি দিয়ে মারার চেষ্টা করে কিন্তু সেগুলো ভ্রুক্ষেপ করে না। নিয়াজ
এগিয়ে আসা কিছু বেজিকে লক্ষ্য করে গুলি করে ভয় দেখানো চেষ্টা করল কিন্তু একই জায়গায়
কাছাকাছি জয়ন্ত এবং শ্রাবণী - সে গুলি করতে পারল না। বন্দুকের কুঁদো দিয়ে বেজিগুলোর
মাথা আর শরীর থেঁতলে দেয়ার চেষ্টা করতে লাগল।
শ্রাবণী ছুটে ল্যাবরেটরি ঘরে গিয়ে দুটো মশাল জ্বালিয়ে নিয়ে বাইরে ছুটে আসে। জয়ন্তকে
বাঁচানোর জন্যে মশাল দিয়ে তার শরীরের ওপরেই বেজিগুলোকে এলাপাথাড়ি আঘাত করতে
থাকে। এইভাবে তারা কতক্ষণ যুদ্ধ করেছে জানে না - কিন্তু শেষপর্যন্ত বেজিগুলো কর্কশ শব্দ
করতে করতে জয়ন্তকে ছেড়ে সরে যায়। জয়ন্ত টলতে টলতে কোনোভাবে উঠে দাঁড়িয়ে প্রচণ্ড
আ্ে#956;াশে একটা লাঠি তুলে নিয়ে বেজিগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। লাঠির প্রচণ্ড আঘাতে
বেজিগুলোর মাথা ছিনড়বভিনড়ব হয়ে যায়, শিরদাঁড়া ভেঙে সেগুলো ছটফট করতে থাকে। নিয়াজ
আর শ্রাবণীর জ্বলন্ত মশালের আগুনের ঝাপটায় শেষপর্যন্ত শেষ বেজিটিও পালিয়ে যাবার পর
জয়ন্ত দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে জোরে জোরে নিশ্বাস নিয়ে বলল, "মোস্ট পিকুলিয়ার।"
শ্রাবণী আর নিয়াজ জয়ন্তের কাছে গিয়ে তাকে পরীক্ষা করে। শরীরের নানা জায়গায় কেটে
গেছে। আগুনের হলকায় বুক পেট হাতের কনুই ঝলসে গেছে। সারা শরীরে কালিঝুলি মেখে
তাকে কিম্ভূতকিমাকার দেখাচ্ছে। জয়ন্ত নিয়াজ আর শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে বলল, "বেজিগুলো
এবার শুধু আমাকে আ্#956;মণ করল কেন ? আমি কী করেছি ?"
শ্রাবণী চিন্তিতভাবে বলল, "হঁ্যা। আমিও বুঝতে পারছি না। মনে হল একেবারে চিন্তাভাবনা
পরিকল্পনা করে তোকে ধরেছে।"
জয়ন্ত কাঁপা গলায় বলল, "একসাথে এতগুলো আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যে ইচ্ছে
করলে আমাকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে পারত। কিন্তু মনে হল ওদের অন্য একটা উদ্দেশ্য
ছিল -"
"কী উদ্দেশ্য ?"
"কিছু বুঝতে পারছি না। মনে হয়েছে সারা শরীর তনড়বতনড়ব করে খুঁজেছে কিছু-একটার
জন্যে -"
নিয়াজ হঠাৎ চিৎকার করে বলল, "এই দ্যাখ।"
শ্রাবণী ছুটে গেল, জয়ন্ত পিছু পিছু খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এগিয়ে গেল। টেবিলের নিচে একটা
বেজি মরে পড়ে আছে। সম্ভবত লাঠির আঘাতে মাথাটা পুরোপুরি থেঁতলে গেছে। তবে বেজিটা
এখনো শক্ত করে একটা ম্যাচের বাক্স ধরে রেখেছে। নিয়াজ অবাক হয়ে বলল, "এটা কোথায়
পেয়েছে ?"
জয়ন্ত নিজের পকেটে হাত দিয়ে বলল, "আমার ম্যাচ। আমার পকেট থেকে নিয়েছে।"
তিনজনই একজন আরেকজনের দিকে অবাক হয়ে তাকাল। জয়ন্ত ফিসফিস করে বলল,
"বুঝতে পেরেছিস আমাকে কেন ধরেছে ?"
"হঁ্যা।"
"আমাকে নিশ্চয়ই ম্যাচ দিয়ে সিগারেট ধরাতে দেখেছে - তাই এখন ম্যাচটা চায়। আগুন
ধরানো শিখতে চায়।"
নিয়াজ নিচু হয়ে মৃত বেজিটার সামনের দুই পা দিয়ে শক্ত করে ধরে রাখা ম্যাচটি হাতে
নিয়ে বলল, "তাহলে কী আমরা বেজিদের সাথে একটা সন্ধি করতে পারি ? আমরা ওদের এই
ম্যাচটা দেব - তারা আমাদের চলে যেতে দেবে !"
শ্রাবণী কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল কিন্তু ঠিক তখন মনে হল খুব কাছে থেকে ট্রলারের
শব্দটা শোনা যাচ্ছে। তারা প্রায় ছুটে বের হয়ে এসে বারান্দায় দাঁড়াল - সেখান থেকে সমুদের
খানিকটা দেখা যাচ্ছে। জব্বার মিয়া তার ট্রলারটা নিয়ে আসছে। শ্রাবণী অবাক হয়ে বলল, "কী
আশ্চর্য ! জব্বার মিয়া এখানে চলে এল কেমন করে ? সে কেমন করে জানে আমরা এখানে ?"
"নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই -" নিয়াজ ব্যাখ্যা খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে সুবিধে করতে পারল না।
নিশ্চয়ই কী ?"
জয়ন্ত বলল, "শুলির শব্দ শুনে অনুমান করেছে আমরা নিশ্চয়ই মাজেদ খানের বাসার
আছি?"
"হঁ্যা। তাই হবে !"
তিনজন বারান্দায় দাঁড়িয়ে জব্বার মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু
কয়েকটা গাছের আড়ালে থাকার কারণে তারা মোটামুটি বেশ স্পষ্ট জব্বার মিয়াকে দেখতে
পেলেও জব্বার মিয়া তাদের দেখতে পাচ্ছে না। নিয়াজ বলল, "এই সুযোগ। আমাদের এখন
অল্প কিছুদূর যেতে হবে ! মাত্র এইটুকু।"
"কিন্তু মাত্র এইটুকু যেতে কতগুলো বেজি পার হয়ে যেতে হবে দেখেছিস ?"
"হঁ্যা।" শ্রাবণী মাথা নাড়ল, "ঠিকই বলেছিস।"
"কিন্তু কিছু তো করার নেই। আয় মশালে আগুন জ্বালিয়ে বের হয়ে যাই।" নিয়াজের
কথা শুনে সবাই বাইরে তাকাল। কয়েক হাজার বেজি নিশ্চল হয়ে বসে আছে দেখে আবার তারা
সাহস হারিয়ে ফেলল। এই দুঃস্বপেড়বর জগৎ থেকে পালিয়ে যাবার সুযোগ এত কাছে চলে
এসেছে তবুও যেতে পারছে না বলে তারা একধরনের হতাশায় ছটফট করতে থাকে।
তারা দেখতে পেল জব্বার মিয়া ট্রলারটাকে খানিকটা টেনে তীরে তুলল যেন ঢেউয়ে ভেসে
না যায়। তারপর রোদ থেকে চোখ আড়াল করে এদিক-সেদিক তাকাল। কিছু দেখতে না-পেয়ে
চিন্তিত-মুখে নৌকার পাটাতন তুলে তার হাতে বানানো পাইপগানটা তুলে হেঁটে আসতে শুরু
করল। হাঁটার ভঙ্গি দেখে বোঝা গেল জব্বার মিয়া এই জায়গাটা মোটামুটি চেনে। সে এখন
মাজেদ খানের বাসার দিকেই আসছে।
জয়ন্ত অন্য দুজনের দিকে তাকিয়ে বলল, "সর্বনাশ, এখন দেখি জব্বার মিয়া এদিকে
আসছে। একেবারে সোজাসুজি বেজিদের মুখে পড়বে।"
"হঁ্যা। ওকে আসতে নিষেধ কর।" শ্রাবণী ভয়-পাওয়া গলায় বলল, "চিৎকার করে নিষেধ
করে দে।"
নিয়াজ চিৎকার করে জব্বার মিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করার চেষ্টা করল। সেই চিৎকার শুনে
বেজিগুলো সচকিত হয়ে পেছনের পায়ে ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল কিন্তু জব্বার মিয়া কিছু
শুনতে পেল না। দ্বীপটার ঠিক এই জায়গা দিয়ে সমুদ্রের হাওয়া শনশন করে বইছে। গাছের
পাতার শব্দ, সমুদ্রের গর্জন, সব মিলিয়ে কিছু শোনার কথা নয়। তিনজন একধরনের আতঙ্ক
নিয়ে তাকিয়ে রইল এবং দেখতে পেল জব্বার মিয়া আলগোছে তার পাইপগানটা ধরে ধীরে
ধীরে ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে পা দিতে আসছে।
শ্রাবণী ফ্যাকাশে মুখে বলল, "সর্বনাশ ! কী হরে এখন ! জব্বার মিয়া যে কিছুই শুনতে
পাচ্ছে না -"
তিনজনে মিলে আবার চিৎকার করল। মনে হল জব্বার মিয়া কিছু-একটা শুনতে পেল।
কিন্তু সেটা শুনে সে থেমে না গিয়ে আরো বেশি উৎসাহ নিয়ে ওপরে ছুটে আসতে শুরু করল।
জয়ন্ত বলল, "জব্বার মিয়াকে থামাতে হবে। এক্ষুণি থামাতে হবে।"
"কীভাবে থামাবি ?"
"বন্দুকটা দে - একটা গুলি করি। গুলির শব্দ শুনলে থেমে যাবে।"
ব্যাপারটা পুরোপুরি চিন্তা না করেই জয়ন্ত বন্দুকটা হাতে নিয়ে একটা ফাঁকা আওয়াজ করল
এবং সাথে সাথে জব্বার মিয়া চমকে উঠে একটা গাছের আড়ালে লুকিয়ে গেল। গুলির প্রচণ্ড
শব্দে বেজিগুলো এক মুহূর্তের জন্যে নিচু হয়ে যায় এবং পরমুহর্ূর্তে মাথা তুলে তাকিয়ে জব্বার
মিয়াকে দেখতে পেয়ে তাকে আ্#956;মণ করার জন্যে ছুটে যেতে থাকে।
এতদূর থেকেও তারা জব্বার মিয়ার মুখে ভয়ঙ্কর আতঙ্কের চিহ্ন দেখতে পেল, সে নিজের
চোখকে বিশ্বাস করতে পারছে না। কয়েক মুহূর্ত সে ছুটে-আসা বেজিগুলোর দিকে তাকিয়ে
রইল, তারপর মাজেদ খানের বাসার দিকে ছুটতে শুরু করল। জয়ন্ত, শ্রাবণী এবং নিয়াজ একটি
ভয়ের ছবির দৃশ্যের মতো দেখতে পেল একজন মানুষ তার প্রাণ নিয়ে ছুটছে এবং তার পেছন
থেকে ঢেউয়ের মতো ধূসর মৃতু্য এগিয়ে আসছে। জব্বার মিয়া ছুটছে এবং তার মাঝে কয়েকটা
বেজি লাফিয়ে তার শরীরের নানা জায়গায় কামড় দিয়ে ঝুলে পড়ল। জব্বার মিয়া হাত দিয়ে
সেগুলো ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা করে কিন্তু কোনো লাভ হয় না। শেষপর্যন্ত হাতের পাইপগানটা লাঠির মতো ব্যবহার করে প্রচণ্ড আঘাতে সে কিছু বেজিকে ছিটকে ফেলে দিল। ছুটতে ছুটতে
সে একটা গুলি করে বেশকিছু বেজিকে রক্কাক্ত করে দিল কিন্তু তবু বেজিগুলো থামল না।
মাজেদ খানের বাসার বারান্দায় দাঁড়িয়ে জয়ন্ত নিয়াজ আর শ্রাবণী দেখতে পেল ছুটতে ছুটতে
জব্বার মিয়া বাসার খুব কাছে চলে এসেছে কিন্তু কবু শেষ রক্ষা করতে পারবে বলে মনে হয়
না। সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো অসংখ্য বেজি পেছন থেকে একসাথে জব্বার মিয়ার ওপর ঝাঁপিয়ে
পড়ল এবং তাল সামলাতে না পেরে সে হুমড়ি খেয়ে পড়ে যায়। পরমুহূর্তে দেখা গেল জব্বার
মিয়া একটা ধূসর আবরণে ঢেকে গেছে, তার ওপর অসংখ্য বেজি কিলবিল করছে, চোখের
পলকে নিশ্চয়ই তাকে ছিনড়বভিনড়ব করে ফেলবে।
শ্রবণী চিৎকার করে নিজের মুখ ঢেকে ফেলল। এই ভয়ঙ্কর দৃশ্যটি দেখার মতো সাহস
তার নেই।
জয়ন্ত কয়েক মুহূর্ত নিশ্বাস বন্ধ করে দাঁড়িয়ে থাকে, তারপর হঠাৎ যেন সংবিৎ ফিরে পায়।
সে চিৎকার করে বলল, "জব্বার মিয়াকে বাঁচাতে হবে !"
"কীভাবে ?"
"জানি না।"জয়ন্ত বন্দুকে গুলি ভরে নিচে ছুটতে ছুটতে বলল, "তোরা মশালে আগুন
জ্বালিয়ে আন, তাড়াতাড়ি।"
জয়ন্ত চিৎকার করতে করতে ছুটে গেল। জব্বার মিয়া ছটফট করছে, তার ওপরে ঢেউয়ের
মতো বেজিগুলো দৌড়াদৌড়ি করছে - তাদের হিংস্র আস্ফালনের মাঝেও জয়ন্ত জব্বার মিয়ার
চিৎকার শুনতে পেল। জয়ন্ত জব্বার মিয়াকে বাঁচিয়ে তার কাছাকাছি বেজিগুলোকে লক্ষ করে
গুলি করল। গুলির আঘাতে অসংখ্য বেজি ছিটকে পড়ে যায় - মুহূর্তের জন্যে সেগুলো থমকে
দাঁড়ায়, বেশকিছু ছুটে পালিয়ে যেতে চেষ্ট করে। জয়ন্ত সেই অবস্থায় চিৎকার করে জব্বার
মিয়ার কাছাকাছি ছুটে যেতে যেতে দ্বিতীয়বার গুলি করল। বেজিগুলো এবারে লাফিয়ে খানিকটা
দূরে সরে গেল, কিন্তু একেবারে চলে গেল না। তারা কুতকুতে হিংস্র চোখে জব্বার মিয়া এবং
জয়ন্তের দিকে তাকিয়ে রইল।
ততক্ষণে শ্রাবণী আর নিয়াজও ছুটে আসছে। তাদের দুই হাতে চারটি জ্বলন্ত মশাল।
সেখানে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। আগুন দেখে বেজিগুলো আরো কয়েক পা পিছিয়ে যায়।
জয়ন্ত ছুটে গিয়ে এবার জব্বার মিয়াকে টেনে তোলার চেষ্টা করল। সারা শরীর রক্তাক্ত। মনে হয় বেজিগুলো খুবলে তার শরীর থেকে মাংস তুলে নিয়েছে। জব্বার মিয়া চোখ খুলে তাকাল।
তার চোখে আতঙ্ক এবং অবিশ্বাস।
নিয়াজ এবং শ্রাবণী মশালগুলো নাড়তে নাড়তে আগুনের শিখা দিয়ে বেজিগুলোকে ভয়
দেখাতে দেখাতে এগিয়ে আসতে থাকে। বেজিগুলো নিরাপদ দূরত্বে থেকে একধরনের চাপা
গর্জন করতে থাকে। শ্রাবণী এবং জয়ন্ত মিলে জব্বার মিয়াকে টেনে সোজা করে দাঁড় করাল।
নিয়াজ মাটি থেকে তার পাইপগানটা তুলে নেয়। এটা দিয়ে কীভাবে গুলি করতে হয় সেটা
সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই, তবু সেটি বেজিদের দিকে তাক করে রাখল।
শ্রাবণী চোখের কোণা দিয়ে বেজিগুলোকে লক্ষ করে, সেগুলো আ্#956;মণের ভঙ্গিতে তাদের
লেজ নাড়ছে। যে-কোনো মুহূর্তে আবার তাদের আ্#956;মণ করে বসতে পারে। জব্বার মিয়াকে দুই
পাশ থেকে ধরে জয়ন্ত আর শ্রাবণী মাজেদ খানের বাসার দিকে নিতে থাকে, তাদের ঠিক পেছনে
পেছনে নিয়াজ মশালটি নাড়তে নাড়তে এগিয়ে আসে।
বাসার সিঁড়ির কাছাকাছি পেঁৗছে যাবার পর হঠাৎ করে বেজিগুলো আ্#956;মণ করল। তাদের
নিজস্ব কোনো সংকেত আছে - সেটি পাওয়ামাত্রই চলন্ত ট্রেনের মতো ছুটে এসে কয়েকশ বেজি
তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, তার প্রচণ্ড ধাক্কায় তারা সিঁড়ির ওপরে আছড়ে পড়ল। হাত থেকে
মশাল ছিটকে পড়ে এবং হঠাৎ করে শ্রাবণী বুঝতে পারল তাদেরকে বেজিগুলো এখন শেষ করে
ফেলবে। ঘাড়ের কাছে কোথায় জানি কয়েকটা বেজি কামড়ে ধরেছে। সেগুলো ছোটানোর
জন্যে সে প্রাণপণ চেষ্টা করতে থাকে - কিন্তু একটাকে সরানোর আগেই আরো দশটি এসে
জাপটে ধরছে। আগুনের মশালের ওপরে কেউ গড়াগড়ি খাচ্ছে, মাংস এবং লোম পোড়ার
বিভৎস একটা উৎকট গন্ধ নাকে এসে লাগে। যন্ত্রণায় কেউ একজন চিৎকার করছে - গলার
স্বরটি কার শ্রাবণী বুঝতে পারল না। মৃতু্য তাহলে এরকম - এই ধরনের একটা কথা মনে হল
তার, ব্যাপারটি ভয়ঙ্কর, ব্যাপারটি বীভৎস। তার মাথায় একটা বেজি কামড়ে ধরে শক্ত
চোয়ালের আঘাতে ছিড়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। পায়ে কয়েকটা কামড়ে ধরে মাংস ছিঁড়ে নিতে
চাইছে। ভয়ঙ্কর যন্ত্রনায় শ্রাবণী আর্তনাদ করে উঠল। মৃতু্য যদি আসবেই সেটি তাহলে আরো
তাড়াতাড়ি কেন আসছে না ?
শ্রাবণী প্রচণ্ড যন্ত্রণায় অচেতন হয়ে যাচ্ছিল, কিন্তু তার ভেতরেও কে জানি তাকে বলল,
চেষ্টা কর - বেঁচে থাকার চেষ্টা কর। সে তাই শেষবার চেষ্টা করল, চিৎকার করে বলল, "্ি#956;ঁকি
্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি -"
হঠাৎ করে জাদুমন্ত্রের মতো বেজিগুলো থেমে গেল। একটি আরেকটির দিকে তাকাল।
মনে হচ্ছে কিছু-একটা বুঝতে পারছে না। শ্রাবণী আবার বলল, "্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি -"
সাথে সাথে বেজিগুলো লাফিয়ে তাদের শরীর থেকে নমে গিয়ে অবিকল মানুষের গলায়
"্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি" বলতে বলতে ছুটে পালিয়ে যেতে শুরু করে।
বেজিগুলো সরে যেতেই শ্রাবণী মাথা তুলে তাকাল। অন্য তিনজন সিঁড়ির ওপরে এবং নিচে
ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তাদেরকে দেখে মানুষ বলে চেনা যায় না। দেখে মনে হয় রক্তাক্ত কিছু
মাংসপিণ্ড। শ্রাবণী কোনোমতে উঠে দাঁড়িয়ে ভয়-পাওয়া গলায় ডাকল, "নিয়াজ, জয়ন্ত।"
কোনোমতে নিয়াজ আর জয়ন্ত উঠে বসে। তারা বিস্ফারিত চোখে শ্রাবণীর দিকে তাকিয়ে
থাকে - বেজিগুলো যে তাদের টুকরো-টুকরো না করেই চলে গেছে এখনো সেটা তাদের বিশ্বাস
হচ্ছে না।"
শ্রাবণী টলতে টলতে উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "তোরা উঠতে পারবি ?"
"মনে হয় পারব।" নিয়াজ বন্দুকটার ওপর ভর দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল। শ্রাবণী গিয়ে
জয়ন্তের হাত ধরে তুলল। জয়ন্ত আর নিয়াজ মিলে চেষ্টা করে জব্বার মিয়াকে টেনে তুলল।
তারপর ছোট দলটা কোনোভাবে নিজেদেরকে টেনে হিঁচড়ে নিতে থাকে।
সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় জয়ন্ত জিজ্ঞেস করল, "শ্রাবণী, তুই কেমন করে জানলি যে ্ি#956;ঁকি
্ি#956;ঁকি বললে বেজিগুলো আমাদের ছেড়ে দেবে ?"
"যদি জানতাম তাহলে আরো আগেই বলতাম। জানতাম না বলেই তো এই অবস্থা।"
"কী বলছিস তুই - আমরা জানে বেঁচে গিয়েছি জানিস ?"
"আমি এত নিশ্চিত নই। একবার বেঁচে গিয়েছি মানে এই নয় যে বার বার বেঁচে যাব।
তবে এইভাবে মরব কখনো ভাবিনি।"
"এখনো তো মরিনি -"
শ্রাবণী কোনো কথা বলল না। জয়ন্ত আবার জিজ্ঞেস করল, "তুই কেমন করে বুঝতে
পারলি ্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি বললে ওগুলো চলে যাবে ?"
"মনে নেই ল্যাবরেটরিতে প্রথম যখন এসেছিল - পালিয়ে যাবার সময় একটা বেজি বলল
্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি। তখন সবগুলো মিলে পালিয়ে গেল।"
"হঁ্যা। মনে আছে।"
"আমার মনে হল হয়তো ্ি#956;ঁকি ্ি#956;ঁকি মানে, বিপদ বিপদ পালাও। সেটা শুনে হয়তো
সবগুলো পালাবে।"
নিয়াজ এই অবস্থায় হাসার চেষ্টা করে বলল, "তুই বেজিদের একটা মাত্র শব্দ শিখেছিস -
সেটা দিয়েই চারজন মানুষের জান বাঁচিয়ে দিয়েছিস। কী আশ্চর্য !"
শ্রাবণী কোনো কথা বলল না। সে কোনোকিছু চিন্তা করতে পারছিল না, যদি পারত
তাহলে বুঝতে পারত ব্যাপারটি সত্যিই খুব আশ্চর্য।
ল্যাবরেটরি-ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে চারজন মেঝের ওপর লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল। তাদের
শরীর থেকে চুঁইয়ে চুঁইয়ে রক্ত পড়ে মেঝের বড় অংশ রক্তাক্ত হয়ে যেতে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×