somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোবিয়ানের যাত্রী - মুহম্মদ জাফর ইকবাল (দুই)

১৩ ই মে, ২০০৬ রাত ১১:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"তুমি খুব ভালো করে জানো কোথায়। ঐ অঞ্চলে মানুষের কলোনি বিদ্রোহ করে আলাদা
হয়ে গিয়েছে। পুরো এলাকাটা এখন ছোট-বড় একশটা মহাকাশ-দসু্যর আখড়া। গত বৎসরে
এই পথ দিয়ে যত মহাকাশযান গেছে তার অর্ধেক লুট হয়ে গেছে। কোনো প্প ঙ্ক জীবন্ত ফিরে
আসে নি !"
"তুমি অতিরঞ্জন করছ ইবান।"
"আমি এতটুকু অতিরঞ্জন করছি না - তোমরা সত্য গোপন করছ তা না-হলে সংখ্যাটি
অনেক বেশি হতো। আমি হঠাৎ করে নিজের ভিতরে এক ধরনের প্পে ঙ্কধ অনুভব করতে থাকি।
অনেক কষ্ট করে গলার স্বরকে স্বাভাবিক রেখে বললাম, "শুধু কী মহাকাস-সদু্য ? মাহালা
নক্ষত্রপুঞ্জ হচ্ছে অনাবিস্কৃত এলাকা। সেখানে কোনো এক ধরনের মহাজাগতিক প্রাণী রয়েছে-"
লি-হান অবাক হবার ভান করে বলল, "তাতে কী হয়েছে ? মহাজগতে মানুষ ছাড়াও যে
প্রাণী রয়েছে সেটি তো আর নতুন ব্যাপার নয় !"
"না সেটি নতুন ব্যাপার নয়।" আমি মাথা নেড়ে বললাম, "কিন্তু সেই প্রাণী যদি বুদ্ধিমান
হয়, সেই প্রাণী যদি ভয়ঙ্কর হয়, সেই প্রাণী যদি মানুষের প্রতি শত্রুভাবাপনড়ব হয় এবং মানুষ যদি
সেই প্রাণী সম্পর্কে কিছু না জানে তাহলে মানুষ তাদের ধারেকাছে যায় না। সে-সম্পর্কে সুস্পষ্ট
মহাজাগতিক আইন রয়েছে। আমাকে সেদিক দিয়ে পাঠিয়ে তোমরা মহাজাগতিক আইন ভাঙার
চেষ্টা করছ।"
লি-হানের মুখ একটু অপ্রসনড়ব হয়ে ওঠে। সে শীতল গলায় বলল, "তুমি যদি যেতে না চাও
তাহলে যাবে না, আমি ভেবেছিলাম এটি তোমার জন্যে একটি চমৎকার সুযোগ।"
"কোনটি সুযোগ আর কোনটি আমাকে বিপদে ফেলার ষড়যন্ত্র সেই সিগ্ধান্তটা আমাকেই
নিতে দাও।" আমি চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে থেমে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, "পঞ্চম
মাত্রার এই মহাকাশযানে আমাকে কী কারগো নিতে হবে ?"
লি-হান বিড়বিড় করে কিছু-একটা বলতে যাচ্ছিল, আমি তাকে বাধা দিয়ে বললাম, "আমি
বাজী ধরে বলতে পারি সেই কারগো হবে দূষিত, বিষাক্ত এবং বিপজ্জনক কোনো জিনিস। যে
জিনিস ধ্বংস হয়ে গেলে তোমাদের কারো কোনো মাথাব্যথা হবে না। হয়ত এমনও হতে পারে
যে তোমরা চাও সেই কারগো ধ্বংস হয়ে যাক।"
লি-হান এবার তার মুখ একটু কঠিন করে বলল, "তুমি একটু বেশি বাড়াবাড়ি করছ
ইবান। এই অভিযানের কার্গো খুব গুরুত্বপূর্ণ।"
"সেটি কী ?"
"তুমি যতক্ষণ এই যাত্রাপথে যেতে রাজি না হচ্ছ আমি তোমাকে সেটা বলতে পারব না।"
"কিন্তু আমি যতক্ষণ জানতে না পরছি আমাকে কী কারগো নিয়ে যেতে হবে ততক্ষণ
আমি রাজি হতে পারছি না।"
লি-হান ভুরু কুঁচকে কতক্ষণ কিছু-একটা চিন্তা করে আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল,
"ঠিক আছে আমি তোমাকে বলছি। তোমার কারগো আসলে জীবন্ত একজন মানুষ।"
"মানুষ ?"
"হঁ্যা। মানুষটির নাম হচ্ছে ম্যাঙ্গেল ক্বাস। ম্যাঙ্গেল ক্বাস হচ্ছে -"
আমি বাধা দিয়ে বললাম, "তোমাকে ম্যাঙ্গেল ক্বাসের পরিচয় দিতে হবে না, আমি তাকে
চিনি।"
"ও।"
"তুমি দেখেছ আমার ধারণা সত্যি ? মহাকাশযানের কার্গো সত্যি সত্যি দূষিত, বিষাক্ত
এবং বিপজ্জনক ?"
লি-হান শীতল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে রইল কোনো কথা বলল না। আমি একটা
নিঃশ্বাস ফেলে চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে জানালা দিয়ে বাইরে তাকারাম, বেগুনি রংয়ের
আলোটাতে একটা কালচে গা-ঘিনঘিন-করা ভাব চলে এসেছে, দেখেই কেমন জানি মন খারাপ
হয়ে যায়।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস এই সময়কার সবচেয়ে দুর্ধর্ষ মহাকাশ-দসু্য। সাধারণত একটি স্বার্থ নিয়ে
দু'দলের মাঝে সংঘর্ষ বেধে যায় এবং একদল অন্য দলকে দসু্য বলে সম্বোধন করে।
মহাজাগতিক অনেক কলোনিতেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্যে ছোটছোট মানবগোষ্ঠী
বিদ্রোহ করেছে এবং অনেক সময় তাদেরকে দসু্য আখ্যা দিয়ে খুব নিষ্ঠুরভাবে বিদ্রোহ দমন করা
হয়েছে। ম্যাঙ্গেল ক্বাসের ব্যাপারটি সেরকম নয় - সে প্রকৃত অর্থেই দসু্য, ছোট সুগঠিত একটা
দল নিয়ে সে মাহালা নক্ষত্রপুঞ্জের কাছাকাছি থাকে, অত্যন্ত কৌশলে সে আন্তঃনক্ষত্র
মহাকাশযানগুলোকে দখল করে নেয়। মহাকাশযানের প্প ঙ্কদের প্রতি অমানুষিক নিষ্ঠুরতা নিয়ে ম্যাঙ্গেল ক্বাসের অনেক গল্প প্রচলিত রয়েছে। মানুষটি সুদর্শন এবং বুদ্ধিমান, আধুনিক প্রযুক্তি সে
খুব দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে। মানুষের মস্তিষ্কের উপর তার মৌলিক গবেষণা রয়েছে বলেও
শোনা যায়। মহাজাগতিক প্রতিরক্ষাবাহিনী অনেকদিন থেকে তাকে ধরার চেষ্টা করছিল এবং
মাত্র কিছুদিন আগে তাকে ধরতে পেরেছে। বিচারের জন্যে তাকে আঞ্চলিক কেন্দ্রে পাঠাতে হবে
- আমি অবশ্যি মনে করি এত ঝামেলা না করে প্রতিরক্ষাবাহিনীই তার বিচার করে শাস্তি দিয়ে
ফেলতে পারত। এই ভয়ঙ্কর মানুষটিকে বাঁচিয়ে রাখা আসলে বিপদকে ঘরে টেনে আনা ছাড়া
আর কিছু নয়।
আমার সামনে বসে থাকা লি-হান এবার একটু ঝুঁকে পড়ে জিজ্ঞেস করল, "তুমি কি
সত্যিই যেতে চাও না ?"
"ম্যাঙ্গেল ক্বাসের মতো চরিত্রকে নিয়ে যাওয়াটা কি তুমি খুব আকর্ষণীয় কাজ মনে কর ?"
"কিন্তু তাকে শীতল করে পাথরের মতো জমিয়ে ফেলা হবে, টাইটেনিয়ামের ভল্টের মাঝে
পাকাপাকিভাবে আটকে রাখা হবে। মহাকাশযানের কারগো-বে'9 তে তাকে মালপত্র হিসেবে
নেয়া হবে - মানুষ হিসেবে নেয়া হবে না।"
আমি একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললাম, "সত্যি কথা বলতে কী তোমরা যদি মানুষটিকে
শীতলঘরে করে না নিতে, যদি তার সাথে কথা বলা যেত তাহলে আমার একটু আগ্রহ ছিল।
আমি কথা বলে দেখতাম এই ধরনের মানুষেরা কীভাবে চিন্তা করে।"
"না, তোমার সেই সুযোগ নেই।" লি-হান মাথা নেড়ে বলল, "একেবারেই নেই।"
"মহাকাশযানের অন্য প্প ঙ্কদের কীভাবে বেছে নিচ্ছ ?"
আমার প্রশড়ব শুনে লি-হান হঠাৎ করে নিজের নখের দিকে তাকিয়ে সেটি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে
পরীক্ষা করতে শুরু করল এবং আমি বুঝতে পারলাম এ-ব্যাপারেও নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা
রয়েছে। আমি আবার টের পেলাম আমার ভিতরে একটা শীতল প্পে ঙ্কধ ছড়িয়ে পড়ছে। নিজেকে
কষ্ট করে শান্ত করে আমি একটু সামনে ঝুঁকে পড়ে বললাম, "এই প্প ঙ্কয়ের ব্যাপারটাও তাহলে
আমি অনুমান করার চেষ্টা করি। আমার ধারণা এই অভিযানে প্প ঙ্ক হিসেবে যাবে এমন কিছু মানুষ
যাদের জীবনের কোনো মূল্য নেই। আমার মতো -"
লি-হান বাধা দিয়ে বলল, "আসলে কোনো প্প ঙ্ক থাকবে না। তুমি একা এই মহাকাশযানটি
নিয়ে যাবে।"
আমি চমকে উঠে বললাম, "একা ?"
"হঁ্যা।"
"একটি আন্তঃনক্ষত্র অভিযানে একজন মানুষ একা একটি পঞ্চম মাত্রার মহাকাশযান নিয়ে
যাবে ?"
"হঁ্যা। নতুন পঞ্চম মাত্রার যে মহাকাশযানগুলো বের হয়েছে সেগুলো বিস্ময়কর। প্রকৃত
অর্থেই সেখানে কোনো মানুষের প্রয়োজন নেই। শুধুমাত্র মহাজাগতিক আইন রক্ষা করার জন্যে
এখনো অধিনায়ক হিসেবে মানুষ রাখতে হয়। তাদেরকে কতৃত্ব দেয়া হয়।"
আমি কোনো কথা না বলে লি-হানের দিকে তীক্ষ্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। সে আমার
দৃষ্টি উপেক্ষা করে বলল, "পঞ্চম মাত্রার এই মহাকাশযানগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্যে নতুন যে
সিস্টেম দাঁড়া করানো হয়েছে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানুষের মস্তিষ্ক থেকে ভালো। সত্যি কথা
বলতে কী আমরা যদি নিউরণ10 সংখ্যা, এবং সিনান্স11 সংযোগ এসব দিয়ে হিসেব করি তাহলে
এই সিস্টেমকে প্রায় এক ডজন মানুষের মস্তিষ্কের সুষম উপস্থাপন হিসেবে বিবেচনা করতে পার।
যার অর্থ হচ্ছে -"
"আমি জানি।"
লি-হান হা হা করে হেসে বলল, "অবশ্যি তুমি জানো। মানুষের মস্তিষ্কের ওপর তোমার
কৌতুহলের কথা সবাই জানে।"
"হঁ্যা।" আমি শীতল গলায় বললাম, "সবাই এটাও জানে যে এটা এসেছে আমার
হীনমন্যতা থেকে। যেহেতু বুদ্ধিমত্তায় আমার জিনেটিক প্রাধান্য নেই তাই আমি সবসময়
বোঝার চেষ্টা করি বুদ্ধিমত্তা এসেছে কোথা থেকে। প্রচলিত বিশ্বাস এটা আমার দুর্বলতা।
আমার সীমাবদ্ধতা।"
লি-হান মাথা নাড়ল, বলল, "না, তোমার ধারণা সত্যি নয়। তোমাকে আমি তোমার
সম্পর্কে কমিটির রিপোর্ট দেখাতে পারব না, যদি পারতাম তাহলে দেখতে তোমার ক্ষমতা
সম্পর্কে কমিটির পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।"
কোনটি সত্যি কথা, কোনটি কাজ উদ্ধারের জন্যে চাটুকারিতা সেটা বোঝা আমার জন্যে
কঠিন নয়। কখন কথা বলতে হয় কখন চুপ করে থাকতে হয় এবং কখন রেগে যেতে হয়
এতদিনে আমি সেটাও শিখে ফেলেছি, কাজেই আমি কোনো কথা না বলে চুপ করে রইলাম।
লি-হান তার গলায় একটু বাড়াবাড়ি উচ্ছ্বাস ফুটিয়ে বলল, "বারোজন মানুষের মস্তিষ্কের
সুষম উপস্থাপন - এর অর্থ বুঝতে পারছ ? বারোজন মানুষ নয় - বারোগুণ মানুষ - বুদ্ধিমত্তার
বারোগুণ -"
আমি হাত তুলে লি-হানকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, "আমি জানি।"
"তাহলে ?"
"তাহলে কী ?"
"তাহলে তোমার মাঝে উৎসাহ নেই কেন ?"
"তুমি শুনতে চাও কেন আমার মাঝে উৎসাহ নেই ?"
লি-হান মাথা নাড়ল, বলল, "হঁ্যা শুনতে চাই।"
"তাহলে শোনো।" আমি একটা বড় নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম, "পঞ্চম মাত্রার এই
মহাকাশযানটি মাত্র তৈরি করা হয়েছে, এটা পরীক্ষা করা দরকার। এই পরীক্ষার জন্যে গিনিপিগ
হিসেবে ব্যবহার করা হবে আমকে - এটাই হচ্ছে সত্যি কথা। এই সত্যি কথা যে জানে তার
পক্ষে এই অভিযানে উৎসাহ পাওয়া সম্ভব নয়।"
"তোমার এই সন্দেহ অমূলক।"
"হতে পারে। কিন্তু তাতে কিছু আসে যায় না।" আমি উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, "আমার
পক্ষে এই অভিযানে যাওয়া সম্ভব নয়।"
"ভেবে দেখ ইবান। তুমি সবসময়ে মানুষের বুদ্ধিমত্তা, মানুষের নৈতিকতা, মানুষের আশা
আকাঙ্খা স্বপড়ব এবং ভালোবাসা নিয়ে ভেবেছ। পৃথিবীর বড় বড় মানুষকে নিয়ে তোমার
কৌতুহল। তারা কেমন করে ভাবে, কেমন করে ভবিষ্যতের স্বপড়ব দেখে সেটা জানতে চেয়েছ।
এই প্রথম তোমার সুযোগ এসেছে পৃথিবীর সেরা মনীষীদের মুখোমুখি হবার। পঞ্চম মাত্রার
মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণপ্রপ্পি ঙ্কার জন্যে তৈরি নিউরাল নেটওয়ার্ক12 শুধুমাত্র তোমাকে সেই সুযোগ
দেবে। তুমি ইচ্ছে করলে পৃথিবীর সেরা মনীষীদের মস্তিষ্ক ম্যাপিং13 সাথে নিয়ে যেতে পারবে।
তোমার দীর্ঘ এবং নিঃসঙ্গ যাত্রাপথে তারা তোমার চমৎকার সঙ্গী হতে পারে। তোমার সারা
জীবনের স্বপড়ব সত্যি হওয়ার -"
আমি হাত নেড়ে বললাম, "তোমার বক্তৃতার জন্যে ধন্যবাদ লি-হান। কিন্তু আমি তোমার
এই প্রস্তাব গ্রহণ করতে পারছি না।"
লি-হান কোনো কথা না বলে আমার দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। আমি মাথা নেড়ে
তার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে লম্বা পা ফেলে ঘর থেকে বের হয়ে এলাম। আমার পিছনে
স্বয়ংপ্পি ঙ্ক দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল তখন লি-হান আমাকে ডাকল, "ইবান।"
আমি ঘুরে তাকিয়ে বললাম, "কী হলো ?"
"আমার ধারণা তুমি কিন্তু শেষপর্যন্ত আমার প্রস্তাবে রাজি হয়ে এই অভিযানে যাবে।"
আমি তীক্ষ্ন চোখে লি-হানের দিকে তাকালাম, সে জোর করে একটু হাসার চেষ্টা করল।
আমি কঠিন গলায় বললাম, "কেন ? তুমি কেন ভাবছ আমি তোমার প্রস্তাবে রাজি হব ?"
"কারণ, তোমার একটা চিঠি এসছে।"
আমি চমকে উঠে বললাম, "চিঠি ?"
"হঁ্যা।"
"কার চিঠি ?"
"তোমার মায়ের।"
"আমার মায়ের ?"
"হঁ্যা।"
আমি কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করলাম, "আমার মা কী লিখেছে চিঠিতে ?"
"আমি জানি না। আন্তঃমহাজাগতিক যোগাযোগ কেন্দ্র থেকে সবেমাত্র পাঠিয়েছে।" লিহান
তার ড্রয়ার থেকে ছোট একটা প্পি ঙ্কাল বের করে আমার দিকে এগিয়ে দিল।
আমি প্পি ঙ্কালটি হাতে নিয়ে লি-হানের দিকে তাকালাম। সে আবার একটু হাসার চেষ্টা
করে বলল, "চিঠিটা এসেছে রিশি নক্ষত্রের কাছাকাছি মানুষের কলোনি থেকে। মাহালা
নক্ষত্রপুঞ্জ পার হয়ে সেই কলোনিতে যেতে হয়।"
লি-হান উঠে দাঁড়িয়ে জানালার কাছে এগিয়ে গেল। জানালা দিয়ে কিছুক্ষণ বাইরে
তাকিয়ে থেকে আবার আমার দিকে ঘুরে তাকিয়ে বলল, "ইবান, তুমি খুব সৌভাগ্যবান যে
একজন মায়ের গর্ভে তোমার জন্ম হয়েছে। তুমি জানো আমার জন্ম হয় নি, আমাকে জিনম
ল্যাবরেটরিতে13 তৈরি করা হয়েছে ! ফ্যাক্টরিতে যেভাবে মহাকাশযানের ইঞ্জিন তেরি করা হয়,
সেভাবে !
আমি লি-হানের দিকে তাকিয়ে রইলাম, আমি একটু অবাক হয়ে লক্ষ করলাম তাকে হঠাৎ
একজন দুঃখী মানুষের মতো দেখাতে থাকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×