somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ফোবিয়ানের যাত্রী - মুহম্মদ জাফর ইকবাল (পাঁচ)

১৩ ই মে, ২০০৬ রাত ১১:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার যখন জ্ঞান ফিরে এল তখন মহাকশযান ফোবিয়ান তার নির্দিষ্ট যাত্রাপথে উড়ে যেতে শুরু
করে দিয়েছে। মহাকাশযানে একটি আরামদায়ক মহাকর্ষ বল। আমি নিরাপত্তা বেল্ট খুলে
চেয়ার থেকে নেমে এসে ডাকলাম, "ফোবি।"
"বলুন মহামান্য ইবান।"
"সবকিছু চলছে ঠিকভাবে ?"
"চলছে মহামান্য ইবান। আপনি সুস্থবোধ করছেন তো ?"
"মাথার ভেতরে একটা ভোঁতা ব্যথা, আশা করছি ঠিক হয়ে যাবে।" আমি কন্ট্রোল
প্যানেলে দূরে অপসৃয়মান গ্রহটির দিকে তাকিয়ে রইলাম, এখনো বিশ্বাস হতে চায় না আমি
আমার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই অশুভ গ্রহটির ভিতরে একটা বায়োডোমে কাটিয়ে
দিয়েছি। আমি মনিটর থেকে চোখ সরাতেই ছোট স্বচ্ছ গোলকটির দিকে চোখ পড়ল, ভেতরে
বিচিত্র একটি গাছ, গাছে নীল পাতা তিরতির করে নড়ছে। আমি গাছটিকে দেখিয়ে জিজ্ঞেস
করলাম, "এটাই কি সৌভাগ্য-বৃক্ষ ?"
"হঁ্যা মহামান্য ইবান। এটা সৌভাগ্য-বৃক্ষ।"
"মানুষের যখন সৌভাগ্য আসে তখন এই গাছে ফুল ফোটে ?"
"সেরকম একটা জনশ্রুতি রয়েছে।"
"তুমি বিশ্বাস কর ?"
ফোবি বলল, "সৌভাগ্য জিনিসটা কী সেটাকে নতুন করে ব্যাখ্যা করলেই এটা বিশ্বাস করা
যায়।"
"কী রকম ?"
"যেমন আপনি যদি ধরে নেন এই বিচিত্র গাছটির ফুল ফুটতে দেখা একধরনের
সৌভাগ্য!"
আমি হা হা করে হেসে বললাম, "ভালোই বলেছ ফোবি। তুমি নিঃসন্দেহে খুব বুদ্ধিমান।"
"ধন্যবাদ মহামান্য ইবান।"
আমি গাছটিকে ভালো করে লক্ষ্য করতে করতে বললাম, "এই সৌভাগ্য-বৃক্ষ আমি
আমার মায়ের জন্যে নিয়ে যাচ্ছি।"
"আমি জানি।"
"তোমার কী মনে হয় ফোবি, আমার মা কি এটা পছন্দ করবেন ?"
"নিশ্চয়ই করবেন।"
"তুমি তো আমার মা'কে কখনো দেখ নি, তুমি কেমন করে জানো ?"
"কারণ আপনার মায়ের কাছে জিনিসটার কোনো গুরুত্ব নেই, আপনি এনেছেন এই
ব্যাপারটির গুরুত্ব অনেক। তা ছাড়া 'সৌভাগ্য-বৃক্ষ' নামটির একটা আকর্ষণ আছে। সৌভাগ্যের
জন্যে অপেক্ষা করাও মানুষ খুব পছন্দ করে।"
আমি একটু হেসে বললাম, "তোমার কথা শুনে মনে হচ্ছে তুমি মানুষকে খুব ভালো করে
বুঝতে পার।"
"আপনাদের জন্যে ব্যাপারটি সহজাত, আমাদের শিখতে হয়। আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে
মানুষকে বুঝতে শিখি।"
আমি সৌভাগ্য-বৃক্ষ থেকে চোখ সরিয়ে হেঁটে জানালার কাছে এগিয়ে গেলাম, বাইরে
নিকষ কালো অন্ধকার তার মাঝে জ্বলজ্বল করে জ্বলছে অসংখ্য নক্ষত্র। মহাকাশযানে একটা
মৃদু কম্পন এ-ছাড়া প্রচণ্ড গতিবেগের কোনো চিহ্ন নেই। মনে হচ্ছে মহাকাশযানটি বুঝি
একজায়গায় স্থির হয়ে আছে। কিন্তু আমি জানি এটি স্থির হয়ে নেই, প্রচণ্ড গতিবেগে এটি ছুটে
চলেছে।
আমি জানালা থেকে চোখ ফিরিয়ে ভিতরে তাকিয়ে বললাম, "সৌভাগ্য-বৃক্ষ ছাড়াও
এখানে আমার জন্যে আরো একটি জিনিস থাকার কথা।"
"আপনি মহামতি রিতুন ক্লিসের মস্তিষ্ক ম্যাপিং-এর কথা বলছেন ?"
"হঁ্যা। সেটা আছে তো ?"
"আছে মহামান্য ইবান। এখনো উপস্থাপন করা হয় নি। আপনি যখন চাইবেন আমাকে
জানাবেন, আমি উপস্থাপন করে দেব।"
"বেশ। আরো কিছু সময় যাক। আমি এই মানুষটির সাথে কথা বলতে খুব আগ্রহী তাই
আগেই বলে ফেলতে চাই না। একটু অপেক্ষা করতে চাই।"
"ঠিক আছে মহামান্য ইবান।"
আমি আবার জানালা দিয়ে বাইরে তাকালাম, কালো আকাশে নক্ষত্রগুলি দেখে বুকের
ভিতরে আবার একধরনের শূন্যতা অনুভব করতে থাকি।
আমি মহাকাশযান ফোবিয়ানের বিভিনড়ব স্তরে ঘুরে ঘুরে পুরোটা পরীক্ষা করে নেই। বাতাসের
চাপ, আর্দ্রতা, জ্বালানির পরিমান, নিয়ন্ত্রণপ্রপ্পি ঙ্কা, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের সরবরাহ থেকে
শুরু করে দৈনন্দিন খাবার বা বিনোদনের ব্যবস্থা সবকিছুই খুঁটিয়ে খুঁি টয়ে দেখলাম। পুরো
মহাকাশযানটির মাঝেই একটা যতেড়বর ছাপ রয়েছে। দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে এটাকে দাঁড়া করানো
হয়েছে। যন্ত্রপাতি এবং প্রযুক্তি আমাকে প্রবলভাবে আকর্ষণ করে, আমি মুগ্ধ হয়ে ফোবিয়ানের
যান্ত্রিক উৎকর্ষ দেখে সময় কাটিয়ে দিতে লাগলাম।
মহাকাশযানটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং খুঁটিয়ে খুঁি টয়ে দেখার অংশটি আমি যাত্রার শুরুতেই
করে নিতে চাইছি কারণ এখন এর ভেতরে একটা আরামদায়ক মহাকর্ষ বল রয়েছে।
মহাকাশযানটির গতিবেগ প্রতিনিয়ত বেড়ে যাচ্ছে, তার ত্বরণের জন্যে এখানে মহাকর্ষ বল -
ইঞ্জিন দুটো বন্ধ করে দেবার পর এখানে আর মহাকর্ষ বল থাকবে না। মহাকাশযানটিকে এর
অক্ষের উপর ঘুরিয়ে আবার মহাকর্ষ বল তৈরি করতে হবে, সেটা হবে বাইরের দিকে।
মহাকাশযান ফোবিয়ানটিকে কাছাকাছি একটা নিউট্রন স্টারের23 দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে -
তার মহাকর্ষ বলকে ব্যবহার করে মহাকাশযানটিকে আবার প্রচণ্ড একটি গতিবেগ দেয়া হবে।
কয়েকদিনের মাঝেই আমি এই মহাকাশযানটিতে বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠলাম। আমার জন্যে
সুসজ্জিত একটি ঘর থাকা সত্ত্বেও আমি কন্ট্রোল প্যানেলের নীচে সব্জি্থপিং ব্যাগের ভেতর ঘুমিয়ে
যেতাম। যেটুকু না-খেলেই নয় আমি সেটুকু খেয়ে সময় কাটিয়ে দিতাম। একা-একা আছি বলে
নিজের চেহারার দিকে কখনো ঘুরে তাকাতাম না এবং দেখতে দেখতে আমার মুখে দাড়িগোঁফের
জঙ্গল হয়ে গেল। অবসর সময় আমি সঙ্গীত শুনে সময় কাটাতাম এবং কখনো কখনো সময়
কাটানো সমস্যা হয়ে গেলে এক টুকরো কৃত্রিম কাঠের টুকরো কুঁদে কুঁদে মানুষের ভাস্কর্য তৈরি
করতে শুরু করতাম। কয়েকদিনের মাঝে মহাকাশযানটি তার প্রয়োজনীয় গতিবেগ অর্জন করে
ফেলবে, মূল ইঞ্জিন দুটি বন্ধ করে দেয়ার পর আমি আবার ভরশূন্য পরিবেশে ফিরে যাব।
মহাকাশযানের জীবনযাত্রায় আমি যখন পুরোপুরি অভ্যস্ত হয়ে উঠলাম তখন একদিন
আমার রিতুন ক্লিসের মুখোমুখি হবার ইচ্ছে করল। আমি ফোবিকে বললাম রিতুন ক্লিসের
মস্তিষ্কের ম্যাপিংটিকে ফোবিয়ানের নিউরাল নেটওয়ার্কে উপস্থাপন করতে।
এ ধরনের কাজ কিছু সময়ের মাঝেই হয়ে যাবার কথা কিন্তু দেখা গেল পুরোটুকু শেষ
করতে ফোবির দীর্ঘ সময় লেগে গেল। নিউরাল নেটওয়ার্কে উপস্থাপন শেষ করে ফোবি আমাকে
নিচু গলায় বলল, "মহামান্য ইবান, আপনি এখন ইচ্ছে করলে মহামান্য রিতুন ক্লিসের সঙ্গে
কথা বলতে পারেন।"
"কীভাবে বলব ? কোথায় রিতুন ক্লিস ?"
"আপনি অনুমতি দিলে আমি তার হলোগ্রাফিক ত্রিমাত্রিক একটি প্রতিচ্ছবি আপনার সমনে
উপস্থাপন করতে পারি।"
"বেশ, তুমি উপস্থাপন কর।"
আমার কথা শেষ হওয়ার আগেই নিয়ন্ত্রণ কক্ষের মাঝামাঝি জায়গা্রয় মধ্যবয়স্ক একজন
মানুষের প্রতিচ্ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠল। মানুষটি একটা ঢিলে আলখালব্জ্থার মতো সাদা পোশাক পরে
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, খুব ধীরে ধীরে সেই মানুষটি আমার দিকে ঘুরে তাকাল। মানুষটিকে
দেখে আমি নিজের শরীরে একধরনের শিহরণ অনুভব করলাম কারণ আমি হঠাৎ করে বুঝতে
পারলাম এটি একটি ত্রিমাত্রিক হলোগ্রাফিক প্রতিচ্ছবি নয়, এটি সত্যিই একজন মানুষ।
মানুষটি আমার দিকে তীব্র দৃষ্টিতে তাকিয়ে কঠিন গলায় জিজ্ঞেস করল, "আমি কোথায় ?"
আমি দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে তাকে অভিবাদন করে বললাম, "মহামান্য রিতুন, আপনি
মহাকাশযান ফোবিয়ানে।"
"আমি এখানে কেন ?"
"আপনার সাথে কথা বলার জন্যে আমি আপনার মস্তিষ্কের ম্যাপিংকে মহাকাশযানের
নিউরাল নেটওয়ার্কে উপস্থাপন করেছি।"
মহামান্য রিতুনের মুখে হঠাৎ একটি গভীর বেদনার ছায়া পড়ল। তিনি বিষণড়ব গলায়
বললেন, "তুমি শুধুমাত্র আমার সাথে কথা বলার জন্যে আমাকে এই ভয়ঙ্কর অমানবিক
পরিবেশে নিয়ে এসেছ ?"
"ভয়ঙ্কর অমানবিক পরিবেশ ?"
"হঁ্যা, এটি একজন মানুষের জন্যে একটি ভয়ঙ্কর পরিবেশ, একটি অসহনীয় পরিবেশ।"
আমি একটু চমকে উঠে বরলাম, "আমি আসলে বুঝতে পারি নি এই পরিবেশটি আপনার
কাছে এত অসহনীয় মনে হবে।"
"বুঝতে পার নি ? মহাকাশযানের নিউরাল নেটওয়ার্কের বিশাল শূন্যতার মাঝে আমি একা
অনন্তকালের জন্যে আটকা পড়ে আছি, আমার জন্ম নেই, মৃতু্য নেই, আদি নেই, অন্ত নেই,
শুরু নেই, শেষ নেই এটি যদি অমানবিক না হয় তাহলে কোনটি অমানবিক ?"
"আমি আসলে বুঝতে পারি নি -"
মহামান্য রিতুন একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার চোখের দিকে তাকালেন, বললেন, "তুমি
বুঝতে পার নি ?"
"না।"
"বুঝতে চেষ্টা করেছ ?"
আমি অপরাধীর মতো বললাম, "আসলে চেষ্টাও করি নি। আমি ভেবেছিলাম এটি আরো
একটি মস্তিষ্কের ম্যাপিং - আসলে আপনি যে সত্যিকার একজন মানুষ হিসেবে আসবেন সেটি
একবারও বুঝতে পারি নি।"
"হঁ্যা, তুমি বিশ্বাস কর, আমি সত্যিকারের একজন মানুষ। আমি রিতুন ক্লিসের মস্তিষ্কের
ম্যাপিং নই - আমিই রিতুন ক্লিস। রক্তমাংসের রিতুন ক্লিস যেটুকু জীবন্ত ছিল আমি ঠিক
ততটুকু জীবন্ত।"
"আমি বিশ্বাস করছি। আমি আগে বুঝতে পারি নি কিন্তু এখন বুঝতে পেরেছি।"
রিতুন ক্লিস আমার দিকে দুই পা এগিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার নাম কী যুবক?"
"আমার নাম ইবান।"
"তুমি কে ?"
"আমি এই মহাকাশযানের অধিনায়ক।"
রিতুন ক্লিস কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইলেন তারপর কাতর গলায় বললেন, "ইবান,
তুমি আমাকে মুক্তি দাও।"
আমি অত্যন্ত বিচলিত হয়ে বললাম, "অবশ্যি আমি আপনাকে মুক্ত করে দেব। অবশ্যি
দেব। কীভাবে করতে হয় আমাকে সেটা বলে দেন -"
"আমাকে এই নিউরাল নেটওয়ার্ক থেকে সরিয়ে নাও। আমার অস্তিত্বকে ধ্বংস করে
দাও।"
"ধ্বংস করে দেব ?"
"হঁ্যা। আমাকে ধ্বংস করে দাও।"
আমি রিতুন ক্লিসের দিকে তাকিয়ে রইলাম এবং হঠাৎ করে আমার ভিতরে এক ধরনের
আতঙ্ক এসে ভর করল। রিতুন ক্লিস আমার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "কী হয়েছে
ইবান?"
"আমি - আমি এখন কী করব ? আমি আপনাকে এই নিউরাল নেটওয়ার্ক থেকে মুক্ত
করতে চাই, কিন্তু সেটি তো একটা হত্যাকাণ্ডের মতো -"
রিতুন ক্লিস কাতর গলায় বললেন, "তাহলে কী এখান থেকে আমার মুক্তি নেই ?"
"আপনি কি নিজেকে নিজে মুক্ত করতে পারেন না ?"
"আমি জানি না। আমি যখন বেঁচে ছিলাম তখন প্রযুক্তি এরকম ছিল না। এরকম নিউরাল
নেটওয়ার্কও ছিল না, সেখানে মানুষের মস্তিষ্কের ম্যাপিং করা যেত না।"
"হয়ত ফোবি বলতে পারবে।" আমি উচ্চস্বরে ডাকলাম, "ফোবি - ফোবি -"
ফোবি নিচু গলায় বলল, "বলুন মহামান্য ইবান।"
"তুমি কি নিউরাল নেটওয়ার্কে এমন ব্যবস্থা করে দিতে পারবে যেন মহামান্য রিতুন ক্লিস
নিজেকে নিজে মুছে দিতে পারবেন ? অস্তিত্বকে সরিয়ে দিতে পারবেন ?"
ফোবি উত্তর দিতে কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে বলল, "নেটওয়ার্কের কোনো প্রপ্পি ঙ্কা নিজে
থেকে নিজে ধ্বংস করা অত্যন্ত বিপজ্জনক কাজ। সেটি সচরাচর করা হয় না।"
"কিন্তু করা কি সম্ভব ?"
ফোবি আবার কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে বলল, "হঁ্যা, অন্তত্য বিশেষ প্রয়োজনে সেটি করা
সম্ভব। আপনি যদি নিজে ঝুঁকি নিয়ে সেটি করতে চান, সেটা করা যেতে পারে।"
"বেশ, তাহলে তুমি ব্যবস্থা করে দাও যেন মহামান্য রিতুন নিজেকে নিজে নিউরাল
নেটওয়ার্ক থেকে অপসারিত করতে পারেন।"
ফোবি আবার কয়েক মুহূর্ত সময় নিয়ে বলল, "আপনি যদি চান, তাহলে তাই করে দেব।"
আমি এবারে রিতুন ক্লিসের দিকে তাকিয়ে বললাম, "মহামান্য রিতুন, আপনাকে যেন এই
নিউরাল ন্টেওয়ার্কে আটকা পড়ে থাকতে না হয় তার ব্যবস্থা করে দেয়া হয়েছে, আপনি নিজেকে
নিজে অপসারিত করতে পারবেন।"
মহামান্য রিতুন কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে থেকে হাসার চেষ্টা করে বললেন, "তার
অর্থ তুমি হত্যা করতে চাও না বলে আমাকে আত্দহত্যা করতে হবে ?"
আমি কী বলব বুঝতে পারলাম না, একটু হতচকিত হয়ে রিতুন ক্লিসের দিকে তাকিয়ে
রইলাম। তিনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, "বেশ তাহলে তাই হোক।"
নিয়ন্ত্রন কক্ষের মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে থাকা রিতুন ক্লিসের প্রতিচ্ছবিটি ধীরে ধীরে মিলিয়ে
গেল। আমি একটা নিঃশ্বাস ফেলে যাকলাম, "ফোবি।"
"বলুন মহামান্য ইবান।"
"এই সুদীর্ঘ অভিযানে আমি একা, ভেবেছিলাম মহামান্য রিতুন ক্লিসের সঙ্গে কথা বলে
সময় কাটাব, কিন্তু দেখতে পেলে কী হলো ?"
"আমি দুঃখিত মহামান্য ইবান।"
"আসলে তুমি দুঃখিত নও ফোবি। তোমার দুঃখিত হবার ক্ষমতাও নেই।"
"আপনি ঠিকই বলেছেন মহামান্য ইবান।"
"এই মহাকাশযানে সময় কাটনো নিয়ে আমার খুব বড় সমস্যা হয়ে যাবে। খুব বড়
সমস্যা।"
আমি তখন খুণাক্ষরেও সন্দেহ করি নি যে আমার এই কথাটি আসলে ভয়ঙ্করভাবে ভুল
প্রমাণিত হবে।
এরপরের কয়দিন অবশ্যি আমার সময় কাটানো নিয়ে বড় কোনো সমস্যা হলো না,
মহাকাশযানটি প্রয়োজনীয় গতিবেগ অর্জন করে ফেলেছে এখন ইঞ্জিন দুটো বন্ধ করে দিতে
হবে। মহাকাশযান পরিচালনার নিয়মকানুনে ইঞ্জিনদুটো হঠাৎ করে বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে
নানারকম বিধিনিষেধ রয়েছে। এর আগে আমি কখনোই একা কোনো মহাকাশযানে ছিলাম না,
কাজেই নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়েছে। এবারে সে-ধরনের কোনো সমস্যা নেই, কাজেই
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×