আমি মিত্তকাকে নিয়ে মহাকাশযানের নির্জন করিডোর ধরে ফিরে আসছিলাম, ম্যাঙ্গেল ক্বাস এই
মহাকাশযানের কোথাও লুকিয়ে আছে হঠাৎ করে ভয়ঙ্কর চিৎকার করে অস্ত্র হাতে আমার উপর
ঝাঁপিয়ে পড়বে এই ধরনের একটা আশংকায় আমার বুকের ভিতর হৃৎপিণ্ড ধকধক শব্দ করতে
থাকে। করিডোরের মাঝামাঝি এসে আমি চাপাগলায় ফোবিকে ডাকলাম, "ফোবি।"
ফোবি আমার কানের কাছে থেকে উত্তর দিল, "বলুন মহামান্য ইবান।"
"ম্যাঙ্গেল ক্বাস শীতল ক্যাপসুল থেকে বের হয়ে গেছে।"
"আমি জানি।"
"তুমি কেমন করে জনো ? কার্গো বে'তে তো নিউরাল নেটওয়ার্কের যোগাযোগ নেই।"
"ম্যাঙ্গেল ক্বাস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে আছে।"
আমি চাপাগলায় চিৎকার করে বললাম, "কী বললে ?"
"বলেছি ম্যাঙ্গেল ক্বাস নিয়ন্ত্রণ কক্ষে বসে আছে।"
আমার নিজের কানকে বিশ্বাস হলো না, অবিশ্বাসের গলায় বললাম, "কী বললে, নিয়ন্ত্রন
কক্ষে বসে আছে ?"
"ঠিক করে বললে বলতে হয় ভেসে আছে।"
"কেন ?"
"মনে হয় আপনার জন্যে অপেক্ষা করছে।"
"আমার জন্যে ? আমার জন্যে কেন ?"
"যতদূর মনে হয় মহাকাশযানের নিয়ন্ত্রণটি নিতে চায়।"
"ওর কাছে কি কোনো অস্ত্র আছে ?"
"নেই।"
"একেবারে খালি হাতে আমার জন্যে অপেক্ষা করছে ?"
"হঁ্যা। মানুষটি খুব আত্দবিশ্বাসী।"
"তুমি কীভাবে জান ?"
ফোবি একটু ইতস্তত করে বলল, "মানুষের চরিত্রের সাথে পরিচিত হওয়ার জন্য আমাদের
বিশেষ করে প্রস্তুত করা হয়।"
"ও।"
আমি মিত্তিকার দিকে তাকালাম, সে পুরো ব্যাপারটি এখনো বুঝতে পারছে না, খানিকটা
বিস্ময় এবং অনেকখানি আতঙ্ক নিয়ে সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। শুকনো মুখে বলল,
"এখন কী হবে ?"
প্রশড়বটি অত্যন্ত সহজ এবং সরল কিন্তু এর উত্তরটি সহজ কিংবা সরল নয়। আমার হঠাৎ
করে মনে হতে থাকে যে এই প্রশড়বটির উত্তর কারোই জানা নেই। কিন্তু মিত্তিকাকে আমি সেকথা
বলতে পারি না। মহাকাশযানের অধিনায়ক হিসেবে এরকম পরিবেশে যে-ধরনের উত্তর দেবার
কথা আমি সেরক একটি দিলাম। বললাম, "পুরো ব্যাপারটি বিশেব্জ্থষণ না করে এখন কিছু বলা
যাচ্ছে না।"
মিত্তিকা ফ্যাকাসে মুখে আমার দিকে তাকিয়ে শুকনো গলায বলল, "তার মানে ম্যাঙ্গেল
ক্বাস আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে ?"
"মানুষকে মেরে ফেলা এত সহজ ব্যাপার নয়।"
"কিন্তু তুমি তো মানুষকে মেরে ফেলার জন্যে একটা অস্ত নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছ।"
আমি এই কথার কী উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না - উত্তর দেয়ার সময় হলো না, কারণ
ততক্ষণে আমরা নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পেঁৗছে গেছি। নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের সামনে একজন মানুষ আমার
দিকে পিছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে - মানুষটি নিশ্চয়ই ম্যাঙ্গেল ক্বাস।
প্রথমেই আমার যে কথাটি মনে হলো সেটি হচ্ছে ইচ্ছে করলেই আমি তাকে এখনই গুলি
করে মেরে ফেলতে পারি। এই ধরনের একটা কথা আমার মাথায় এসছে বলে পরমুহূর্তে হঠাৎ
করে আমার নিজের উপর একধরনের ঘৃণাবোধর জন্ম হলো। আমি কিছু বলার আগেই ম্যাঙ্গেল
ক্বাস ধীরে ধীরে ঘুরে আমার দিকে তাকাল, ভরশূন্য পরিবেশে তার সহজে ঘোরার ভঙ্গি দেখে
আমি বুঝতে পারলাম সে তার জীবনের দীর্ঘ সময় মহাকাশযানে কাটিয়েছে।
ম্যাঙ্গেল ক্বাস মানুষটি সুদর্শন বলে শুনেছিলাম এবং আমি দেখতে পেলাম কথাটি সত্যি।
তার মাথায় কালো চুল, খাড়া নাক, এবং গভীর নীল চোখ। গায়ের রঙ তামাটে এবং মুখে
একধরনের চাপা হাসি। আমি আরেকটু এগিয়ে গেলাম এবং হঠাৎ করে আবিষ্কার করলাম মানুষটি সুদর্শন হলেও সেখানে একধরনের বিচিত্র কদর্যতা লুকিয়ে আছে। সেই কদর্যতাটি
কোথায় - তার চোখের দৃষ্টিতে নাকি মুখের চাপা হাসিতে আমি ঠিক ধরতে পারলাম না।
মানুষটি আমার চোখের দিকে তাকাল এবং মুখের হাসিটি আরো বিস্তৃত করে বলল, "তোমাকে
আমি একটি সুযোগ দিয়েছিলাম, তুমি সেই সুযোগ গ্রহণ করলে না।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাসের কথা বলার ভঙ্গিটি অত্যন্ত বিচিত্র। মনে হয় প্রত্যেকটা শব্দ আলাদা
আলাদাভাবে উচ্চারণ করে এবং কথাটি শেষ হবার পরও মনে হয় তার কথা এখনো শেষ হয়
নি।
কোনো একটি বিচিত্র কারণে ম্যাঙ্গেল ক্বাস কী বলছে আমি সেটা বুঝতে পারলাম এবং
সেজন্যে আমার নিজের উপর আবার একটু ঘৃণাবোধের জন্ম হলো। ম্যাঙ্গেল ক্বাসের মুখের ভঙ্গি
খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হলো, সে মুখের হাসি সরিয়ে সেখানে একধরনের অনুকম্পার ভাব
ফুটিয়ে জিজ্ঞেস করল, "তোমার হাতে অস্ত্র ছিল, তুমি কেন আমাকে হত্যা করলে না ?"
"যদি তোমাকে হত্যা করার প্রয়োজন হতো, আমি তাহলে নিশ্চয়ই তোমাকে হত্যা করতাম
ম্যাঙ্গেল ক্বাস।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস মাথা নেড়ে আবার আলাদা আলাদাভাবে একটি একটি শব্দ উচ্চারণ করে
বলল, "আমি কিন্তু প্রয়োজন ছাড়াই হত্যা করতে পারি।"
আমি একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললাম, "তুমি কী চাও ?"
"আপাতত এই মহাকাশযানটির কতৃত্ব চাই। এটিকে আমার নিজের এলাকায় নিতে
চাই।"
"আমি দুঃখিত ম্যাঙ্গেল ক্বাস সেটি সম্ভব নয়। আমি এই মহাকাশযানের অধিনায়ক -"
আমার কথা শেষ হবার আগেই ম্যাঙ্গেল ক্বাস তার ডান হাত উপরে তুলে আমার মাথার
উপরে আঙ্গুলি নির্দেশ করল, এবং হঠাৎ করে আমি ভয়ঙ্কর আতংকে শিউরে উঠলাম, আমি
বুঝতে পারলাম, ম্যাঙ্গেল ক্বাস একজন হাইব্রিড24, একই সাথে যন্ত্র এবং মানুষ। তার শরীরের
ভেতরে অস্ত্র, সেই অস্ত্র ব্যবহার করে সে তার আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে ভয়ংকর বিস্ফোরক ছুঁড়ে
দিতে পারে। আমি হতবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম এবং হঠাৎ বিদু্যৎঝলকের মতো তার আঙ্গুল
থেকে বিস্ফোরক ছুটে এল। আমি মিত্তিকাকে নিয়ে নিয়ন্ত্রন কক্ষের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়লাম,
মাথার উপর দিয়ে বিস্ফোরক ছুটে গেল এবং প্রচণ্ড বিস্ফোরণে নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়াল চূর্ণ হয়ে
গেল।
ম্যাঙ্গেল ক্বাস তার হাত নামিয়ে আনে, আমি দেখতে পেলাম তার আঙ্গুলের ডগা থেকে রক্ত
চুইয়ে পড়ছে, শরীরের ভেতরে বিস্ফোরক লুকানো থাকে, চামড়া ভেদ করে সেটি বের হয়ে
এসেছে। ভরশূন্য পরিবেশে আমি কয়েকবার লুটোপুটি খেয়ে নিজেকে সামলে নিলাম, ম্যাঙ্গেল
ক্বাস নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে সাবলীল ভঙ্গিতে একটি লাফ দিয়ে একেবারে আমার সামনে এসে
হাজির হলো - আমি ততক্ষণে উরু থেকে আমার অস্ত্রটি বের করে এনেছি। ম্যাঙ্গেল ক্বাসের
দিকে সেটি তাক করে বললাম, "তুমি দুই হাত উপরে তুলে দাঁড়াও ম্যাঙ্গেল ক্বাস।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস এমনভাবে হেসে উঠল যেন আমি অত্যন্ত মজার একটা কথা বলেছি। আমি
কঠোর মুখে বললাম, "আমি এই মহাকাশযানের অধিনায়ক। আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি তুমি
দুই হাত উপরে তুলে দাঁড়াও -"
ম্যাঙ্গেল ক্বাসের মুখে একটা বিচিত্র হাসি ফুটে উঠল এবং সে হাত উপরে না তুলে খুব ধীরে
ধীরে আমার দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করে। আমি স্বয়ংপ্পি ঙ্ক অস্ত্রটি তাক করে চিৎকার করে
বললাম, "খবরদার -"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস ভ্রুক্ষেপ করল না। ধীরে ধীরে তার হাত আমার দিকে তুলে ধরতে শুরু করল
এবং আমি তখন মরিয়া হয়ে স্বয়ংপ্পি ঙ্ক অস্ত্রটির ট্রিগার টেনে ধরলাম। ভয়ংকর বিস্ফোরণের শব্দে
কানে তালা লেগে গেল এবং ম্যাঙ্গেল ক্বাস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেয়ালে গিয়ে ছিটকে পড়ল। আমি
তখনো থরথর করে কাঁপছি, জীবনে কখনো কোনো মানুষকে নিজ হাতে খুন করতে হবে ভাবি
নি। আমি গভীর বিতৃষ্ণা নিয়ে আবিষ্কার করলাম ব্যাপারটি এমন কিছু কঠিন নয়। মিত্তিকা
আমার হাত ধরে বলল, "ইবান।"
"কী হলো ?"
"ঐ দেখ -"
আমি মাথা ঘুরিয়ে দেখলাম, ম্যাঙ্গেল ক্বাস আবার সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তার শরীরে
আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই। সে আমার দিকে তাকিয়ে হাসল, তারপর একটা নিঃশ্বাস ফেলে
নিজের গালের চামড়াকে ধরে টেনে লম্বা করে ফেলতে থাকে, আমি সবিস্ময়ে দেখলাম গলিত
পলিমারের মতো সেটা উপরে উঠে আসছে, বেশ খানিকটা উপরে তুলে এনে ছেড়ে দিতেই সেটা শব্দ করে আবার রবারের মতো নিচে নেমে এল। মিত্তিকা শিউরে উঠে আমাকে জাপটে ধরে
ফিসফিস করে বলল, "দানব, নিশ্চয়ই দানব।"
ম্যাঙ্গেস ক্বাস মাথা নাড়ল, বলল, "না। দানব না। হাইব্রিড। আধা যন্ত্র আধা মানুষ।
আমার চামড়ার উপর সুক্ষ্ম বায়োমারের25 আস্তরণ রয়েছে। সেটাকে ভেদ করে যাবার মতো
কোনো বিস্ফোরক নেই। আমাকে হত্যা করার মতো কোনো অস্ত্র তৈরি হয় নি মেয়ে।"
আমি হতচকিতের মতো তাকিয়ে রইলাম, ম্যাঙ্গেল ক্বাসের চোখ দুটি হঠাৎ হিংস্র পশুর
মতো জ্বলে ওঠে, সে আমার কাছে এগিয়ে এসে আঙ্গুল নির্দেশ করে বলল, "কিন্তু তোমার মতো
মানুষকে সহস্রবার ছিনড়বভিনড়ব করে দেবার মতো অস্ত্র আমার দেহে আছে।"
আমি নিঃশ্বাস বন্ধ করে রইলাম, ম্যাঙ্গেল ক্বাস আমার দিকে আরো এক পা এগিয়ে এল
তারপর ফিসফিস করে বলল, "কিন্তু আমি এই মুহূর্তে তোমাকে ছিনড়বভিনড়ব করে দেব না। কারণ
তোমাকে আমার প্রয়োজন।"
আমি স্থির চোখে ম্যাঙ্গেল ক্বাসের দিকে তাকিয়ে রইলাম। ম্যাঙ্গেল ক্বাস আলাদা
আলাদাভাবে প্রতিটি শব্দ উচ্চারণ করে বলল, "আমি কি তোমার নিকট থেকে প্রয়োজনীয়
সহযোগীতা পেতে পারি ?"
আমি কোনো উত্তর দিলাম না, ম্যাঙ্গেল ক্বাসের মুখে আবার হাসি ফুটে উঠল, বলল,
"নিশ্চয়ই পেতে পারি। এই মেয়েটিকে আমি শীতল ঘর থেকে বের করে এনেছি। তুমি নিশ্চয়ই
এরকম কমবয়সী একটি মেয়ের শরীরকে ছিনড়বভিনড়ব হতে দেখতে চাও না।"
আমি চুপ করে রইলাম। ম্যাঙ্গেল ক্বাস চাপাগলায় বলল, "চাও ইবান ?"
মিত্তিকা আমাকে ধরে আর্তচিৎকার করে থরথর করে কেঁপে উঠল। আমি মাথা নাড়লাম,
"না চাই না।"
"চমৎকার।"
ম্যাঙ্গেল ক্বাস এবার শূন্যে ভেসে আমার নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের কাছে ফিরে গেল, সেখানে
দাঁড়িয়ে আমার দিকে তাঁকিয়ে বলল, "তোমরা বিশ্রাম নিতে যাও। আমার যখন প্রয়োজন হবে
আমি তোমাদের ডাকব।"
আমি মিত্তিকাকে ধরে ঘর থেকে বের হয়ে যাচ্ছিলাম, ম্যাঙ্গেল ক্বাস আবার ডাকল,
"ইবান।"
"বল।"
"তোমার স্বয়ংপ্পি ঙ্ক অস্ত্রটিকে রেখে যাও। বুঝতেই পারছ এটি তোমার জন্যে একটি জঞ্জাল
ছাড়া আর কিছু নয়।"
আমি হাতের অস্ত্রটি ম্যাঙ্গেল ক্বাসের দিকে ছুঁড়ে দিলাম, সে হাত দিয়ে সেটিকে সরিয়ে দিয়ে
নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের উপর ঝুঁকে পড়ল, অস্ত্রটি সত্যি-সত্যি অপ্রয়োজনীয় জঞ্জালের মতো পাক
খেয়ে ভেসে বেড়াতে থাকে।
প্রায় হিস্টিরিয়াগ্রস্ত মিত্তিকাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে একটা বিশ্রামঘরে শুইয়ে আমি নিজের ঘরে
ফিরে এসেছি। অধিনায়কের জন্যে আলাদা করে রাখা আমার এই ঘরটিতে আমি খুব একটা
আসি নি। দরজা খুলে ভিতরে ঢুকে আমি চমকে উঠলাম, আমার বিছানার পাশের আরামদায়ক
চেয়ারে কেউ-একজন বসে আছে। আমাকে দেখে মানুষটি ঘুরে তাকাল এবং আমি তাকে
চিনতে পারলাম, মানুষটি রিতুন ক্লিস, সত্যিকারের মানুষ নন, তার হলোগ্রাফিক প্রতিচ্ছবি।
আমি অবাক হয়ে বললাম, "মহামান্য রিতুন ক্লিস, আপনি ?"
"হঁ্যা, আমি।"
"আমি ভেবেছিলাম আপনি এই নিউরাল নেটওয়ার্ক থেকে মুক্তি নিয়ে আমাদের এখান
থেকে চলে গেছেন।"
"হঁ্যা, আমি মুক্তি চেয়েছিলাম, কিন্তু যে কারণে তুমি আমাকে হত্যা করতে পার নি, ঠিক
সেই কারণে আমিও নিজেকে হত্যা করতে পারি নি। তা ছাড়া -"
"তা ছাড়া ?"
"তা ছাড়া ম্যাঙ্গেল ক্বাসের কাজ দেখে হঠাৎ আমার একটু কৌতুহল হলো, ইচ্ছে হলো কী
করে দেখি।"
"দেখেছেন ?"
"হঁ্যা দেখেছি। গত দুইশ বছরে প্রযুক্তির অনেক উনড়বতি হয়েছে। আমাদের সময় হাইব্রিড
ছিল না। অত্যন্ত বিচিত্র একটি প্রপ্পি ঙ্কা। অত্যন্ত বিচিত্র একটি ধারণা।"
আমি একটি নিশ্বাস ফেললাম। রিতুন ক্লিস আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, "তোমাকে খুব
বিচলিত মনে হচ্ছে ইবান।"
আমি খুব অবাক হয়ে বললাম, "এটি কি বিচলিত হওয়ার মতো ব্যাপার নয় ? আমি একটি
মহাকাশযানের অধিনায়ক। সেই মহাকাশযানের শীতল ক্যাপসুল থেকে একটি দসু্য বের হয়ে
পুরো মহাকাশযানটি দখল করে ফেলল। আমাকে এখন তার কথা শুনতে হবে, তা না হলে সে
মানুষ খুন করে ফেলবে।"
রিতুন ক্লিস শব্দ করে হাসলেন, বললেন, "জীবনকে এত গুরুত্ব দিয়ে নিতে হয় না। একটি
দসু্যর যা করার কথা সে তাই করেছে। তুমি একটি মহাকাশযানের অধিনায়ক, তোমার যা
করার কথা তুমি তাই করো।"
"আমি কী করব ?"
"আমি সেটা কেমন করে বলি ? তবে তুমি কী কর আমি সেটাও দেখার জন্যে খুব
কৌতুহল নিয়ে অপেক্ষা করছি।"
"মহামান্য রিতুন, আপনি সর্বকালের একজন শ্রেষ্ঠ প্রতিভাবান মানুষ। আমি খুব সাধারণ
একজন মানুষ, শুধুমাত্র পরিশ্রমে করে আমি এ পর্যন্ত এসেছি। আমি বড় বিপদ দেখি নি,
কীভাবে সেটার মুখোমুখি হতে হয় জানি না।"
"সেটা কেউই জানে না ইবান। জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেটা শিখতে হয়।"
"আমি আপনার কাছে সাহায্য চাই মহামান্য রিতুন।"
মহামান্য রিতুন একটা নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, "তোমাদের এই পুরো ব্যাপারটি আমার
কাছে একটি পরাবাস্তব নাটিকার মতো - আমি এর একজন দর্শক। এর ভালো-মন্দে আমার
কিছু আসে যায় না। আমি এতে অংশ নিতে পারব না ইবান। আমি শুধু দেখে যাব।"
"আপনি বলতে চাইছেন ম্যাঙ্গেল ক্বাস যদি একজন একজন করে মানুষ খুন করতে থাকে
আপনি এতটুকু বিচলিত হবেন না ?"
"আমি বলতে পারছি না ইবান। আমি হয়ত বিচলিত হব, অভিনয় জেনেও মানুষ
অভিনেতার ভালো অভিনয় দেখে অভিভূত হয়।"
আমি দুই হাতে নিজের চুল ধরে টানতে থাকি তারপর কাতর গলায় বলি, "মহামান্য রিতুন,
আপনি একবার বলুন, আমি কী করব।"
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




