somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটু খানি কলেজ অনেকখানি ভালবাসা

৩১ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কলেজ লাইফে প্রেম খুবই সাধারণ একটা বিষয় । এ নিয়ে সব পিতা মাতাই একটু চিন্তায় থাকেন । আমার বাবা মা বাদে । কারণ তারা জানেন যে এইরকম আনস্মার্ট ছেলের জন্য প্রেমিকা তো দূরের ব্যাপার বিয়ের বউও জুটবে না ।
নানা বলেন ,"কলেজে পড়স কিন্তু এ কি অবস্থা? চুলটা ব্যাকব্রাশ করবি ক্লিনশেভ করবি । নাকের নিচে একটা মোচ থাকব । একটা নায়ক নায়ক ভাব থাকব । চশমা পড়স ক্যান? বুইড়া না কি? আর শরীরের এই অবস্থা ক্যান । পাকিস্তান পিরিয়ডে এক মেজর কি বলছিলো জানিস? তুম তো সাচ কাহি পাঠান অর বিলেতীই হোগা ।"
আমি একটু বিরক্ত হই । নানা এইটা হাসিনার আমল। আইয়ুব খানের না। এই জিনিসটা বুঝলানা । আইয়ুব খান থেকে কলেজে ফিরে আসি ।
বাবা মায়ের টেনশনে চুল পড়ে যাচ্ছে । যাদের লাভম্যারেজ তারা গোয়েন্দায় রূপ নিচ্ছেন । সেরকমই একটা গল্প বলি । গল্পই সত্য নয় ।
এক মহিলা পার্কের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন । হঠাৎ দেখলেন একটা ছেলে আর মেয়ে চুটিয়ে প্রেম করছে । দেখেই তার আগের কথা মনে পড়ল। তারপর মেয়েটার জন্য দোয়া করলেন । মেয়েটা যেন সুখি হয় । কিছুক্ষন পর ওরা যখন উঠে আসল তখন দেখলেন ছেলেটা আর কেউ নয় তারই ছেলে ।
ফলাফলঃ ছেলের ফোন লকারে । পকেটমানি অফ। পাড়ার লোক জানল ছেলে বাজে মেয়েদের সঙ্গে থেকে খারাপ হয়ে যাচ্ছে ।
আরো একটা ঘটনা । নিজের চোখে দেখা । স্যার ক্লাস নিয়ে চলে যাচ্ছেন । হঠাৎ দেখলেন দুটো ছেলে মেয়ে ফাকা ক্লাসে প্রেম করতেছে । ব্যাস । ওদের কপালে জুটল ফাকিবাজ, নষ্ট ছেলে মেয়ে, কলিযুগের অসুর ব্লা ব্লা তকমা ।
আর সিনিয়রের চোখরাঙাণী তো মাস্ট । চিপায় ডেকে জ্ঞান । লাভ নাই লাভ নাই । কয়েকদিন পর বিড়ি থাকব মাইয়ার জায়গায় । আমি বলি শোন আমার সাথে ওর একটু....
এতকিছুর পরও ভালবেসে যায় ওরা । কেউ ভালবেসে বিয়ে করে । ভাল থাকে। কেউ আলাদা হয়ে যায় । পরাজিতর কখনো ইতিহাস থাকে না । কারো ফুলে ভ্রমর আর কখনোই বসে না । একদল ভালবাসা কে কি কোথায় কি কাজ করে এইগুলা বোঝে না । বা বুঝলেও বেশি বোঝে । যেমন আমি । আমি ইদানিং মহাজাগতিক ভালবাসা অনুভব করছি । আমার আশেপাশের সকল বস্তুকনার প্রতি ভালবাসা অনুভব করছি । একটা ভাত । ওটাকে আমি ভালবাসি । যাকে ভালবাসি তাকে কিভাবে খাই ।
তবে যাদের কথা বলব তারা আবার অন্যপ্রজাতির । তারা কোয়ান্টাম প্রেমিক প্রেমিকা । তাদের ভালবাসা কোয়ান্টা আকারে থাকে । একেক সময় একেক জনের উপর থেকে আরেক জনের উপরে পরে । এরা সবসময় আমার কাছে রহস্যময় । আমি এদের নিয়ে ঘাঁটি না। মাঝেমাঝে মনে হয় সমাজ ওদের জন্য দায়ী । পরক্ষনেই একটা বিপরীত যুক্তি মাথায় আসে । তবে একটা জিনিস বলি মানুষের চরিত্রের এই দিকটা আমি খুবই অপছন্দ করি ।
আবার ফিজিক্স থেকে কলেজে ফিরে আসি। কিছু ছেলে মেয়ে ভালবেসে যায় । কিন্তু ওপাশ থেকে কাঙ্খিত লোকটা সারা জীবন অধরাই থেকে যায় । জীবনের একটা মূহুর্তে বুকে হাত দিয়ে এরা মনে মনে বলে আমিও ভালবেসেছিলাম। যারা প্রেমে সফল । তারা তো আসল পুরুষ । যারা বিফল তাদের কাছে ভালবাসার দাম খুবই কম । আর যারা ভালবাসতে পারে নি । তাদের কাছে ভালবাসা রহস্যজনক । তারা একে যক্ষের ধন ভাবে। আজব কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে কলেজটা শেষ করলাম। দেখা যাক পরবর্তি জীবনটা কেমন হয় । এ তো কেবল শুরু। জীবনের পাঠশালার প্রাইমারী স্কুল । আমরা যারা একটু লেখার চেষ্টা করি তাদের জন্য প্রেম হচ্ছে একটা মজার সাবজেক্ট একটু ডানে বায়ে ঘুরিয়ে বলে দিলেই হয় । এ নিয়ে সারাজীবন লেখলেও ফুরাবে না । নিজের একমুহুর্তের ভাল লাগাকে নিয়ে উপন্যাস ইজিলি লেখা যায় ।
আমি ভালবাসাকে মহাজাগতিক ভাবেই দেখি । সবাইকে নিয়ে বাচব । এতেই শান্তি ।
ওরা ভালবেসেছে । সময় হয়ত আস্তে আস্তে সবার কাছে এর অর্থ বদলে দেবে কিন্তু মস্তিষ্ক একে সারাজীবন নিজের মধ্যে আকড়ে ধরে রাখবে । মানুষ হয়ত অনেকক্ষেত্রেই সময়কে হারিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বা যাবে । কিন্তু এই একটিক্ষেত্রে মানুষ নকআউট সময়ের কাছে । একদম নকআউট । তবে হ্যা । কোয়ান্টাম ভালবাসা যাদের তাদের কথা আলাদা । এদের কথা পরে বলব । আজকে না হয় ভালবাসা খেলনা না হয়ে স্বর্গীয় অনুভুতি হয়েই থাক ।
.
৩১.অক্টো.২০১৫
মহাআঁতেলের রোজনামচা ১৫
সায়ানাইড সাকিব ।।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"টোকাই থেকে হিরো"

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:১৬



টোকাই থেকে হিরো! বাংলা ছবির  অশ্লীল যুগে মুক্তি পাওয়া এক ঢাকাইয়া চলচ্চিত্র। ছবিতে প্রেক্ষাপটে অনেকটা এইরকম - বস্তিতে বেড়ে উঠা; মানুষের লাথি- উষ্টা খেয়ে বড় হওয়া এক টোকাই (ছবির... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুখরিত জীবনের চলার পথে, ব্লগের মুখরিত দিন

লিখেছেন মেহবুবা, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:১৪


ব্লগ স্কুল, মজারু
ছোটন চলে স্কুলেতে বই শ্লেট হাতে ,
বদরুল ভাই কাঁদছে ভীষন যাবে সাথে সাথে,
চান্কু হল লক্ষ্মীছাড়া পান্কু হয়ে ঘোরে ,
চিটি যাবে সবার আগে উঠল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ফোনে কয়টি গান সেভ করা আছে? #:-S

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৩০



কদিন আগে একটা ফোন নিতে হয়েছে। আগের ফোনটা তিন বছরের মত সার্ভিস দিয়েছে। তবে টাচস্ক্রিনে সমস্যা দেখার কারণে সেটা ঠিক মত ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। নতুন ফোন বলে সেটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×