somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্যাসিনো সম্রাটের আবার হয়তো সম্রাজ্যে প্রত্যাবর্তণ...

২৭ শে আগস্ট, ২০২২ ভোর ৪:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

করোনা কালে বার্ধক্য বিষয়ক জটিলতার জন্য আমার ৮০ উর্ধ বাবাকে পেস মেকার প্রতিস্থাপনের জন্য জাতীয় হৃদরোগ ইনিষ্টিটিউট (NICVD). তে নিতে হয়েছিল। সে সময় আমার বাবাকে (CCU)তে প্রায় ২০/২৫ দিন রাখা হয়েছিল। আর হয়তো দুর্ভাগ্য বশতই সম্রাটের সাথে পরিচয় হয়েছিল আমার কারণ সেও ওখানে ভর্তি ছিল। আমার বাবার বেডের কয়েকটা বেড পর একজন যুগ্ম সচিবের ২০/২২ বছরের শারীরিক ও মানষিক প্রতিবন্ধী ও হৃদযন্ত্র সহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মারাত্নক জটিলতা নিয়ে ভর্তি ছিল। যাকে দেখে সবারই অত্যান্ত্ মায়া লাগতো, আর প্রায় সকলেই ওর কাছে গিয়ে ওর মায়ের নিকট কুশলাদি জানতে চাইতো। আর সেই বেডের প্রায় সাথেই ছিল ক্যাসিনো সম্রাটের বেড। ওখানে গিয়ে কথা বল্লেই সেও, বিভিন্ন কথার সুত্র ধরে আমার সাথে গল্প জুড়ে দিতো...। তার নিরাপত্তার জন্য গেটে ৪ জন ও তার বেডের সাথে ২জন পুলিশ সর্বদা নিযুক্ত থাকতো। নার্সদের কাছে শুনেছিলাম তার হার্টে ২টি রিং পরানো আছে, তার দ্রুত ঘুমানো উচিৎ, কিন্তু সে প্রায় প্রতি রাতেই ১/২ পর্যন্ত পুলিশদের সাথে তার নিজের গুনগাঁথা নিয়ে অড্ডা দিতো। অনেক সময়, রাতে পুলিশদের দিয়ে বাইরে থেকে ভাল ভাল খাবার নিয়ে এসে সকলে মিলে খেতো আর আড্ডা দিতো। এর মধ্যে একদিন দেখেছিলাম, এক সিনিয়ার পুলিশ অন্য জুনিয়ার পুলিশকে অভয় দিয়ে বলছে, আরে খা,খা ভাল জিনিস, স্যারে যখন দিছে ভালবেসে অসুবিধা নাই খা.. জুনিয়ারটি কিছু সময় ইতস্তত করে তারপর বড়ভাইয়ের কথা মত খেতে শুরু করলো। এই বিষয়টা দারুণ উপভোগ করেছিলাম। নার্স বলছিল যে, এবার নিয়ে ২বার আসলো এখানে, ১মবার খুব কড়াকড়ি ছিল, ডাক্তাররাও পুলিশের অনুমতি ছাড়া আসতে পারতো না.. কিন্তু এবার এমন ভাবেই টাকা ছড়াইছে যে, বাইরে থেকে খাবারও হাজির.. প্রায়ই দেখতাম ওর সাগরেদরা টিফিনক্যরিয়ারে করে খাবার নিয়ে এসে বিভিন্ন জনের সাথে ভিডিও কলে সম্রাটের সাথে কথা বলিয়ে দিচ্ছে... কিন্তু সবচেয়ে অবাক হয়েছিলাম একদিন, যেদিন দেখলাম একজন একটু উচু পর্যায়ের এক পুলিশ কর্মকর্তা কিছু কাগজপত্রে সম্রাটের সই নিয়ে কুশিলাদি জিজ্ঞাসা শেষে যাবার সময় বলছে,” আপনাকে এভাবে দেখে খুবই কষ্ট লাগছে স্যার, আপনার থাকার কথা ছিল কোথায় আর আপনি আছেন কোথায় স্যার..” পাঠকগণ আপনারা অনেকেই হয়তো দেখে থাকবেন যে,পুলিশ, র্যাব, বা সেনা বাহিনীর কোন অপেক্ষাকৃত নিম্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা বা কর্মচারী তার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কাছ থেকে বিদায় নিতে গেলে, সরাসরি তাঁর সামনে না ঘুরে, কয়েক পা পিছিয়ে এসে তারপর সালাম বা স্যালুট দিয়ে ঘুরে স্থান ত্যাগ করে, শোকাহত পুলিশটিও ঠিক তেমনি ভাবে সম্রাটকে সালাম ও শুভকামনা জানিয়ে বিদায় নিল। বুঝলাম আসলে সত্যিই, টাকায় কি না হয়...!!!
NICVD র পরিবেশ নিয়ে সব সময় সে ছিল নাখোশ, সব সময়ই বলতো, এখানে আর থাকবো না, দ্রুতই চলে যাবো, পিজিতে আমার আলাদা রুম ছিল, ছিল আলাদা বারান্দা সুন্দর ঘুরে বেড়ানো যেত আর এখানে, বিছানা আর টয়লেট ছাড়া যাবার কোন জায়গাই নাই... সে তার কথা রেখেছিল, অতিদ্রুতই সে আবার পিজিতে ফিরে গিয়ে।
তাকে একদিন বলতে শুনেছিলাম যে,”আমি তো খুন করিনি, বা মাদকের সাথেও জড়িত না, যে আমার মৃত্যুদন্ড হবে... আজ হোক বা কাল ছাড়া তো পাবোই, তখন দেখবোনে...” অবশেষে আজ তার আশা পূর্ণ হয়েছে, সে তার পুরনো রুপে ফিরে এসে, নতুন করে তার অবস্থান সকলকে জানান দিয়েছে। এখন ভাবছি, সে নিজে কি দেখে, আর অন্যদের কি দেখায়..কারণ, সব সম্ভবের দেশে কোন কিছুই তো আর অসম্ভব নয়... :#) :-B মুক্ত হয়েই দলবল নিয়ে সম্রাটের মহড়া


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে আগস্ট, ২০২২ ভোর ৪:০৬
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হাতছানি

লিখেছেন আহমেদ রুহুল আমিন, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:২২

বাঁশবনের উপরে গোধূলীর আকাশে
কি'যে অপরুপ লাগে একফালি চাঁদ,
কাশবনের দুধারে মৃদুমন্দ বাতাসে
ঢেউ খেলে যায় সেথা জোৎস্নার ফাঁদ-
আহা..., কী অপরুপ সেই 'বাঁশফালি চাঁদ' ।

পাখিদের নীড়ে ফেরা কল-কাকলীতে
শিউলী-কামিনী যেথা ছড়ায় সুবাস,
আজানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিচ্ছু চাই না আমি, আজীবন ভালোবাসা ছাড়া!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই মে, ২০২৬ রাত ১১:৫১



অতি তুচ্ছ বিষয় গুলোতে আমি আনন্দ পাই।
পথে ঘাটের সব রকম দৃশ্য আমি উপভোগ করি। পথে হেটে যাচ্ছি, একসাথে অনেক গুলো কাক কা কা করতে করতে উড়ে গেলো! এটা দেখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের স্পষ্ট বার্তা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:১৭



কারিনা ইস্যুতে যা ঘটেছে, তা শুধু একটি পরিবারের আত্মপক্ষ সমর্থন না- এটা জনমতের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন। যদি শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেই হেটস্পিচ আসতো, তাহলে কারিনার মা জানাজার পর... ...বাকিটুকু পড়ুন

রক্তের দাগে ধুয়ে যাওয়া আভিজাত্য: কারিনা কায়সারের বিদায় এবং আমাদের কিছু নির্মম শিক্ষা

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ১৮ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯



​বাঙালি সংস্কৃতির চিরায়ত নিয়মে মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মানুষ সব বৈরিতা ভুলে যায়। জানাজার খাটিয়া সামনে রেখে স্বজনরা কেবল ক্ষমা চান, চিরবিদায়ের প্রার্থনা করেন। কিন্তু গতকাল আমরা এক অভূতপূর্ব ও হাহাকারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ড. ইউনুস শুধুমাত্র বাই বর্ন বাংলাদেশী!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০


আমেরিকার সাথে চুক্তির কথাটি আসলেই ইউনুসের উপদেষ্টাসহ তার লোকজন বলে বিএনপি ও জামাতের সাথে আলোচনা করেই চুক্তিটি হয়েছে!
বিএনপি ও জামায়েতের সাথে আলোচনা করলেই কি এই চুক্তি সঠিক হয়ে যায়?

আপনাদের বিএনপি-... ...বাকিটুকু পড়ুন

×