আমাদের কাঁধে ব্যথার অনেক গুলো কারণের মধ্যে এডহেসিভ ক্যাপ্সুলাইটিস্ অন্যতম । এখন পর্যন্ত এ রোগের কারণ পরিষ্কার ভাবে জানা না গেলেও রোটেটর কাফ যে মাংশপেশীসমূহ তৈরী করে তাদের টেন্ডনে প্রদাহকে বেশী দায়ী করা হয় । এছাড়া ডায়াবেটিস, হাইপোথাইরয়ডিজম্, স্ট্রোক, পারকিনসন্‘স ডিজিজ, কোন শল্য চিকিৎসা অথবা কাঁধে কোন আঘাত পাওয়ার পর এ রোগ হতে পারে । সাধারণত ৪০-৬০ বছরের মধ্যে এ রোগ হয় । নারীরা এ রোগে বেশী ভোগেন । এ রোগে কাধ এবং হাতে ব্যথা হয়, ব্যথা ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে এবং কাঁধ নাড়াচাড়া করতে সমস্যা হয় যার ফলে আমাদের দৈনন্দিন কাজেকর্মে বিঘ্ন ঘটে যেমন – কাপড় পরতে, ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিছন্নতা বজায় রাখতে এবং কাঁধের উপরে কোন কিছু তুলতে বা নামাতে ইত্যাদি । সাধারণত রোগের ইতিহাস জেনে এবং কিছু শারীরিক পরীক্ষা করেই এ রোগ নির্ণয় করা যায় । তবে অন্যরোগ থেকে আলাদা করার জন্য এক্স-রে করা হয় । এটি একটি নিরাময়যোগ্য রোগ । ৯৫% ক্ষেত্রে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় তবে বেশ কয়েকমাস সময় লাগতে পারে । চিকিৎসার জন্য একজন ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞের অধীনে থেকে নিম্নরূপ সমন্বিত চিকিৎসা নিতে হবে –
১। ওষুধ – কিছু ব্যথানাশক ওষুধ এবং প্রয়োজন হলে ইন্ট্রা-আর্টিকুলার কর্টিকোস্টেরয়েড ইঞ্জেকশন ।
২। ব্যয়াম – কডম্যান’স পেন্ডুলাম এক্সারসাইজ, আর্মপিট স্ট্রেচ, ওয়াল ক্লাইম্বিং এক্সারসাইজ ইত্যাদি ।
৩। ফিজিক্যাল থেরাপি – আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি ছাড়াও ব্যথার জায়গায় গরম-ভেজা স্যাঁক দেয়া যায় ।
৪। অকুপেশনাল থেরাপি – কাজের সহায়ক পরিবেশ তৈরী এবং দৈনন্দিন কাজকর্ম সহজে সম্পাদন করার প্রশিক্ষন ।
এরপর ও রোগী ভালো নাহলে শল্য চিকিৎসা করা যেতে পারে । এ ধরনের সমন্বিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা যে কোন সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগে পাওয়া যাবে ।
ডাঃ মোহাম্মদ ইসরাত হাসান
রেসিডেন্ট (ফেইজ-বি)
ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




