এ রোগের অনেক গুলো নামের মধ্যে গেইমার’স থাম্ব, ব্লাকবেরি থাম্ব বা ওয়াশারওম্যান স্প্রেইন অন্যতম । আমাদের দেশের মানুষের, বিশেষত মহিলাদের মধ্যে খুব পরিচিত এক টি রোগ । যারা সাধারণত ঘর গৃহস্থলির কাজ করেন যেমন সুই-সুতার কাজ, থালা বাসন ধোয়া, কাপড় কেঁচে নিংড়ানো ইত্তাদি, যারা অতিরিক্ত কম্পিউটার এর মাউস ব্যবহার করেন বা টাইপিং করেন অথবা সরাসরি কোন আঘাত হাতের কব্জিতে লাগলে এ রোগটি হতে পারে । এছাড়া গর্ভবতি অবস্থায় অথবা অব্যবহিত পরে এ রোগটি হতে পারে । উল্লেখিত কাজ বারবার করলে বা আঘাত পেলে আমাদের হাতের কব্জির মাংস পেশির বিশেষত এক্সটেনসর পলিসিস লংগাস এবং এবডাক্টর পলিসিস ব্রেভিস এর টেন্ডন এ প্রদাহ তৈরি হয় এবং ব্যথা করে । ব্যথা টা সাধারণত হাতের কব্জির বুড়ো আঙুলের দিকে হয় এবং হাত নাড়াচাড়া করলে ব্যথা বেড়ে যায় এমনকি জায়গাটা ফুলে ও যেতে পারে ।
পরীক্ষা নিরিক্ষার মধ্যে কিছু রক্ত পরীক্ষা করা লাগতে পারে তবে এক্স-রে করার দরকার হয়না । এ রোগের চিকিৎসার মধ্যে ব্যথানাশক ঔষধ এবং হাতের নাড়াচাড়া বন্ধ রাখার জন্য থাম্ব স্পাইকা নামক স্প্লিন্ট ব্যবহার করলে রোগ সেরে যায় তবে কখনো কখনো প্রয়োজন হলে ইঞ্জেকশন দেয়া যেতে পারে । যদি এসব চিকিৎসার পর ও রুগী ভাল না হন সেক্ষেত্রে সার্জারি করা লাগতে পারে । এ রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের বলা হয় ফিজিয়াট্রিস্ট বা ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ । যে কোন সরকারি হাসপাতালের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ অথবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এর ফিজিক্যাল মেডিসিন বহিঃবিভাগে যে কেউ এ রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নিতে পারেন ।
ডাঃ মোহাম্মাদ ইসরাত হাসান
রেসিডেন্ট (ফেইজ-বি)
ফিজিক্যাল মেডিসিন এন্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ, ঢাকা ।
(লেখাটি ০৩-০৫-২০১৪ ইং তারিখে দৈনিক কালেরকন্ঠ হেলথ কর্নার এ প্রকাশিত)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




