somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মা দিবসের প্রতিজ্ঞাঃ আসুন মা কে খুশি করার জন্য দিনে অন্তত একটি ভালো কাজ করি।

১০ ই মে, ২০১৪ রাত ১১:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মা দিবসের প্রতিজ্ঞাঃ আসুন মা কে খুশি করার জন্য দিনে অন্তত একটি ভালো কাজ করি।

ফেসবুকে ইভেন্ট জয়েন্ট করতে পারেন


প্রতি বছর মে মাসের ২য় রবি বার পালিত হয় "মা দিবস"। ১১ মে, রবিবার "মা" দিবস।

নাড়ীর বন্ধনে যার সাথে আমার অস্তিত্ব একাকার হয়ে আছে তিনি আমার মা। আমার এ শরীরের রক্ত প্রবাহে যার নির্ঘাত সঞ্চালনা বিদ্যমান তিনি আমার মা। মাকে নিয়ে লেখার কি শেষ নামানো সম্ভব ? মা প্রত্যেকের কাছে দুনিয়ার সবকিছুর চাইতে প্রিয়। মা প্রত্যেকের কাছে পৃথিবীর অবধারিত অস্তিত্ব। কিন্তু কষ্ট পাই এই মাকে যখন বৃদ্ধাশ্রমে দেখতে যাওয়ার খবর শুনি অথচ মাকে নিজের সাথে রাখার অর্থনৈতিক সামর্থ্য সন্তানদের রয়েছে। এটা মায়ের অতুলনীয় ভালোবাসার সাথে নির্মম বিশ্বাসঘাতকতা। এটা নিজের অস্তিত্বের সাথে চরম দুঃখজনক ও আত্মঘাতী আচরণ। পৃথিবীর সব ভালোবাসা, সব স্নেহ-মমতা জড়ো করে কোটি কোটি গুণ বৃদ্ধি করলেও মায়ের সিন্ধুসম ভালোবাসার এক ফোঁটা পানির সমান হওয়া অসম্ভব। সেই মা যখন সন্তান কর্তৃক নিগৃহীত, বঞ্চিত ও অত্যাচারিত হয় তখন সৃষ্টিকর্তার আরশ সঙ্গত কারণেই প্রকম্পিত হয়ে উঠে।

প্রত্যেক মা তার সন্তানের কাছে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মমতাময়ীদের অন্যতম। দুনিয়ার সবকিছু ভেজালে ছেয়ে গেলেও মায়ের ভালোবাসায় কোন রকম মেকি কিংবা ভেজালের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই। আল্লাহ রাব্বুল ‘আলামীনের পক্ষ থেকেই মাতৃত্বের মহান সত্ত্বাকে এভাবেই সৃষ্টি করা হয়েছে। এজন্য মাকে পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ স্বর্গীয় উপহার হিসেবে গণ্য করা হয়। মায়ের সান্নিধ্য দুনিয়ার তাবৎ অশান্তি ও অনিরাপত্তার আবহ দূর করে জান্নাতী প্রশান্তি এনে দেয়। মায়ের স্নেহ পার্থিব সব অমঙ্গল থেকে সন্তানকে আগলে রাখে। সন্তানের জন্য ত্যাগ স্বীকারের ক্ষেত্রে মায়ের যে অবিসম্বাদিত ভূমিকা তা কোন পাল্লায় ওজন করা যায় না। এমন ঘটনাও আছে যে, মায়ের এক চক্ষু কানা থাকার কারণে বাহ্যত তাকে অসুন্দর দেখা যাওয়ায় কোন কোন সন্তান হীনমন্যতায় ভোগেন কিংবা কোন কোন পরিবেশে মায়ের পরিচয় দিতে ইতস্তত বোধ করেন। অথচ শৈশবের বেপরোয়া দুষ্টুমিতে চোখ হারানো ঐ সন্তান মায়ের দেয়া চোখ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমেই বিশ্ব দেখছেন। মায়ের এ আত্মত্যাগের ঋণ কিছুতেই পরিশোধ হবার নয়। তদুপরি মাকে এ ব্যাপারে অমর্যাদার চোখে দেখা, কষ্ট দেয়া কিংবা তাঁকে উপযুক্ত অধিকার বঞ্চিত করা অক্ষমার্হ অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।

মায়ের ঋণ কি কখনই পরিশোধ করা সম্ভব ? শিশু অবস্থায় কত শীতার্ত রাতে নিজের অজান্তে মায়ের কাপড় ভিজিয়ে দিয়েছি অথচ মা মোটেও রাগ করেননি বরং ঘুমের ঘোরে যদি আমার বিছানা বদলাতে দেরি হয়েছে, তাহলে মা চোখের পানি ফেলেছেন এই ভেবে যে, না জানি তার কলিজার টুকরা কখন থেকে প্রস্রবের ভেজা কাপড়ে শুয়ে আছে, না জানি ঠাণ্ডা লেগে যায়। দুর্গন্ধময় ঘৃণ্য বস্তু মায়ের পরিচ্ছন্ন শুভ্র কাপড়ে মাখিয়ে দিয়েছি হয়ত কোন অনুষ্ঠানে, অনেকের সম্মুখে অথচ মা মোটেও ঘৃণা বোধ করেননি। শৈশবের বেপরোয়া দুষ্টুমিতে মাকে সীমাহীন যন্ত্রণা দিয়েছি অথচ মা যন্ত্রণা বোধ করেননি। সুলভ-দুর্লভ জিনিসের জন্য কত রকম আবদার মায়ের কাছে করেছি অথচ মা বিরক্ত বোধ করেননি। বরং সাধ্যের সর্বশেষ প্রান্ত পর্যন্ত চেষ্টা করেছেন সেই জিনিসটি আমার জন্য সংগ্রহ করতে। কত দরিদ্র মা সন্তানের মুখে এক মুঠো আহার তুলে দিতে সীমাহীন পরিশ্রম করেছেন অথচ নিজে অনাহারে থেকেছেন। এ ঋণ কি কোনদিন শোধ করা যায় ? ঐ যে বলা হয়, ‘মায়ের এক ধার দুধের দাম, কাটিয়া গায়ের চাম, পাপোশ বানালেও ঋণের শোধ হবে না’ - একদম যথার্থ অভিব্যক্তি।

যাদের মা বেঁচে আছেন তাদের কাছে মায়ের অনুভূতি যত বাস্তব ও প্রাণবন্ত, যাদের মা বেঁচে নেই তাদের কাছে তা আরো গভীর। অবশ্য এ কথা ঠিক যে, মা সমগ্র বিশ্বের মধ্যে সৌভাগ্যের প্রতীক। যিনি মাকে সঙ্গে নিয়ে বসবাস করছেন তিনি অবশ্যই পরম সৌভাগ্যবান।


আসুন মা'কে ভালোবেসে আমরা শপথ করি, "মা কে খুশি করার জন্য দিনে অন্তত একটি ভালো

১৪টি মন্তব্য ১৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইরান বনাম ইজরাইল আমেরিকা যুদ্ধ; কার কি লাভ?

লিখেছেন খাঁজা বাবা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১২:১৮



২০০৬ থেকে আহমাদিনেজাদ ইজরাইলকে বিশ্বের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে, আমেরিকা ২০০২ থেকে ইরানে হামলার প্ল্যান করছে, নেতানিয়াহু ৪০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখছেন ইরানে হামলা করার। তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিথ্যাবাদী কাউবয় "ট্রাম্প" এবং ইরান যুদ্ধের খবর

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫৯


দিনের শুরুটা হলো ট্রাম্পের মিথ্যা দিয়ে। তিনি লিখলেন: "ইরানে সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য বন্ধ রাখা হচ্ছে, যা আলোচনার সাফল্যের ওপর নির্ভর করবে।" পরে জানা গেলো, ট্রাম্প যথারীতি মিথ্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার হারিয়ে যাবার গল্প

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৪ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৫:৩২

তোমাকে আমি কোথায় রাখি বলো,
চোখের ভিতর রাখলে
ঘুম ভেঙে যায় বারবার,
বালিশের নিচে রাখলে
স্বপ্নে এসে কাঁদো।

তুমি কি জানো
আমার এই শরীরটা এখন
পুরোনো বাড়ির মতো,
দরজায় হাত দিলেই কেঁপে ওঠে,
জানালায় হাওয়া লাগলেই
তোমার নাম ধরে ডাকে।

আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানব সভ্যতার নতুন অধ্যায়

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৩:০৭


আজ মানব জাতির নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
তারিখঃ ২৪ শে মার্চ, ২০২৬
সময়ঃ বিকাল ৪টা, (নর্থ আমেরিকা)
আমেরিকার কংগ্রেস স্বীকার করে নিল ভীন গ্রহের প্রাণীর অস্তিত্ব। স্বীকার করে নিল পৃথিবীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস।
আজ সেই বিভীষিকাময় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এই কালরাতে Operation Searchlight নামের বর্বর অভিযানের মাধ্যমে পাক আর্মি নিরস্ত্র বাঙালির উপর ইতিহাসের জঘন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×