somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কারাগার প্রেমের দারুন খবরটি না পড়লে পুরাই মিস...;););)

১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :




এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের কার্যালয়। এক দুপুরে নিজ অফিসে ঢুকতে গিয়ে থমকে দাঁড়ান তিনি। দেখেন এক তরুণী কাঁদছেন হাউমাউ করে। তার কাছে কান্নার কারণ জানতে চাইলেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। এরপর ঘটনা যেভাবে এগিয়েছে তার কিছু প্রচলিত, কিছু একেবারেই নতুন। ছেলেটির সঙ্গে মেয়েটির দুই বছরের প্রেম। সম্পর্ক দিনকে দিন ঘনিষ্ঠ হয়েছে আরও। কিন্তু বিয়ের কথা উঠলেই বেঁকে বসে ছেলেটি। বার বার ছেলেটির মন গলাতে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় মেয়েটি। এক পর্যায়ে বাধ্য হয়েই প্রতারণার অভিযোগে ছেলেটির বিরুদ্ধে মামলা করে মেয়েটি। পুলিশ গ্রেপ্তার করে প্রতারক প্রেমিককে। নিম্ন আদালত জামিন না দিয়ে তাকে পাঠিয়ে দেয় কারাগারে। এরপর আবারও নিম্ন আদালতে জামিনের চেষ্টা করে ব্যর্থ ছেলেটি। তার জামিন চেয়ে আবেদন করা হয় হাইকোর্টে। হাইকোর্ট ছেলেটির জামিন মঞ্জুর করে। মুক্ত প্রেমিক কোনদিনও তাকে বিয়ে করবে না সে শঙ্কা ছড়িয়ে পড়ে মেয়েটির মনে। এ কারণে ছেলেটির মুক্তি ঠেকাতে এটর্নি জেনারেলের কাছে ছুটে আসে মেয়েটি। তিনি এটর্নি জেনারেলকে বলেন, স্যার আপনি আমার জন্য কিছু করেন। হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন। এটর্নি জেনারেল তাকে জানান, মামলাটি খুবই দুর্বল। তবুও নাছোড়বান্দা মেয়েটি কেঁদেই চলে। একপর্যায়ে এটর্নি জেনারেল রাজি হন হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে যেতে। চেম্বার বিচারপতি আদালতে আবেদন উত্থাপন করেন তিনি। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তার এ ধরনের আবেদন উত্থাপনে বিস্ময় প্রকাশ করেন চেম্বার বিচারপতি। মানবিক কারণেই এ আবেদন দায়ের করা হয়েছে বলে আদালতকে জানান তিনি। এজলাসে উপস্থিত নারী আইনজীবীরাও হাইকোর্টের আদেশ স্থগিতের অনুরোধ জানান। এক পর্যায়ে চেম্বার বিচারপতি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। আটকে যায় ছেলেটির মুক্তির পথ। কিছুদিন পরই মেয়েটি আবার হাজির হয় এটর্নি জেনারেল দপ্তরে। এটর্নি জেনারেলকে জানান, স্যার ও আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়েছে। ও বলেছে আমি যেন তার মুক্তির ব্যবস্থা করি। কারাগার থেকে বেরিয়েই ও আমাকে বিয়ে করবে। এটর্নি জেনারেল তাকে পরামর্শ দেন কারাগারেই বিয়ের ব্যবস্থা করার। কারাগারেই বিয়ের আয়োজনের জন্য কারাকর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করে মেয়েটি। ব্যবস্থা করে কারাকর্তৃপক্ষ। ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়ে যায় তাদের। এবার আবার এটর্নি জেনারেলের কাছে ছুটে আসে মেয়েটি। স্বামীকে কাছে ফিরে পাওয়ার তাড়া তার। এটর্নি জেনারেলকে বলেন, ‘স্যার ওর মুক্তির ব্যবস্থা করেন।’ মাহবুবে আলম আবার ছুটে যান চেম্বার বিচারপতির আদালতে। আদালতে গিয়ে বলেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আর আপিল চালানো হবে না। হাইকোর্টের আদেশ যেন বহাল রাখা হয়। চেম্বার বিচারপতি জানতে চান, কোন সুখবর কি আছে? মাহবুবে আলম সুখবরের কথা জানান। এতে সন্তোষ প্রকাশ করেন চেম্বার বিচারপতি। তবে বিপত্তি তখনও কাটেনি। নিম্ন আদালত বন্ধ। এ কারণে ছেলেটির জামিননামা গ্রহণে মুখ্য মহানগর হাকিমকে হাইকোর্টের আদেশ দেয়া প্রয়োজন হয়ে পড়ে। মেয়েটি আবারও এটর্নি জেনারেলের কাছে আসে। কিন্তু এটর্নি জেনারেল বলেন, আমি রাষ্ট্রপক্ষ। আমি তো হাইকোর্টে এ আবেদন নিয়ে যেতে পারি না। তুমি অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করো। অন্য আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদনটি হাইকোর্ট বেঞ্চে উত্থাপনের চেষ্টা করলেও কাজ হয়নি। পরে এটর্নি জেনারেল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে গিয়ে পুরো বিষয়টি উত্থাপন করেন। পরদিন মেয়েটির আইনজীবী আবারও আবেদন করেন। কাজ হয় এতে। হাইকোর্টের আদেশে মুক্তি মেলে ছেলেটির। এ গল্পের মধুরেণ সমাপয়েৎ ঘটে এটর্নি জেনারেল অফিসে মেয়েটির মিষ্টি নিয়ে আসার মধ্য দিয়ে। এ ভাল কাজটি তৃপ্তি দেয় এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই জানুয়ারি, ২০১৩ রাত ১০:৩৭
৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এসো ঈদের গল্প লিখি..... পড়ি

লিখেছেন অপ্‌সরা, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:১১


আরও অনেকের গল্প পড়ার অপেক্ষায়..... স্বপ্নের শঙ্খচিলভাইয়া, নতুন নকিবভাইয়া, প্রবাসীকালোভাইয়া,ওমর খাইয়ামভাইয়া, হুমায়রা হারুন আপুনি, করুনাধারা আপুনি, মেহবুবা আপুনি, রাজীব নূর ভাইয়া, রানার ভাইয়ার গল্প পড়তে চাই, জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×