somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মৃত্যুঞ্জয়
একটি মুক্ত চিন্তার প্ল্যাটফর্ম যেখানে বাংলাদেশ, তার মানুষ, সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তি, অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণের আলোকে আলোচনা করা হয়।https://www.facebook.com/profile.php?id=61592344767363 (উদ্যোক্তা)nhttps://www.facebook.com/profile.php?id

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা (তৃতীয় পর্ব)

০৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



উচ্চ মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়: কেন আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে?
"একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয় তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগের পথটিতে। যদি সেই পথ অসম হয়, তবে গন্তব্যও কখনো সমান হতে পারে না।"
প্রথম পর্বে আমি বলেছিলাম, একটি শিশু জন্মের পর থেকেই আমরা তাকে বিভিন্ন শিক্ষা ধারায় ভাগ করে দিই। দ্বিতীয় পর্বে দেখিয়েছি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সেই বিভাজন আরও গভীর হয়। আজ আমরা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে একই দেশের শিক্ষার্থীরা একই শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করছে, অথচ তাদের শেখার সুযোগ, সিলেবাস, মূল্যায়ন, ভাষাগত প্রস্তুতি এবং দক্ষতা উন্নয়নের পরিবেশ এক নয়।
আজকের আলোচনার বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে ও পরে তৈরি হওয়া সেই বৈষম্য, যা হাজার হাজার মেধাবী তরুণ-তরুণীকে পিছিয়ে দেয়।
________________________________________
১. বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে সবাই কি একই দৌড়ে অংশ নিচ্ছে?

উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর একজন শিক্ষার্থীর সামনে অসংখ্য পথ খুলে যায়—
• পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
• প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়
• জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স
• ডিগ্রি (Pass Course)
• পলিটেকনিক
• কারিগরি শিক্ষা
• মাদ্রাসা (আলিম, ফাজিল, কামিল)
• বিদেশে উচ্চশিক্ষা
কাগজে-কলমে এগুলো সবই উচ্চশিক্ষার পথ। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর প্রস্তুতি, সুযোগ, শেখার পদ্ধতি এবং পরবর্তী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এক নয়।
প্রশ্ন হলো—যদি শেষ পর্যন্ত একই চাকরির বাজারে সবাইকে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তাদের শেখার ভিত্তি এত ভিন্ন কেন?
________________________________________

২. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত আসন—বাকিদের ভবিষ্যৎ কোথায়?

প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী HSC পাস করে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট আসন তার তুলনায় অনেক কম।
অর্থাৎ, হাজার হাজার ভালো শিক্ষার্থী শুধু আসনের সীমাবদ্ধতার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না।
এটি তাদের অযোগ্যতার প্রমাণ নয়; বরং সুযোগের সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন।
ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যায়। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়ে।
________________________________________

৩. একই দেশের শিক্ষার্থী, কিন্তু সিলেবাস ভিন্ন—এটা কতটা যৌক্তিক?

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী বাংলা মাধ্যমে পড়ে।
আরেকজন ইংরেজি ভার্সনে।
আরেকজন ইংরেজি মিডিয়ামে।
আরেকজন মাদ্রাসায়।
আরেকজন কারিগরি শিক্ষায়।
তাদের শেখার বিষয়বস্তু, ভাষা, মূল্যায়ন, দক্ষতার ধরন—সব আলাদা।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বা চাকরির বাজারে তারা একই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন:
রাষ্ট্র কি একই লক্ষ্যের জন্য একাধিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে?
________________________________________

৪. ব্যবসায় শিক্ষা পড়েও কেন অতিরিক্ত গণিতের দেয়াল?

বাংলাদেশে বহু শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা (Business Studies) নিয়ে পড়াশোনা করে।
তাদের মূল বিষয়—
• হিসাববিজ্ঞান
• ব্যবসায় সংগঠন
• ফিন্যান্স
• মার্কেটিং
কিন্তু দেশের কিছু মর্যাদাপূর্ণ ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে গেলে এমন উচ্চস্তরের গণিত বা বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা প্রয়োজন হয়, যা অনেক শিক্ষার্থী তাদের পূর্ববর্তী সিলেবাসে পর্যাপ্তভাবে শেখার সুযোগ পায়নি।
এখানে প্রশ্ন কোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতিকে ছোট করা নয়।
প্রশ্ন হলো—
যদি ভবিষ্যতে এই দক্ষতাগুলো প্রয়োজন হয়, তাহলে স্কুল ও কলেজ পর্যায়েই কেন সেই প্রস্তুতি সমানভাবে দেওয়া হয় না?
একজন শিক্ষার্থীকে এমন পরীক্ষার মুখোমুখি করা কতটা ন্যায্য, যার জন্য তাকে আগে থেকে পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত করা হয়নি?
________________________________________

৫. বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কি অতিরিক্ত সুবিধা পায়?

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি সামাজিক ধারণা তৈরি হয়েছে—
"বিজ্ঞান বিভাগ মানেই সেরা।"
ফলে অনেক ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন করার সুযোগ পায়, এমনকি এমন ক্ষেত্রেও যেখানে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে, একজন হিসাববিজ্ঞান বা মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাধারণত পদার্থবিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিভাগে আবেদন করতে পারে না।
এই প্রশ্নটি নীতিগত—
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কি শুধু নম্বরের প্রতিযোগিতা হবে, নাকি বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
________________________________________

৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: সম্ভাবনা নাকি বাধ্যতামূলক বিকল্প?

বাংলাদেশের লাখো শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে।
এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই অত্যন্ত মেধাবী।
কিন্তু বাস্তবে তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।
যেমন—
• সেশন জট
• বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা
• কলেজভেদে মানের পার্থক্য
• দক্ষতাভিত্তিক কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা
• বাস্তব খাতের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ
ফলে অনেক শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি অর্জন করে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা গড়ে তোলার পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না।
________________________________________

৭. ডিগ্রি (Pass Course)—সম্মানের অভাব কেন?

অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক, পারিবারিক বা অন্যান্য কারণে ডিগ্রি (Pass Course) বেছে নেয়।
কিন্তু সমাজে এই ডিগ্রিকে প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হয়। অথচ তাকে সবই পড়তে হয়।
প্রশ্ন হলো—
সমস্যা কি শিক্ষার্থীর?
নাকি এমন একটি কাঠামোর, যেখানে ডিগ্রি কোর্সকে দক্ষতা উন্নয়নের পরিবর্তে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের পথে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে?
________________________________________

৮. বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু বই পড়ানোর জায়গা?

আজকের বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়।
একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে—
• গবেষণা
• দলগত কাজ
• উপস্থাপনা
• শিল্পখাতের সংযোগ
• ইন্টার্নশিপ
• ক্লাব কার্যক্রম
• উদ্যোক্তা উন্নয়ন
• সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ
যেখানে এগুলোর সুযোগ কম, সেখানে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে গিয়ে নতুন করে শেখার প্রয়োজন অনুভব করে।
________________________________________

৯. জব ফেয়ার: কারা এগিয়ে থাকে?

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় কোম্পানি ক্যাম্পাসে গিয়ে জব ফেয়ার আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই চাকরির সুযোগ পায়।
অন্যদিকে, অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজেরাই চাকরির খোঁজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়।
এখানে প্রশ্ন—
সব শিক্ষার্থীর জন্য কি সমান ক্যারিয়ার সাপোর্ট ব্যবস্থা রয়েছে?
________________________________________

১০. পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার অবস্থান

কারিগরি শিক্ষার মূল শক্তি হলো হাতে-কলমে দক্ষতা।
এই শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজ শেখে।
কিন্তু সামাজিক মর্যাদা ও কর্মজীবনের অগ্রগতির ক্ষেত্রে তারা অনেক সময় যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।
একটি উন্নত অর্থনীতিতে দক্ষ কারিগরি জনশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তাদের জন্যও স্পষ্ট ক্যারিয়ার পথ ও উন্নয়নের সুযোগ থাকা জরুরি।
________________________________________

১১. মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশের বাস্তবতার একটি অংশ।
অনেক শিক্ষার্থী এখান থেকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাও গ্রহণ করে।
প্রশ্ন হলো—
তাদের জন্য আধুনিক দক্ষতা, প্রযুক্তি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ কি যথেষ্ট?
যদি না হয়, তাহলে তাদের কর্মক্ষেত্র স্বাভাবিকভাবেই সীমিত হয়ে যায়।
________________________________________

১২. মূল প্রশ্ন

আমার প্রশ্ন কোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে নয়।
আমার প্রশ্ন পুরো কাঠামোকে নিয়ে।
একটি দেশে যদি—
• ভিন্ন সিলেবাস,
• ভিন্ন মান,
• ভিন্ন সুযোগ,
• ভিন্ন মূল্যায়ন,
• ভিন্ন ভাষা,
• ভিন্ন দক্ষতা
নিয়ে শিক্ষার্থীরা বড় হয়,
তাহলে শেষ পর্যন্ত একই চাকরির বাজারে তাদের দাঁড় করিয়ে বলা যায় না—
"তোমরা সমান প্রতিযোগিতা করো।"
এটি শুধু শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা নয়; এটি কাঠামোগত বৈষম্যেরও প্রতিফলন। এটা বাংলাদেশের ব্যর্থতা।
________________________________________

শেষ কথা

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মেধার কোনো অভাব নেই। সঠিক সিলেবাস, সমান প্রতিযোগিতা, শিক্ষার্থীর লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তব শিক্ষা, গবেষনার ব্যবস্থা, ইন্টার্নশিপ এর ব্যবস্থাকরন, দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি।
অভাব আছে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার স্বপ্ন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সমান সুযোগ পাবে।
শিক্ষা যদি সত্যিই জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে সেই মেরুদণ্ডের প্রতিটি কশেরুকা সমান শক্তিশালী হতে হবে।
আজকের প্রশ্ন তাই একটাই—
আমরা কি সার্টিফিকেট তৈরি করছি, নাকি দক্ষ মানুষ তৈরি করছি?

আপনার মতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনটি?
১. সিলেবাস
২. ভর্তি ব্যবস্থা
৩. মুখস্থনির্ভর শিক্ষা
৪. দক্ষতার অভাব
নাকি অন্য কিছু? মন্তব্যে লিখুন।

পরবর্তী পর্বে থাকছে:

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা (চতুর্থ পর্ব)
বিষয়ঃ শিক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা—চাকরি বাজার, দক্ষতার ঘাটতি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বৈষম্য এবং কেন আমাদের শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পায় না।

https://www.facebook.com/profile.php?id=61592344767363 (উদ্যোক্তা)
https://www.facebook.com/profile.php?id=61592183548671 (মৃত্যুঞ্জয়)


উচ্চ মাধ্যমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয়: কেন আমাদের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে?
"একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হয় তার বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছানোর আগের পথটিতে। যদি সেই পথ অসম হয়, তবে গন্তব্যও কখনো সমান হতে পারে না।"
প্রথম পর্বে আমি বলেছিলাম, একটি শিশু জন্মের পর থেকেই আমরা তাকে বিভিন্ন শিক্ষা ধারায় ভাগ করে দিই। দ্বিতীয় পর্বে দেখিয়েছি, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সেই বিভাজন আরও গভীর হয়। আজ আমরা এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছি, যেখানে একই দেশের শিক্ষার্থীরা একই শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতা করছে, অথচ তাদের শেখার সুযোগ, সিলেবাস, মূল্যায়ন, ভাষাগত প্রস্তুতি এবং দক্ষতা উন্নয়নের পরিবেশ এক নয়।
আজকের আলোচনার বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশের আগে ও পরে তৈরি হওয়া সেই বৈষম্য, যা হাজার হাজার মেধাবী তরুণ-তরুণীকে পিছিয়ে দেয়।
________________________________________
১. বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার আগে সবাই কি একই দৌড়ে অংশ নিচ্ছে?

উচ্চমাধ্যমিক পাস করার পর একজন শিক্ষার্থীর সামনে অসংখ্য পথ খুলে যায়—
• পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়
• প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়
• জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্স
• ডিগ্রি (Pass Course)
• পলিটেকনিক
• কারিগরি শিক্ষা
• মাদ্রাসা (আলিম, ফাজিল, কামিল)
• বিদেশে উচ্চশিক্ষা
কাগজে-কলমে এগুলো সবই উচ্চশিক্ষার পথ। কিন্তু বাস্তবে এগুলোর প্রস্তুতি, সুযোগ, শেখার পদ্ধতি এবং পরবর্তী কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা এক নয়।
প্রশ্ন হলো—যদি শেষ পর্যন্ত একই চাকরির বাজারে সবাইকে দাঁড়াতে হয়, তাহলে তাদের শেখার ভিত্তি এত ভিন্ন কেন?
________________________________________

২. পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমিত আসন—বাকিদের ভবিষ্যৎ কোথায়?

প্রতি বছর লাখ লাখ শিক্ষার্থী HSC পাস করে। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মোট আসন তার তুলনায় অনেক কম।
অর্থাৎ, হাজার হাজার ভালো শিক্ষার্থী শুধু আসনের সীমাবদ্ধতার কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পায় না।
এটি তাদের অযোগ্যতার প্রমাণ নয়; বরং সুযোগের সীমাবদ্ধতার প্রতিফলন।
ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যায়। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য বিকল্প আরও সীমিত হয়ে পড়ে।
________________________________________

৩. একই দেশের শিক্ষার্থী, কিন্তু সিলেবাস ভিন্ন—এটা কতটা যৌক্তিক?

বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থী বাংলা মাধ্যমে পড়ে।
আরেকজন ইংরেজি ভার্সনে।
আরেকজন ইংরেজি মিডিয়ামে।
আরেকজন মাদ্রাসায়।
আরেকজন কারিগরি শিক্ষায়।
তাদের শেখার বিষয়বস্তু, ভাষা, মূল্যায়ন, দক্ষতার ধরন—সব আলাদা।
কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বা চাকরির বাজারে তারা একই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন:
রাষ্ট্র কি একই লক্ষ্যের জন্য একাধিক মানের শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে?
________________________________________

৪. ব্যবসায় শিক্ষা পড়েও কেন অতিরিক্ত গণিতের দেয়াল?

বাংলাদেশে বহু শিক্ষার্থী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা (Business Studies) নিয়ে পড়াশোনা করে।
তাদের মূল বিষয়—
• হিসাববিজ্ঞান
• ব্যবসায় সংগঠন
• ফিন্যান্স
• মার্কেটিং
কিন্তু দেশের কিছু মর্যাদাপূর্ণ ব্যবসায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে গেলে এমন উচ্চস্তরের গণিত বা বিশ্লেষণধর্মী দক্ষতা প্রয়োজন হয়, যা অনেক শিক্ষার্থী তাদের পূর্ববর্তী সিলেবাসে পর্যাপ্তভাবে শেখার সুযোগ পায়নি।
এখানে প্রশ্ন কোনো প্রতিষ্ঠানের ভর্তি নীতিকে ছোট করা নয়।
প্রশ্ন হলো—
যদি ভবিষ্যতে এই দক্ষতাগুলো প্রয়োজন হয়, তাহলে স্কুল ও কলেজ পর্যায়েই কেন সেই প্রস্তুতি সমানভাবে দেওয়া হয় না?
একজন শিক্ষার্থীকে এমন পরীক্ষার মুখোমুখি করা কতটা ন্যায্য, যার জন্য তাকে আগে থেকে পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত করা হয়নি?
________________________________________

৫. বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা কি অতিরিক্ত সুবিধা পায়?

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে একটি সামাজিক ধারণা তৈরি হয়েছে—
"বিজ্ঞান বিভাগ মানেই সেরা।"
ফলে অনেক ভর্তি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে আবেদন করার সুযোগ পায়, এমনকি এমন ক্ষেত্রেও যেখানে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ তুলনামূলক কম।
অন্যদিকে, একজন হিসাববিজ্ঞান বা মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী সাধারণত পদার্থবিজ্ঞান বা প্রকৌশল বিভাগে আবেদন করতে পারে না।
এই প্রশ্নটি নীতিগত—
বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কি শুধু নম্বরের প্রতিযোগিতা হবে, নাকি বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত?
________________________________________

৬. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়: সম্ভাবনা নাকি বাধ্যতামূলক বিকল্প?

বাংলাদেশের লাখো শিক্ষার্থী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পড়াশোনা করে।
এই শিক্ষার্থীদের অনেকেই অত্যন্ত মেধাবী।
কিন্তু বাস্তবে তারা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো নিয়ে খুব কম আলোচনা হয়।
যেমন—
• সেশন জট
• বিশাল শিক্ষার্থী সংখ্যা
• কলেজভেদে মানের পার্থক্য
• দক্ষতাভিত্তিক কার্যক্রমের সীমাবদ্ধতা
• বাস্তব খাতের সঙ্গে দুর্বল সংযোগ
ফলে অনেক শিক্ষার্থী শুধু ডিগ্রি অর্জন করে, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বাস্তব দক্ষতা গড়ে তোলার পর্যাপ্ত সুযোগ পায় না।
________________________________________

৭. ডিগ্রি (Pass Course)—সম্মানের অভাব কেন?

অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক, পারিবারিক বা অন্যান্য কারণে ডিগ্রি (Pass Course) বেছে নেয়।
কিন্তু সমাজে এই ডিগ্রিকে প্রায়ই অবমূল্যায়ন করা হয়। অথচ তাকে সবই পড়তে হয়।
প্রশ্ন হলো—
সমস্যা কি শিক্ষার্থীর?
নাকি এমন একটি কাঠামোর, যেখানে ডিগ্রি কোর্সকে দক্ষতা উন্নয়নের পরিবর্তে শুধু সার্টিফিকেট অর্জনের পথে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে?
________________________________________

৮. বিশ্ববিদ্যালয় কি শুধু বই পড়ানোর জায়গা?

আজকের বিশ্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু পরীক্ষা নেওয়া নয়।
একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকে—
• গবেষণা
• দলগত কাজ
• উপস্থাপনা
• শিল্পখাতের সংযোগ
• ইন্টার্নশিপ
• ক্লাব কার্যক্রম
• উদ্যোক্তা উন্নয়ন
• সমস্যা সমাধানের প্রশিক্ষণ
যেখানে এগুলোর সুযোগ কম, সেখানে শিক্ষার্থীরা চাকরির বাজারে গিয়ে নতুন করে শেখার প্রয়োজন অনুভব করে।
________________________________________

৯. জব ফেয়ার: কারা এগিয়ে থাকে?

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় বড় কোম্পানি ক্যাম্পাসে গিয়ে জব ফেয়ার আয়োজন করে।
শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই চাকরির সুযোগ পায়।
অন্যদিকে, অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজেরাই চাকরির খোঁজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে হয়।
এখানে প্রশ্ন—
সব শিক্ষার্থীর জন্য কি সমান ক্যারিয়ার সাপোর্ট ব্যবস্থা রয়েছে?
________________________________________

১০. পলিটেকনিক ও কারিগরি শিক্ষার অবস্থান

কারিগরি শিক্ষার মূল শক্তি হলো হাতে-কলমে দক্ষতা।
এই শিক্ষার্থীরা বাস্তব কাজ শেখে।
কিন্তু সামাজিক মর্যাদা ও কর্মজীবনের অগ্রগতির ক্ষেত্রে তারা অনেক সময় যথাযথ মূল্যায়ন পায় না।
একটি উন্নত অর্থনীতিতে দক্ষ কারিগরি জনশক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তাই তাদের জন্যও স্পষ্ট ক্যারিয়ার পথ ও উন্নয়নের সুযোগ থাকা জরুরি।
________________________________________

১১. মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ

মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা বাংলাদেশের বাস্তবতার একটি অংশ।
অনেক শিক্ষার্থী এখান থেকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাও গ্রহণ করে।
প্রশ্ন হলো—
তাদের জন্য আধুনিক দক্ষতা, প্রযুক্তি শিক্ষা, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সুযোগ কি যথেষ্ট?
যদি না হয়, তাহলে তাদের কর্মক্ষেত্র স্বাভাবিকভাবেই সীমিত হয়ে যায়।
________________________________________

১২. মূল প্রশ্ন

আমার প্রশ্ন কোনো একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে নয়।
আমার প্রশ্ন পুরো কাঠামোকে নিয়ে।
একটি দেশে যদি—
• ভিন্ন সিলেবাস,
• ভিন্ন মান,
• ভিন্ন সুযোগ,
• ভিন্ন মূল্যায়ন,
• ভিন্ন ভাষা,
• ভিন্ন দক্ষতা
নিয়ে শিক্ষার্থীরা বড় হয়,
তাহলে শেষ পর্যন্ত একই চাকরির বাজারে তাদের দাঁড় করিয়ে বলা যায় না—
"তোমরা সমান প্রতিযোগিতা করো।"
এটি শুধু শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা নয়; এটি কাঠামোগত বৈষম্যেরও প্রতিফলন। এটা বাংলাদেশের ব্যর্থতা।
________________________________________

শেষ কথা

আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মেধার কোনো অভাব নেই। সঠিক সিলেবাস, সমান প্রতিযোগিতা, শিক্ষার্থীর লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তব শিক্ষা, গবেষনার ব্যবস্থা, ইন্টার্নশিপ এর ব্যবস্থাকরন, দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা ইত্যাদি ইত্যাদি।
অভাব আছে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থার, যেখানে একজন শিক্ষার্থী তার স্বপ্ন অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সমান সুযোগ পাবে।
শিক্ষা যদি সত্যিই জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে সেই মেরুদণ্ডের প্রতিটি কশেরুকা সমান শক্তিশালী হতে হবে।
আজকের প্রশ্ন তাই একটাই—
আমরা কি সার্টিফিকেট তৈরি করছি, নাকি দক্ষ মানুষ তৈরি করছি?

আপনার মতে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনটি?
১. সিলেবাস
২. ভর্তি ব্যবস্থা
৩. মুখস্থনির্ভর শিক্ষা
৪. দক্ষতার অভাব
নাকি অন্য কিছু? মন্তব্যে লিখুন।

পরবর্তী পর্বে থাকছে:

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা (চতুর্থ পর্ব)
বিষয়ঃ শিক্ষা শেষ হওয়ার পর কর্মক্ষেত্রের বাস্তবতা—চাকরি বাজার, দক্ষতার ঘাটতি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বৈষম্য এবং কেন আমাদের শিক্ষার্থীরা সার্টিফিকেট নিয়ে বের হয় কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পায় না।

https://www.facebook.com/profile.php?id=61592344767363 (উদ্যোক্তা)
https://www.facebook.com/profile.php?id=61592183548671 (মৃত্যুঞ্জয়)

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"..

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৯

"আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথঃ দ্য আয়নাঘর ফাইলস"
-একজন গুমের শিকার মানুষের চোখে একটি ভয়াবহ সত্যের দলিল।

“আনফোল্ডিং দ্য ট্রুথ: দ্য আয়নাঘর ফাইলস”- নামটি যতটা আকর্ষণীয়, বইটির ভেতরের সত্য তার চেয়েও বেশি নির্মম, বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষের অহংকার ও বুদ্ধিমত্তার ভ্রান্ত ধারণা

লিখেছেন শেরজা তপন, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫২


উৎসর্গঃ ব্লগার রাজীব নুর( ঈশ্বর বিশ্বাসের কোল ঘেঁষে যাওয়া কোন লেখা এলেই যিনি লেখককে ভীষন সন্দেহের চোখে দেখেন- ভাবেন; কি অদ্ভুত কথা- ইনি দেখি ঈশ্বর বিশ্বাসী!!))
ধর্ম ও বিজ্ঞান: সংঘর্ষ না... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×