কুমিল্লা নির্বাচন কভার করতে অফিস থেকে আমার নাম ঠিক করা হলো । সাথে ছিলেন একজন সিনিয়র রিপোর্টার,ক্যামেরা ম্যান আর গাড়িচালক। সকালে বারিধারা অফিস খেবে রওয়ানা দিলাম । ঠিক করলাম ডেমরার সুলতানা কামাল ব্রিজ দিয়ে যাব । তাই বনশ্রীর ভেতর দিয়ে আমাদের গাড়ি চলল । ডেমরার আমুলিয়া দিয়ে যাবার সময় নতুন বাইপাসটি দেখে ভালোই লাগল । দু পাশ দিয়ে বিস্তৃত ধানক্ষেত আর মাঝখান দিয়ে রাস্তা ।
কাঁচপুর থেকে কুমিল্লা যাবার পথে মনে হলো বাংলাদেশ ৫ বছর পরে এক নগরময় রাষ্ট্রে পরিণত হবে । রাস্তার দু ধার দিয়ে কোন জায়গা খালি নেই । শুধু মানুষের আবাসভিটে । কোন জায়গা ফাঁকা নেই । একফাঁকে দাউদকান্দি থেকে চিপস,ঝাল চানাচুর কিনে নিলাম । গাড়ি চলছে ঢাকা চট্রগ্রাম হাইওয়ে ধরে ।
কখন যে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট পৌঁছে গেলাম তা টেরই পেলাম না । এরই মধ্য বিশ্বরোডে একটি রেস্তোরায় দুপুরের খাবার খেয়ে নিলাম । এরপর বুকিং দিয়ে রাখা হোটেলে গেলাম । কারণ নির্বাচনের জন্য সব হোটেলই আগে থেকে বুকড । কিন্তু রুম দেখে পছন্দ হলো না । ঠিক করা হলো অফিসের এক কলিগের বাড়িতেই থাকব । তার বাড়ি কান্দিরপারের পাশেই মদিনা মসজিদ রোডে । তার ভাইকে ফোন দেয়া হলো । তিনি এসে আমাদের নিয়ে গেলেন ।
তার বাড়িতে বাক্স পেটরা রেখে ছুটলাম টাউন হলে । সেখানে গিয়ে অন্যান্য মিডিয়ার পরিচিতজনদের সাথে দেখা হলো । এরপর গাড়ি নিয়ে রওয়ানা দিলাম ওয়ার সিমেট্রির দিকে । কারণ একটা স্পেশাল করতে হবে ওয়ার সিমেট্রি নিয়ে । তখন চারটা ছুঁই ছুঁই। পোঁছে গেলাম । ক্যামেরাপার্সনকে কী কী শট নিতে হবে তা বললাম । অন্ধকার হয়ে আসছে, কিন্ত আমার তো রিপোর্টটি করতে হবে । তবুও ভক্সপপ নিয়ে নিলাম, সাথে আবার পিটিসি দিলাম । সিমেট্রির নিরবতাটিই সবচেয়ে আকর্ষণীয় । মনে দাগ কেঁটে যায় । এরপর গন্তব্য আবারো টাউন হল । সন্ধ্যা হয়ে আসছে, পাখির কিচিরমিচির শুনতে ভা্লোই লাগছিল । গাড়িচালক ছুটলেন টাউন হলের দিকে । রাত ঘনিয়ে আসছে । নির্বাচনের আগের রাত আসলেই উপভোগ করার মতো ।
কুমিল্লায় আগেও এসেছি । তবে দেখার সময় হয়নি । এবার তাই টাউন হলে কিছুক্ষণ কাটিয়ে বের হলাম রাতের কুমিল্লা দেখতে ।( চলবে)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

