আমার ব্লগের নামই সাংবাদিকতার ছাত্র। তবে ছাত্রত্ব শেষ করেছি প্রায় তিন মাস হয়ে গেছে।এখন পুরোদস্তুর সাংবাদিক বলতে পারেন।ভালো্ই লাগছে নতুন এই জীবনটি।তবে এখানে আসার পথটা খুব বেশি মসৃণ ছিল না।
এর কারণও ছিল।২০১০ থেকে সময়টা খুব বেশি ভালো যায়নি।কিছু ব্যক্তিগত,পারিপার্শ্বিক সমস্যা তো ছিলই।তবে সবচেয়ে ভুগেছি আমার সহপাঠীদের নিয়ে।এই দ্বন্দ্বটা শুরু হয় ২০০৯ থেকেই।আমার এক সহপাঠী শ্রেণীতে ফলাফলে আমার চেয়ে এগিয়ে যায়।আমি মন খারাপ করিনি।কারণ আমি বুঝতে পেরেছিলাম আমার সমস্যাটা কোথায়।সেএগিয়ে যায়।ভালো কথা।পরিশ্রম করলে ভালো ফলতো হবেই।কিন্তু সে এগিয়ে গিয়ে শুরু করে আমার সাথে সহজ কথায় বাজাবাজি।সেটা স্যারদের কাছে বদনাম বলেই হোক কিংবা বন্ধুদের কাছে কানভারী করেই হোক।বরাবরই আমি প্রথম সারিতে বসতাম আমার ক্লাসে।ফলাফলের পর দেখি সে আমার ঐ আসনটিই নিয়ে নিয়েছে।বাসা দূরে ছিল বলে প্রথম সারিতে আমার আগে থেকে বসা আসনটিও পেতাম না।ঐ বন্ধুই বসত।মনে হচ্ছিল যেন ফলাফলে আমার চেয়ে এগিয়ে গিয়ে সে ঐ আসনটিতে বসছে।যা অনেকটা ছিল জাহির করার মতোই।কিন্তু আমার অন্য সহপাটীরা আমাকে সাঙ্গ দিয়েছে।তারপরেও আমি ধৈর্য্য ধরেছি।প্রতিবাদও করিনি।অপেক্ষা করেছি মাস্টার্স শেষ হবার।মাস্টার্স শেষ হবার পর আমার ঐ সহপাঠী বন্ধু এখন নামকরা দৈনিকে আছে।আমিও আছি দুটি গণমাধ্যমে।তবে আজ এ পর্যায়ে এসে একটি কথাই মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা ছিল সত্যিই আনন্দের।দু একটি বেদনা না থাকলে আজকে হয়ত ঐ জীবনটাকে স্মরণই করতাম না। তবে একটি কথাই সত্য তা হলো ভালো কাজের মূল্যায়ন সর্বত্রই আছে।আজকে হয়ত অন্য সহপাঠীদের তুলনায় কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে আছি তা নিজের চেষ্টার ও শ্রমের কারণেই।যাদেরকে সাংবাদিকতার আইডল বলে জেনেছি চিরকাল তাদের সাথে কাজের সুযোগ পাচ্ছি।তাদের কাছ থেকে শিখছি।তাদের স্নেহ পাচ্ছি। আমার প্রশ্ন হলো আমার ঐ সহপাঠী বন্ধুর প্রতি।তুমি হয়ত আমার চেয়ে ফলাফলে এগিয়ে আছ,কর্মক্ষেত্রে কি আমার চেয়ে এগিয়ে আছ।বন্ধু তুমি আমাকে সাময়িক অনেক কষ্ট দিয়েছ,তবে সেই কষ্টকে আমি শক্তি বানিয়েছি,চলছি সামনের দিকে। তোমাকে আসলেই আমি মিস করছি ।ভালো থেক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

