সেই ঐতিহ্য - আর্য মানবিকতা বিচারে ' নিম্নবর্ণের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করার ঐতিহ্য ।
শাম্বুক-এর মতো প্রতীকী মানুষদের বেদপাঠ ক'রে নাই । কারণ , এটাও ব্রাহ্মন্যবাদী মানসিকতা বিকৃত এক রূপ ।
আমাদের স্বীকার করে নেওয়া দরকার , অতীতটা ততটা গৌরবের নয় , যতটা আমরা বাক্যালঙ্কারে ভূষিত করে বলে থাকি ।
জাত-পাত-বর্ণভেদ এবং মধ্য দিয়ে ধর্মগত ও শ্রেণীগত শোষণের জালে পড়ে ভারতবর্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে নিপীড়িত হতে হয়েছে । তাদের প্রথাগত শিক্ষার সুযোগে দেওয়া হয়নি । শত সহস্র একলব্যদের মরতে হয়েছে ব্রাহ্মণ্যবাদী মানসিকতা শিকার দ্রোণাচর্যদের হাতে ।
এটা আমাদের জাতীয় লজ্জা যে , দ্রোণাচার্য'র মতো পক্ষপাতদৃষ্ট শিক্ষাগুরুর নামে জাতীয় পুরস্কার চালু করা হয় । তবু আমাদের অতীত নাকি সুমহান এবং সভ্যতার অগ্রদূত । যে অতীতে আসল মর্মার্থ -শ্রেণী নয় , ধর্ম কর্ম নয় , জন্মই মানুষের বড় পরিচয় ।
রামায়ন ঐতিহাসিক ঘটণার সাক্ষ্য নয় । কিন্তু রামায়ন পাঠে অতীতের ইতিহাসের ধারণা আমরা পাই । নাস্তিকতাবাদ সে যুগে ছিল , ভারতের স্বেচ্ছা নির্বাসিত রামের প্রত্যাখানে বিচলিত জবালি জানিয়ে ছিলেন , পরলোক বলে কিছু নেই । আবার ছিল সাম্প্রদায়িকতাও । জবালির এই কথার জবাবে রাম বলেছিল , চোর ,নাস্তিক আর বৌদ্ধরা সমান অপরাধী এবং তার সমানভাবে দণ্ডাই । বৌদ্ধরা যে অপরাধী ব্রহ্মণ্যবাদী ভাবধারায় শিক্ষিত ক্ষত্রিয় রাম বোঝে । বোঝে বৌদ্ধকে দণ্ড দিয়ে রক্ষা করতে হবে ব্রাহ্মণ্যবাদী রাজ্যকে ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৬ দুপুর ১:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




