
কাদম্বিনীকে মরে প্রমাণ করতে হয়েছিল যে, সে তার আগে মরেনি। আমির খানও প্রমাণ করলেন, তিনি আগে যা বলেছিলেন তার সত্যতা কতটা! অসহিষ্ণু ভারত নিয়ে মুখ খোলায় কোণটাসা আমিরকে এই অতুলনীয় ভারতছাড়া করা যায়নি ঠিকই, কিন্তু অতুল্য ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ ঘটিয়ে সরকার জানান দিল, তাদের অসহিষ্ণুতার মাত্রাকে। একটা মন্তব্যের কারণে যদি অতুল্য ভারতের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর পদ খোয়াতে হয়, তাতে আর কিছু না হোক, সরকারের তীব্র অসহিষ্ণুতার পরিচয় মেলে।
অতুল্য ভারতের বিজ্ঞাপনে আমিরের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করায় আমিরের ব্যক্তিগত ক্ষতি কতটা হল, সেটা ধর্তব্যের মধ্যেই আসে না। কারণ, আরও একটা বৃহত্তর ক্ষতির সাক্ষী হলাম আমরা। ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ থেকে আমিরকে দূর করা গেল ঠিকই, কিন্তু বহুমতের ধারণভূমি এই দেশ তার একটা বড় অলঙ্কার খুইয়ে বসল। পরমত সহিষ্ণুতা। এই একটা মন্ত্র এ দেশের নানান স্রোতকে স্বকীয়তা বজায় রেখেই মিলতে সাহায্য করেছে। শিখিয়েছে, অন্যায় হলে আওয়াজ তোলার ন্যুনতম গণতান্ত্রিকতাও। আমির নির্বাসনে তাই আসলে মুকুটের একটা বড় পালককে আমরা বিসর্জন দিয়ে বসলাম। ভরসা একটাই, এ দেশ তার দীর্ঘ ঐতিহাসিক সফরে এই কলঙ্কের মোড়গুলোকে শুধু পেরিয়েছে তাই নয়, তাকে অতিক্রম করে নব দিগন্তের যাত্রার পথ দেখিয়েছে বার বার।
ভারত অতুল্য সেখানেই, যেখানে দোর্দণ্ডপ্রতাপ রাষ্ট্র তার হাতটাকে লম্বা করেও ছুঁতে পারে না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই জানুয়ারি, ২০১৬ রাত ২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




