somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অনুগল্প: তেরোই শ্রাবণ

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৭ বিকাল ৫:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



রুহি শ্রাবণের মেঘ আর বৃষ্টি থাকে পেয়েছিল ভালবাসা । রিমঝিম শব্দে বেড়ে ওঠেছে অভ্যাসগত সুরের মেঘমল্লার । মীড় , মূর্কী , লগ্ন ও অলগ্ন সুরে গান গেয়ে জেগে ওঠে ঘুম ভাঙা সকাল । রুহির ভীষণ পছন্দের গান । “ভালবেসে যদি সুখ নাহি তবে কেনো.......।”

রুহি বাইরে বেরবে । তাই নিজেকে তৈরি করছে । ঘর থেকে বাইরে বেরিয়েই । রুহি আকাশের দিকে তাকায় । মেঘলা আকাশ রুহিকে রোমান্টিক করে তোলে । এই বিভ্রম জীবনে সবাই আসবে , এটা এড়ানো সম্ভব নয় , প্রথম চুম্বন , প্রথম সময় , প্রথম সব কিছু । রুহি কথাগুলো ভেবে আরও রোমান্টিক একটি হাঁটায় পা মেলায় । গতকাল রুহি অভিকে কথা দিয়েছিল । আজ দেখা করবে ।

আবার আকাশের দিকে তাকায় রুহি । বৃষ্টি বুঝি বাদসাজে ! কিন্তু না , রুহি শেষমেষ গিয়েছিল । কিন্তু অভির সাথে দেখা হয়নি । রুহি জানতে পেরেছিল অভির এক বন্ধুর কাছে । অভি নাকি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়াই মা-বাবার সাথে ডাক্তার দেখাতে কলকায় গিয়েছে ।

রুহির ব্যকুলতা রুহিকে অদৃশ্য কষ্ট দিতে থাকে । এক রকম প্রতিদিনের কাজ-কর্ম কে ছুটি দিয়ে রুহি মনে মনে অভি অভি ছটফট করতে লাগল । হঠাৎ করে অভির এমন কি হলো । কলকাতা অবদি যেতে হলো ! রুহি সস্বভাবগত যখনই অভিকে মিস্ করে । তখনই অভির দেওয়া সমস্ত গীফ্ট বিছানায় নিয়ে নাড়াচাড়া করে । তাতে একটা পরিতৃপ্তি পেত রুহি । রুহিকে অভি একটা বোতাম উপহার দিয়েছিল । অভি রুহিকে চুমু দিতে গিয়ে । রুহির দুষ্টুমীর জন্য তার জামা থেকে একটা বোতাম ছিঁড়ে গিয়েছিল । অভি রুহিকে বোতামটা দিয়ে বলেছিল ,“ বোতামটা তুমি রেখে দাও । আমি রইলাম বোতামটাতে ।” ঘটনাটা ছিল গত নবীন বরণ অনুষ্ঠানে । ঠিক । তার ঘন্টা খানেক পর অভি অসুস্থ হয়ে পরে । অসহ্য মাথার ব্যথায় অভি অজ্ঞান হয়ে যায় । অবশ্য দু-তিন দিন পর অভি সুস্থও হয়ে যায় । কিন্তু এমন কি হলো যে, কলকাতা অবদি দৌঁড়াতে হলো ।

তিন দিন হলো অভির কোনো খবর নেই । অভি কেমন আছে । কে জানে । রুহি আস্তে আস্তে মানসিক ভারসাম্য হারাতে লাগল । চার দিনের দিন রুহি অভির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর বাড়ির দিকে রওনা দিল । অভির বন্ধুটির বাড়ির ছিল অভিদের পাড়ার উত্তর পাড়ায় । সেহেতু রুহিকে যেতে হলে অভিদের বাড়ির সামনে দিয়েই যেতে হবে । অভিদের বাড়ির পঞ্চাশ হাত দূরে রুহি চমকে থেমে গেল । অভিদের বাড়ির সামনে প্রচুর ভিড় । রুহি হাত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল । সকাল দশটা । রুহির ভিতরটা মুচড়ে উঠলো । পা দুটো নীথর হয়ে গেল । ভাবনার সীমাহীন পরিবর্তনে রুহি পাগলের মত করতে লাগল । তবে কি অভির কিছু হয়েছে । রুহি ভাবল । রুহি কিছুটা আসতেই যেনে গেল সত্যটা কি । অভি নেই ! অভি ব্রেন ক্যান্সারে মারা গেছে । আরও দু-দিন পর রুহি জেনেছিল । রুহিও মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেছিল । আর কখনও কাউকে বিয়ে করবে না ।

আজ সেই তেরোই শ্রাবন । আজও রুহি অভির মৃত্যু দিবস পালন করে । এই দিনে রুহি সাদা শাড়ী পড়ে অভির ছবিতে মালা পড়াই । অফিসে যায় না । সারাটা দিন অভিকে নিয়ে সেই শুরু থেকে শেষ অবদি ভাবে ।

এই ভাবেই রুহি পঁয়তাল্লিশটা বসন্ত কাটিয়ে দেয় । রুহির সারা শরীরে অভির বসন্ত হাওয়া বার্ষিকগতীতে ফিরে ফিরে আসে । খুঁজে পায় শরীর ছুঁয়ে অভির উত্তাপ , স্পন্দন আর প্রতিচিত্র ভালবাসা ।
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিল্লির রাজপথে তরুণদের ‘জেনজি ২.০’ অভ্যুত্থান এবং বাংলাদেশের জুলাই-পরবর্তী রূপান্তরের নির্মম বাস্তবতা

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৮

ভারতের রাজধানী দিল্লির বুকে যা ঘটে গেল, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে সত্যিই অভূতপূর্ব। ভারতের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা ও এসআইআর প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে ‘তেলাপোকা’ বা ককরোচ জনতা পার্টির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিমানবন্দরে নির্ঘুম রাত (সাময়িক পোষ্ট)

লিখেছেন কাছের-মানুষ, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৭

আমার এখানে বাজছে রাত প্রায় দুটা! এখনো জেগে আছি। জেগে থাকার শানে নুযুল হলো, আমি অনেকটা ফাইসা গেছি! হায়দার সাহেবের গানের মতো, "আমি ফাইসা গেছি, আমি ফাইসা গেছি মাইনকা চিপায়!"... ...বাকিটুকু পড়ুন

×