
শিকাগো ও ইসাবেলার কবিতা
দ্বীপ সরকার
চাকুরির সুবাদে--
শিকারগোর শহরে কিস্তি আদায় করি
ঘন্টা মেপে কোন কাজ নেই
করছি তো করছি,
কখন সকাল,কখন বিকেল
দৌড়োনোর গতিতে সময় যায়
শ্রমিকরা সময় না মেপে
কাজ মেপে দৌড়োতে থাকে
দিন শেষে মুলা ঝুলিয়ে দেয়
বকেয়া বেতন,কাজ তেমন হয়নি
বাহানার অন্ত নাই---
আমি রানারের মতো কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে
শহরে ছুটছি--এ বাড়ি, ও বাড়ি
রোদ, চোয়ালের কাছ দিয়ে উড়ে যায়
ফন ফন করে
এ বাড়ি ও বাড়ি করতে করতে
ইসাবেলার প্রেমে পড়ে যাই
কথা হলো, সে হে-মার্কেট স্কয়ারে আসলে
থুতনির নিচে একটা চুম্বন রেখে চলে যাবো,
কিস্তির ভিড়ভাট্টায়---
জাস্ট,মেমোরিক্যাল সিমটম
তখনও ঘামের ঢেউ গোনা হয়নি আমার,
কয়টা মাটিতে পড়েছে,
কয়টা মিশে গেছে টি শার্টের ভাঁজে ভাঁজে,
এখানে ঘামের সংবিধান বলে কিছু নেই
ইসাবেলা আসলো ঠিক দশটায়--
সাথে সাথে শ্রমিকারন্যে ভরে উঠলো,পুরো শিকাগো-
হে-মার্কেট,রিভার স্ট্রীট,লুপ,ম্যক্সওয়েল স্ট্রীট;
সকলের কাঁধে কোদাল,খুন্তি,কাস্তে,ভার
অনেকে রোদ ঠুকরে খাচ্ছে,
রোদেপোড়া কোন বিষয় নয় এদের--
মিছিল,স্লোগান--
বিশ্বের শ্রমিক এক হও
আটঘন্টা কাজ, আট ঘন্টা বিশ্রাম
আমার কানের পৃষ্টায় ধাক্কা লাগে
আহ! কষ্ট আর ভাল্লাগে না
সরকারিবাহিনী খেট খেট করে গুলি ছোঁড়ে,
কিছু ফাঁকা হয়, কিছু উল্টো তেড়ে আসে
দ্রিম দ্রিম শব্দ ফেটে যায় কারো মুখ,চোখ
ঝাঁঝড়া হতে থাকে অপূর্ব শ্রমিকরা
রক্তস্রোতে ভেসে যায় শিকাগো
আমার দু চোখে বারুদ বারুদ অশ্রু আসে
ইসাবেলার শরীর ঝাঁঝড়া হয়ে যায়
মৃত প্রেমিকার থুতনির নিচে রক্তচুম্বন
জাস্ট মেমোরিক্যাল সিমটম!
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা মে, ২০২৬ রাত ৯:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




