somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কানের লতির ঠিক দুই ইঞ্চি নিচে....

১৭ ই মে, ২০১০ দুপুর ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের এলাকায় ক্লাবঘর নামক একটা ঘর আছে। এলাকার কল্যান সমিতির অফিসটাকে সবাই ক্লাব ঘর বলে। এই ঘরে এলাকার মুরব্বিরা দরজা-জানালা বন্ধ করে ভাল ভাল(ভালো কথাটার বিশেষ অর্থ আছে, বুদ্ধিমানরা বুঝে নিন) সিনেমা দেখে। তবে তাদের প্রথম পছন্দ হল মহিলাদের রেসলিং। বিশ্বকাপ টাইপের কোন খেলা হলে এই মুরব্বিদের একটু মন খারাপ হয়ে যায়। কারণ তখন এলাকার পোলাপান সবাই মিলে ক্লাব ঘরে খেলা দেখতে আসে। মহিলাদের রেসলিং বা ক্যাটরিনার নাচ কোনটাই দেখা হয় না। পারফিউমের বিজ্ঞাপন আর চিয়ার লিডারদের নৃত্য তাদের সামান্য আনন্দ দেয়। যাই হোক, গতকাল রাতের কথা। অস্ট্রেলিয়া আর ইংল্যান্ডের খেলা হচ্ছে। ক্লাবে প্রচুর লোক। আমি এবং আমার দোস্ত পাভেল খুবই অবাক হলাম। এই এলাকার মানুষ সব ভারত বা পাকিস্তানের সাপোর্টার। এরা এত মনযোগ দিয়ে এই খেলা দেখছে কেন? ক্লাবে ঢুকে বুঝলাম সবাই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কারণ একটাই, অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানকে বিদায় করে দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একটা উইকেট পড়ে আর পাবলিক খুশিতে লাফ দিয়ে উঠে। আমার দোস্ত পাভেল এক লোককে বলল,
-আপনি ইংল্যান্ড সাপোর্ট করছেন?
-অবশ্যই। এই হারামজাদা অস্ট্রেলিয়া আমাদের বুকটা একেবারে ঝাজড়া কইরা দিসে। আহারে! কেমনে ওরা পাকিস্তানরে হারায় দিলো। ইশ। ওই কথা মনে পড়লেই বুকের মধ্যে কেমন যেন লাগে।
তার কথা শেষ হতে না হতেই ক্যামেরন হোয়াইট আউট। এই খুশিতে লোকটা চিৎকার দিয়ে পাভেলকে জড়িয়ে ধরল। আমার মনটাই খারাপ হয়ে গেল। এই লোককে আমি খুব ভালো করে চিনি। বাংলাদেশের খেলার সময়ে সে ছিল। বাংলাদেশের সাথেও ক্যামেরন হোয়াইট আউট হয়েছে। কিন্তু তখন এই লোক খুশিতে কাউকে জড়িয়ে ধরেন নি।
পাকিস্তানের সাথে দ.আফ্রিকার খেলা দেখছি। আমির খুবই সহজ একটা ক্যাচ মিস করায় আমরা বললাম, পাকিস্তান ভুয়া। বাংলাদেশের ফিল্ডিং কত ভালো। এক আংকেল বললেন, ‘বলটা সামনে পড়সে। এই ক্যাচ কেউ ধরতে পারতো না।’ আমরা বললাম, কি যে বলেন, আমাদের ইমরুল কায়েস থাকলেই এইটা ধইরা ফেলতো। আংকেল এমন ভাবে তাকালেন যেন ইমরুল কায়েস জীবনে ক্যাচ ধরেনি। বললেন, ‘বাংলাদেশ কি খেলে তা আমরা জানি। একটা ম্যাচও জিততে পারে না।’
আমরাও জানি। শুধু আমরা কেন? বাংলাদেশের ফিল্ডিং যে ভালো তা সবাই জানে। তবে জানে না এদেশের কিছু লোক। পাকিস্তান টিমের প্রতি এদের মমতার শেষ নাই। ক্যাচ মিস করলে বলে- ‘সামনে পড়সে’ আর বাংলাদেশি কেউ কোন ক্যাচ মিস করলে সারা জীবনে যে যত গালি শিখেছে তা মুখস্ত বলা শুরু করে।
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত হারার পর এক লোক আক্ষেপ করে বলছিল, ‘ধুর, আজকে দুঃখে আমার পড়ালেখা হবে না। ঘুমও আসবে না।’ অথচ বাংলাদেশ ভালো খেলেও হারার পর ওই লোক যে গালি গুলো বাংলাদেশ টিমকে দিয়েছিল শুনলে ওরা খেলাই ছেড়ে দিত। এদের যখন বলি- ছি, আপনি বাংলাদেশ সাপোর্ট না করে ভারত-পাকিস্তান সাপোর্টঁ করেন? আপনি তো মানুষ না, রাজাকার- এসব কথা শুনলেই এই সাপোর্টারগুলো বলে, ‘দেখেন ভাই, খেলা হচ্ছে খেলা, নির্মল বিনোদন। প্লিজ এর মধ্যে রাজনীতি টেনে আনবেন না, রিকোয়েস্ট।’ এই টাইপের কথা ছোটবেলা থেকে শুনে আসছি। কয়েকদিন আগে আবার শুনলাম। আমি রাজনীতি তেমন বুঝি না। ছোটদের রাজনীতি নামের একটা বই বাসায় আছে। আমি পড়ার আগেই উইপোকারা বইয়ের কিছু অংশ পড়ে ফেলেছে। রাজনীতির প্রতি উইপোকাদের যে এত আগ্রহ তা আগে বুঝি নি। উইপোকাদের সাথে কথা বলতে পারলে ভালো হত, রাজনীতি জিনিসটা কি তা তাদের কাছ থেকে বুঝে তারপর সেটা নিয়ে টানাটানি করতাম। তবে ভারত-পাকিস্তানের এই রকম সমর্থক দেখলে বা এদের কথা শুনলে ইচ্ছা করে এদের প্রত্যেকের কানের লতির ঠিক দুই ইঞ্চি নিচে কষে দুইটা থাবড় মারি। কে জানে, একদিন হয়তো সত্যি সত্যি মারবো।
১২টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

স্বপ্ন যখন মাঝপথে থেমে যায়: ঢাকার জলপথ ও এক থমকে যাওয়া সম্ভাবনার গল্প

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:২৫

ঢাকার যানজট নিয়ে আমরা অভিযোগ করি না এমন দিন বোধহয় ক্যালেন্ডারে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অথচ এই যানজট নিরসনের চাবিকাঠি আমাদের হাতের নাগালেই ছিল—আমাদের নদীগুলো। সম্প্রতি বিআইডব্লিউটিএ ঘোষণা করেছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কেন আমি ইরানের বিরুদ্ধে-২

লিখেছেন অর্ক, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:১৪



ইরান বিশ্বসভ্যতার জন্য এক অভিশাপ; এক কলঙ্ক। কাঠমোল্লারা ক্ষমতা পেলে একটি রাষ্ট্রের যে কি পরিণতি হয়, তার জ্বাজ্জল্যমান উদাহরণ ইরান। সম্পূর্ণরূপে অসভ্য বর্বর অসুস্থ রাষ্ট্র গড়ে উঠেছে সেখানে। যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভাগাভাগি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭

ভাগাভাগি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এলাকায় এক ইফতার মাহফিল-এ
দাওয়াত পাই আর যথাসময় চলে যাই।
অনেক মানুষ পড়ছে দোয়া দুরুদ
ঘনিয়ে আসছে রোজা ভাঙার সময়।

তখন সবার সামনে বিলিয়ে দিচ্ছে বিরিয়ানি
আমার ভাবনা- হয়ত কেউ ভাবছে
যদি একসাথে খাওয়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৩ এ ওয়াকআউট করেছিলেন, ২০২৬ এ তিনিই ঢাবির ভিসি ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৬ ই মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২২


২০২৩ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সভা চলছে। একজন শিক্ষক দাঁড়িয়ে বললেন, হলগুলোতে ছাত্রলীগের গেস্টরুম নির্যাতন বন্ধ করতে হবে। কথাটা শেষ হতে না হতেই তৎকালীন ভিসি জবাব দিলেন, "গেস্টরুম কালচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

এপস্টেইনের এলিট: ইসরায়েলের মিডিয়া নিয়ন্ত্রন এবং প্রপাগাণ্ডা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৭ ই মার্চ, ২০২৬ ভোর ৬:৩৮


ইতিহাসবিদ ইলান পাপে বলেছেন, "ইসরায়েল অবৈধ বসতি স্থাপনকারী, ঔপনিবেশিক শক্তির একটি প্রজেক্ট। এটি ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় গড়ে ওঠা স্বাভাবিক রাষ্ট্র নয়, বরং রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তির দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থা"। এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×