
আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের হয়েছে। আপাতত সে কোথাও যাবে না। তবে দুপুরে তার দাওয়াত আছে। উত্তরাতে। ইমাম সাহেব দাওয়াত দিয়েছেন। ইমাম সাহেবের নাম মোকলেস। বাড়ি ফরিদপুর, আলফা ডাঙ্গা। শাহেদ সকালে নাস্তা করবে কিনা বুঝতে পারছে না। নাকি একেবারে দুপুরে'ই খাবে। শাহেদ দাঁড়িয়ে আছে পান্তপথ। রাস্তাঘাটে মানুষজন এবং যানবাহন কম। মনে হচ্ছে ঢাকা শহরটা বদলে গেছে! বদলে গেছে তো বটেই। শেখ হাসিনা চলে যাওয়ার পর অনেক কিছুই বদলে গেছে। সংসদে গেছে জামাত শিবির। বিএনপি জামাত শিবিরিকে টাইট দিতে পারিবে না। জামাত শিবিরের জম হচ্ছে আওয়ামীলীগ। শেখ হাসিনা ফিরবেন। সব কিছু গুছিয়েই ফিরবেন। অবশ্য ইন্দিরা গান্ধী বেঁচে থাকলে চিন্তা ছিলো না। দেশের জনগনই তাকে ফিরিয়ে আনবে।
সকালে নাস্তা না খেলেও চা খাওয়াটা ভীষন দরকার।
শাহেদ জামাল দরিদ্র মানুষ। বিলাসিতা তাকে মানায় না। কিন্তু এক কাপ চা না খেলে প্রানটা যেন যায় যায়। রাস্তার পাশে ফুটপাতের চা শাহেদ জামাল খেতে পারে না। অতি জঘন্য। এক গাদা চিনি দিয়ে চায়ের স্বাদ নষ্ট করে দেয়। রেস্টুরেন্টে এক কাপ চায়ের দাম আবার ত্রিশ টাকা। এদিকে সিগারেটের দাম বেড়েছে। প্রতি বছর বাজেটের পর সিগারেটের দাম বাড়ে সবার আগে। একটা বেনসন ২৩ টাকা করে নিচ্ছে। সস্তা সিগারেট শাহেদ জামাল খেতে পারে না। সিগারেটের দাম ২৩ টাকা হলেও রাখে ২৫ টাকা। ভাংতি নেই বলে, একটা চকলেট ধরিয়ে দেয়। চা আর সিগারেট নিয়েই শাহেদ জামাল কিছুটা বিলাসিতা করে। টাকা থাকলে সে আরো কিছু বিলাসিতা করতে পারতো। বিলাসিতা না করলে পারলে জীবনে মজা নাই। আমস্টারডাম শহরটা দেখার বড় শখ তার। তার ইচ্ছা সাইকেল চালিয়ে পুরো শহর ঘুরে বেড়াবে। দেবি স্বরসতীর চেয়ে সুন্দর কিছু মেয়েরা রাস্তায় সেজেগুজে দাঁড়িয়ে থাকে। অল্প কিছু টাকা দিলেই তাদের সঙ্গ পাওয়া যায়।
সময় যাচ্ছেই না। মাত্র ১১ টা।
ইমাম সাহেবের কাছে যেতে হবে জুম্মা নামাজ শেষে। বৃক্ষমেলায় যাওয়া যেতে পারে। এবার কি বৃক্ষ মেলা হচ্ছে না? আগে তো প্রতিবছর বর্ষাকালে এক মাস ব্যাপী বৃক্ষ মেলা হতো। বইমেলার চেয়ে বৃক্ষমেলা বেশি সুন্দর। শাহেদ জামালের কিছু জায়গা জমি থাকলে সে মন ভরে গাছ লাগাতো। গাছের যত্ন নিতো। গাছের মধ্যে একটা ছোট ঘর বানাতো। সেখানে সে বই পড়বে আর চা খাবে। তবেই না হবে লাইফ ইজ বিউটিফুল। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকা ভীষন ভাগ্যের ব্যাপার। দৃক গ্যালারি'তে কি কোনো আলোকচিত্র প্রদর্শনী হচ্ছে? এই বিষয়ে শাহেদ জামালের বেশ আগ্রহ আছে। একসময় সে প্রচুর ছবি তুলতো। তার ইচ্ছা ছিলো, তার তোলা সেরা ছবি গুলো দিয়ে সে একটা আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন করবে। অনেককে সে দাওয়াত দিয়ে আনবে। এর মধ্যে একজনকে বিশেষ ভাবে দাওয়াত দিবে। তার নাম মুনা। মুনা তার জন্য কিছুটা ভালোবাসা দেখিয়েছিল। স্বরসতী দেবীর চেয়ে মুনা অনেক বেশি সুন্দর।
এক বর্ষাকালে মুনা ফোন করে বলেছিলো-
আমার জন্য কিছু কদম ফুল এনে দিতে পারবে? সেদিন সারাদিন থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। শাহেদ তার পুরান ঢাকার বেগম বাজার এলাকা থেকে শহীদ মিনারের কাছে এসে একটা কদম গাছ খুজে পায়। এক রিকশা চালককে গাছেও উঠিয়ে কিছু কদম ফুল সংগ্রহ করে। সেই ফুল নিয়ে শ্যামলি আসে। এসে মুনাকে ফোন দেয়- মুনা তো অবাক! শাহেদ সত্যি সত্যি তার জন্য কদম ফুল এনেছে! মুনা মায়া ভরা গলায় বলেছিলো, সারাদিন বৃষ্টি! তুমি ভিজে যাওনি তো! হ্যা শাহেদ ভিজে গিয়েছিলো। একদম কাকভেজা। মুনার বিয়ে হয়ে গেছে। সে তার স্বামীর সাথে মেক্সিকো থাকে। শাহেদ জামালের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই। মুনা কেমন আছে? টাকা পয়সা হলে সে একবার মেক্সিকো যাবে মুনাকে দেখতে। এবং অবশ্যই হাতে করে কিছু কদম ফুল নিয়ে যাবে।
ইমাম সাহেব শাহেদ জামালকে দেখেই জড়িয়ে ধরলেন।
ইমাম সাহেব মসজিদেই থাকেন। হুজুরদের থাকার জন্য মসজিদে ঘর আছে। এক মসজিদে শাহেদ জামাল একবার দেখেছিলো মসজিদের ইমাম লাশের খাটে থাকে। লাশকে যে খাটে রাখা হয় সে খাটে! কি অদ্ভুত! আজকের আয়োজন লেটকা খিচুড়ি। খিচুড়ি ইমাম সাহেব নিজেই রান্না করেছেন। এই মসজিদে এলাকার গন্যমান্য লোকের বাসা থেকে খাবার আসে না। ইমাম সাহেব বললেন, শাহেদ ভাই, পরে কথা হবে। খিচুড়ি ঠান্ডা হয়ে গেলে খেয়ে আরাম নাই। খিচুড়ি খেতে হয় গরম গরম। খিচুড়ির সাথে দুই পদের আচার আছে। ডিম ভাজা আছে। বেগুন ভাজা আছে। শুধু ইলিশ মাছ ভাজা নেই। অনেকদিন ধরে শাহেদ জামালের ইলিশ মাছ খেতে ইচ্ছা করছে। ইলিশ মাছের যা দাম! তাদের মেসে রান্না হয় শুধু চাষের মাছ। পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, রাক্ষুসে কৈ। যে বুয়া রান্না করে, তার রান্নার হাতও ভালো না। সেই খাবারই মেসের লোকেরা চেটেপুটে খায়।
লেটকা খিচুড়ি শাহেদ হাত দিয়ে খেতে পারে না।
লেটকা খিচুড়ি খেতে হয় চামচ দিয়ে। তাহলে হাতে গরম লাগে না। হ্যা খিচুড়ির ভালো হয়েছে। ইমাম সাহেব ডাল ভাগার দেওয়ার মতো করে খিচুড়িও ভাগার দিয়েছেন। এতে খিচুড়ির স্বাদ বেড়েছে। খেতে ভালো লাগছে। শাহেদ দুই প্লেট খিচুড়ি খেয়ে ফেলল। পেটে জায়গা নেই, নইলে আরো এক প্লেট খেতো। খাওয়া শেষে ইমাম সাহেব টক দই দিলেন। শাহেদ টক দই খায় না। কিন্তু আজ খেলো। ইমাম সাহেবকে খুশি করার জন্যই খেলো। খাওয়া শেষে শাহেদ ইমাম সাহেবের বিছানায় হাত মেলে শুয়ে পড়লো। ইমাম সাহেব বললেন, শাহেদ জামাল ভাই আমি জেনে শুনে বুঝে একটা পাপ করেছি। সেই গল্পটা আপনাকে বলতে চাই। শাহেদ বললো- বলেন আপনার গল্পটা শুনি। মনে হচ্ছে ইন্টারেস্টিং গল্প। যদিও শাহেদ জামালের ঘুম পাচ্ছে। কিন্তু জোর করে জেগে আছে। ইমাম সাহেব তার পাপের গল্প বলতে শুরু করলেন-
তখন আমি থাকি ভাটিয়াপাড়া। পড়াশোনা করি ইসলামিক স্টাডিজ।
এক বাসায় থাকি। সেই বাসার এক মহিলার সাথে অসামাজিক কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ি। আমি মহিলার কাছে যাইনি, সে নিজেই আমার কাছে এসেছে। আমাকে জোর করেছে। প্রাথমিক জড়তা কেটে যাবার পর সুযোগ পেলেই আমরা মিলিত হতাম। একদিন মহিলার স্বামী বিষয়টা জেনে যায়। সেদিন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে- মহিলার স্বামী আমার কাছে এলো। বলল, তোমাকে ঘরে থাকতে দিয়েছি। তিন বেলা খাবার দিচ্ছি। তবু তুমি আমার সর্বনাশ করলে। হ্যা আমি জানি তোমার কোনো দোষ নাই। আমার স্ত্রী তোমার কাছে গেছে। তোমাকে জোর করেছে। এজন্য আজ আমি তাকে গলা টিপে হত্যা করেছি। এখন আমার সাথে আসো। লাশ দেবজানি খালে ফেলতে হবে। আমি বললাম, না আমি পারবো না। লোকটা বলল, মজা লুটবা। আর লাশ আমার সাথে ধরে পানিতে ফেলতে পারবা না! শাহেদ জামাল ইমাম সাহেবের গল্প শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে গেছে। কিন্তু ইমাম সাহেব থামেননি। তিনি তার পাপের কাহিনী বলেই যাচ্ছেন.....
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


