somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নয়জন মহিলা একমাসে একটা শিশু প্রসব করে না

০৩ রা এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং এর একটা সূত্র আছে, এইটারে ব্রুক'স ল বলে, উপরে দেয়া এই সূত্রটারে সোজা বাংলা করলে হয় অতি সন্যাসীতে গাজন নষ্ট- এর কাছাকাছি কিছু একটা। সফটওয়্যার ইন্জিনিয়ারিং এর সূত্র আউরাইতেছি বর্তমান আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কথা ভাইবা। ইনটারনেটের কল্যানে অথবা ইন্টারনেটের দোষেই হউক, প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যে যা কিছু ঘটে, সবই বাংলাদেশে দেখা যায়। ফলে সানি লিওন এর ভিডিও থেইকা শুরু কইরা বাকস্বাধীনতা, উগ্র ধর্মান্ধতা, দেশপ্রেঘটিত ফটোসেশন, তাহরীর স্কয়ার সবই একে একে আমদানী হইতেছে।

সমস্যা হইল, আমরা যে পরিমান বৈদেশিক আমদানী করি সেই পরিমান রপ্তানী করতে পারতেছি না। প্রবাসী বাঙালী সেকেন্ড জেনারেশন এর কাছে এখনও ইন্ডিয়ান কালচার আর বাংলাদেশের কালচারের মধ্যে বেশি ডিফারেন্স নাই।

কথা হইতেছিল ব্রুকস ল নিয়া, ব্যাপারটা মাথায় ঢুকছে ইদানীংকার কিছু ঘটনা নিয়া।

ঘটনা নাম্বার ওয়ান, কোন এক পাবলিক বাসে বইসা বাংলাদেশের মেজরিটির ধর্ম নিয়া কটুক্তি করায় লোকজন তাহারে গনধোলাই দিছে। আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের পাবলিকের বাকস্বাধীনতার অধিকার ঈর্ষনীয়, তারা তাদের দেশে বইসা যারে ইচ্ছা গালিগালাজ করতে পারে, কিন্তু বাংলাদেশে এই প্রসেস শুরু হইতে এখনও বহুত দেরী। ইউরোপের বাকস্বাধীনতা এই লেভেল আসতে তাদের দুইটা বিশ্বযুদ্ধ পার হইতে হইছে। বাংলাদেশ ছয় সাত বছর অনলাইনে ঈশ্বরের গুস্টি কিলাইয়া যদি কেউ মনে করে বাকস্বাধীনতার লেভেল এইখানে ইউরোপের সমান হইতে হবে, উহার মাথায় গোবর আছে। যে পরিবেশ ইউরোপ বা আমেরিকা শত শত বছরের পরিশ্রমে তৈরি করছে মানুষের অধিকারকে সমুন্নত রাখার জন্য, সেই অধিকার বাংলাদেশে কারোই নাই, বরং সেই পরিবেশ তারাহুড়া কইরা আমদানী করলে হীতে বিপরীত হইতে পারে। ফ্রীস্পীচ এর বদৌলতে ফ্রী কিলাকিলি ও ডান্ডাপিটানীও মিলিবে, ব্রুকস ল অনুযায়ী, নয়জন মহিলা একমাসে একটা শিশু প্রসব করে না

ঘটনা নাম্বার টু, ফেলানী হত্যার বিচার। আমেরিকা বা ইংল্যান্ডে এ ধরনের ঘটনা হইলে বিচার ব্যবস্থা কাইপা উঠতো। যদিও ঐসব দেশে এইসব সুবিচারের ধারা একদিনে আসে নাই, শত শত বছর ধইরা চেস্টা কইরা ওরা আজকের এই পর্যায়ে গেছে, এখন বিচারকক্ষে যতই ক্যামেরা আসুক বা নয়া নয়া বিচারক জয়েন করুক, আইন তো বদলায় নাই। ভারত বা বাংলাদেশের মধ্যে কাটাতারের বেড়া এখনও আছে, বিনা ভিসায় কাটাতার পার হইলে ভারতীয়রা এখনও গুলিই করে, ফুল ছুইড়া মারে না। এখন হটাৎ কইরা ভারত বাংলাদেশের মধ্যে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মত বিনা ভিসায় চলাচল দাবী করলেই সেই টা নাজেল হবে না। ভিসা না নিয়া কাটাতাড় পার হইলে ফেলানীর মত মরার সম্ভাবনাও প্রচুর, এর থেইকা প্রতিদান একদিনে আসবে না, আমরা যতই চিল্লাই, ব্রুকস ল অনুযায়ী, নয়জন মহিলা একমাসে একটা শিশু প্রসব করে না

ঘটনা নাম্বার থ্রি, সরকার পরিবর্তন। আমাদের দেশের সরকার পরিবর্তন করতে গেলেই লাশ পড়ে, আমেরিকা বৃটেনে ভোটবুথে লোকজন কাজের পরে ধীরে সুস্থে গিয়া ভোট দিয়া আসে, ঝামেলা নাই, ঝগড় নাই, যে পার্টি জিতছে, সেই পার্টি পরের দিন গিয়া অফিসে ঢুইকা অন্য পার্টিরে থেংকু দিয়া কাম শুরু করে। পার্টি আসে পার্টি যায়, দেশের পলিসি এক থাকে। এখন বাংলাদেশে তারেক যুবরাজ, বা বঙভাতিজা জয়রে আনলেই যে ফট কইরা এই রকম সুশাসন সুশীলতা শুরু হইবে, এইটা সোনার পাথর বাটি। বাংলাদেশেও একদিন পরিবর্তন আসবে, সরকার পরিবর্তন হবে শান্তিতে, আমরা ঈদের জামাতে যাওয়ার মত নতুন জামা পইড়া দল বাইন্ধা ভোট দিতে যাবো, বিজিত দল পরাজয়ী দলকে কাঠাল দিয়া বিদায় দেবে, তবে এইখানেও টাইম লাগবে একদিনে আসবে না, আমরা যতই চিল্লাই, ব্রুকস ল অনুযায়ী, নয়জন মহিলা একমাসে একটা শিশু প্রসব করে না

আমাদের জাতীয় দাবিগুলা আমাদের শিশুর মত, জাতির গর্ভ হইতে নানা রকমের টানাপোড়নের মধ্য থেইকা এইসব দাবীগুলা প্রসব হয়। দেশের দাবী, গনতন্ত্রের দাবী, সামরিক সরকারকে বিদায় করার দাবী, শিক্ষার দাবী, সেতুর দাবী, যুদ্ধপরাধীদের বিচারের দাবী, এগুলা সবই ফলপ্রসু হইছে এবং হবে যখন আমরা ধৈর্য ধরবো। একটা গ্রুপ দাবী নিয়া আগায় আসবে, লোকজনকে বোঝাবে, তারপর দাবীটার গ্রহনযোগ্য হইলেই দেশের জনগন সেইটার জন্য জান দেবে, প্রাণ দেবে। ফট কইরা ফেসবুকে প্রফাইল পাল্টাইয়া দেশ উদ্ধার করছি টাইপের লোকজনের এইসব হার্ডওয়ার্ক পছনদ না, উহারা স্ট্যাটাস দিয়া মনে করে দেশরে ভালবাইসা ফাটায়া ফালাইলাম, অথচ একটাও গুপ্তকেশ খরচ হইল না। এইসবে কাম হইবো না।

জীবন দিয়া সবাই নিজের দাবীর যোগ্যতা প্রমান করতে হয়, একজন মা তার গর্ভের সন্তানের জন্য কি না করতে পারে, আমাদের জাতির গর্ভের স্বপগুলার জন্য, আমাদের জাতির দাবিগুলার জন্য আমরা কি কি করছি??
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×