somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আসলে কি ভারত পারবে পাকিস্তানের উপর প্রতিশোধ নিতে?

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৬৫ সালের এপ্রিলে পাকিস্তান গুজরাটের কচ্ছের জলাভূমিতে কঞ্জরকোট নামের একটি ভারতীয় সেনা ছাউনি দখল করে নেয়ার পর পাকিস্তানে আক্রমণ করার দাবী নিয়ে তীব্র আভ্যন্তরীণ হাঁকডাকের প্রেক্ষিতে আইনসভায় দাঁড়িয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী বলেছিলেন, ভারত সুবিধাজনক সময়ে কঞ্জরকোটের বিপর্যয়ের প্রতিশোধ নেবে। সেই 'সুবিধাজনক সময়' আসে পাঁচ মাস পর সেপ্টেম্বরে, যখন ভারত লাহোর সংলগ্ন আন্তর্জাতিক সীমা অতিক্রম করে পাকিস্তান আক্রমণ করে।
২০০১ সালের এপ্রিলে পদুয়া ও বড়াইবাড়ীতে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত হয়েছিলো বাংলাদেশ ও ভারত। পদুয়ায় বিনা রক্তপাতে ফয়সালা হলেও বড়াইবাড়ীতে ভারত প্রচুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পড়ে ছিলো ১৬ জন বিএসএফ সৈন্যের লাশ, পশ্চাদপসরণের সময় যাদের নিয়ে যেতে পারেনি সহযোদ্ধারা। সেই ঘটনার পরও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবী উঠেছিলো ভারতে। সরকারী এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা পীলখানায় বোমাবর্ষণের দাবী পর্যন্ত করেছিলেন। সেই সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী কোন সুবিধাজনক সময়ের কথা উল্লেখ না করলেও ৯ বছরের মধ্যে পীলখানা রক্তাক্ত হয়েছিলো।
উপরের কথাগুলো এজন্য লেখা, কারণ ১৮ তারিখ ভারত শাসিত কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড পর্যায়ের সেনা ছাউনিতে কাশ্মীরী স্বাধীনতাকামীদের আক্রমণে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ষষ্ঠ বিহার রেজিমেন্ট ও দশম ডোগরা রেজিমেন্টের ১৯ সৈন্য মারা যাবার প্রেক্ষিতে ভারতে আবার তীব্র হয়েছে প্রতিশোধের দাবী। অবস্থানগত গাম্ভীর্য ভুলে ভারতের বাংলাভাষী সাবেক প্রধান সেনাপতি জেনারেল শংকর রায় চৌধুরী ভারতকেও একটি আত্মঘাতী স্কোয়াড গঠন করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়ার দাবী করেছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর আভ্যন্তরীণ প্রেস্টিজ ইস্যুও আছে। ডোগরা ও বিহার রেজিমেন্ট ঐতিহ্যবাহী। বিশেষত, ডোগরা রেজিমেন্টের জন্ম ১৮৭৭ সালে। ১৯৪৭ সালের পর থেকে দায়িত্ব পালন করা ভারতীয় প্রধান সেনাপতিদের মধ্যে কমপক্ষে দুইজন ডোগরা রেজিমেন্টে কমিশন পাওয়া অফিসার ছিলেন।
১৯ জন সৈন্যের নিজ গ্যারিসনে মৃত্যু অবশ্যই সেনাবাহিনীর অফিসার, জওয়ানদের জন্য একটি স্পর্শকাতর বিষয়। নিহতদের মধ্যে কমিশন্ড অফিসার কয়জন জানিনা, তবে স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা সেনাবাহিনীতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে, যা ভারত সরকারকে বাধ্য করবে সুবিধাজনক কোন সময়ে পাকিস্তানে আক্রমণ করতে। বিগত বছরগুলোতে ভারতীয় সেনারা কাশ্মীরে নিজ ঘাঁটিতে শিরোচ্ছেদের শিকার পর্যন্ত হয়েছে, কিন্তু ভারত পাল্টা পদক্ষেপ নিতে পারেনি। এই ক্ষোভগুলোর বিস্ফোরণ ঘটলে নরেন্দ্র মোদী নিজেকে একজন যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী হবার ঝক্কি থেকে চাইলেও বাঁচাতে পারবেন না।
এই সমস্ত বিষয় চির বৈরী এই দুই দেশের মধ্যে একটি ছোটখাট যুদ্ধের সম্ভাবনাকে তীব্র করে দিয়েছে। তবে এর প্রকৃতি কি হতে পারে, তা হুট করে বলা যায়না। হতে পারে পাকিস্তানের ভেতর কোন সেনা ছাউনি, অথবা পাবলিক প্লেসে আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটতে পারে। কিংবা জিম্মি সংকটের মতো বিচ্ছিন্ন আক্রমণও হতে পারে, যেগুলোর ব্যাপারে জেনারেল চৌধুরী বলছেন। অথবা কারগিল বা সিয়াচেন যুদ্ধের মতো স্বল্প মাত্রার কোন যুদ্ধ লেগে যেতে পারে দুই দেশের মধ্যে। যুদ্ধটা ভারতের মান বাঁচানোর জন্য হলেও বরাবরের মতো এতে কোন ফলাফল হবেনা। অমীমাংসিত যুদ্ধবিরতি কাশ্মীর সংকটের একটি স্থায়ী পরিণতিকে আরো কয়েক বছরের জন্য পিছিয়ে দেবে, যাতে লাভ ভারতের।
অনলাইনে যারা ইতোমধ্যেই কল্পনার রশির লাগাম হারিয়ে উরিতে ভারতের বিপর্যয়ের প্রেক্ষিতে গজওয়া-ই-হিন্দ, এমনকি মালহামার শিশুতোষ ফানুশ নির্মাণ করে চিন্তা জগতের সর্বনাশ করেছেন, সম্ভবত তারা আবার হতাশ হবেন। কারণ তাদের কল্পনার ফানুশ যতোই ফুলেফেঁপে উঠুক না কেন, এই মুহূর্তে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে কোন অলআউট বা ডিসাইসিভ ওয়ারের সম্ভাবনা নেই বলেই মনে হয়। তবে ছোটখাট যুদ্ধ হতে পারে...।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:৫০
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×