somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চীন বাংলাদেশ সম্পর্ক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর আমল থেকেই!

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ভূরাজনৈতিক দিক থেকে উপমহাদেশে চীনের ব্যাপক স্বার্থ জড়িত আছে বলেই শোনা যায়। এই স্বার্থ আবার প্রতিবেশী ভারতের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক। এর জন্যই দীর্ঘ কয়েক শতকের বিচ্ছিন্নতার পর কূটনৈতিকভাবে চীন উপমহাদেশে পা ফেলে পাকিস্তানের জরিয়াতেই। চীনের সাথে পাকিস্তানের মৈত্রী এখন অত্যন্ত উত্তুঙ্গু পর্যায়ে। চীনের সবচেয়ে বড় দূতাবাস অবস্থিত ইসলামাবাদে।
এই পাক-চীন মৈত্রীর জনক ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৫৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তেরো মাস ছয়দিনের প্রধানমন্ত্রীত্বের সময়কালে সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতিতে ব্যাপক গতিশীলতা আনায়ন করেন। ১৯৪৭ সালে জন্মের পর প্রথমবার শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সময়েই পাকিস্তানের পররাষ্ট্রনীতি সবচেয়ে সক্রিয় সময় অতিক্রম করে। এতোটাই সক্রিয় যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ-রিপাবলিকান পার্টির সমঝোতার সরকারকে পাকিস্তানের প্রথম এলেমদার সরকার হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
সোহরাওয়ার্দী চীন ছাড়াও আমেরিকার সাথে পাকিস্তানের কৌশলগত মিত্রতা গড়ে তোলেন। আমেরিকার সহযোগিতায় পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়নে সোহরাওয়ার্দীর গৃহীত পদক্ষেপ স্বল্পমেয়াদে কার্যকর বলেই প্রমাণিত হয়।
যাহোক, চীনের সাথে মৈত্রীর সম্পর্ক স্থাপনকে সোহরাওয়ার্দীর শাসনামলের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হিসেবে অভিহিত করলেও খুব একটা অত্যুক্তি হবেনা। সেই থেকেই চীন উপমহাদেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি স্থায়ী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়া শুরু করে। পাকিস্তানের সাথে চীনের এখনকার সম্পর্ক অনেকটা মার্কিন-ইসরাইল সম্পর্কের পর্যায়ে উপনীত হয়েছে।
এদিকে বাংলাদেশ সাড়ে তিন বছরের নাতিদীর্ঘ বিরতির পর ১৯৭৫ সালেই চীনের দিকে ঝুঁকতে শুরু করে। শেখ মুজিবুর রহমানের শাসনামলের শেষের দিক থেকেই এই তৎপরতা শুরু হয়েছিলো। তিনি বেঁচে থাকলে হয়তো পাঁচ শতাব্দী পর তাঁর দ্বারা বঙ্গ-চীন মৈত্রীর নতুন পর্যায়ের সূত্রপাত ঘটতো। জিয়াউর রহমান ক্ষমতাসীন হয়ে চীনের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে এমন এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান যে, বহু চেষ্টার পরও বাংলাদেশে চীনা প্রভাব খর্ব হয়নি। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ধ্রুপদী দৃষ্টিভঙ্গিতে যদি সামরিক বাহিনী রাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হয়ে থাকে, তাহলে চীন বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর সাথে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করে এদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিকে স্থায়ী মিত্রতা পাশে আবদ্ধ করে ফেলেছে! এমনকি হাসিনা ওয়াজেদের ভারতপন্থী সরকার চীনের সমর্থন টিকিয়ে রাখতে দেশে চীনা বিনিয়োগকে অকাতরে গ্রহণ করছে।
ছবিটি ১৯৫৬ সালের। এতে দেখা যাচ্ছে, সেসময় চীন সফররত পাক প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চৌ এন লাই পিকিংয়ের গ্রেট হলে পাক-চীন মৈত্রী চুক্তি দস্তখতের পর পরস্পর করমর্দন করছেন। চৌ এন লাই এর কয়েকমাস পর পাকিস্তানে সফর করেন। তিনি আলাদাভাবে পূর্ব পাকিস্তানেও সফর করেন। এর থেকে চীনের কাছে স্বাধীনতা-পূর্ব বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্বের বিষয়টি অনুধাবন করা যায়। চীনা প্রধানমন্ত্রীকে গুলিস্তান হলে নাগরিক সংবর্ধনা দিয়েছিলো আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বাধীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক সরকার।
বর্তমানে ইসলামাবাদ থেকে ঢাকা, কলম্বো থেকে কাঠমান্ডু- উপমহাদেশের সর্বত্র চীনের সরব উপস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ষাট বছরের আগের এই ছবিটিকে বাড়তি ঐতিহাসিক সুষমায় ভূষিত করা যেতেই পারে! কারণ এই ছবিতে যে শুরুর কথা ফুটে উঠেছে, তার প্রভাব আজো ঘোরতরভাবে বাস্তব...!

সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×