somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ডানপিঠে নিশাচর
অসংখ্য মানুষের ভালবাসা বা ভূয়সী প্রশংসা প্রত্যাশা করি না, প্রচুর গালি আর প্রচুর অসভ্যতা সহ্য করি।

ভাল ফলাফল প্রকাশের উন্মাদনায় অসংখ্য শিক্ষার্থী পঙ্গুত্বের পথে

২০ শে মে, ২০১৪ রাত ৮:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বর্তমান সরকারের সাফ্যলের ধারাবাহিকতার দালিলিক প্রমাণ স্বরুপ এবছর মাধ্যমিক পরীক্ষায় ‘বাম্পার রেজল্ট’ হয়েছে। ‘বাম্পার’ শব্দটা ব্যবহার করলাম কারন কৃষি ক্ষেত্রে ফলন ভালো হলে বলা হয় বাম্পার ফলন তাই এ রেজাল্টকে ‘বাম্পার রেজাল্ট’ বলাটা খুব বেশি ভুল হবে না বলেই ধরে নিচ্ছি। এরকম একটি ফলাফল শুধু সরকারের সফলতার দালিলিক প্রমান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে এমনটা ভাবলে ভাবনা হয়তো অপূর্নই থেকে যাবে।

এরকম রেজাল্ট শিক্ষার বাণিজ্যকরনকে ব্যাপকভাবে উৎসাহিত করে এবং শিক্ষা বানিজ্যের ক্ষেত্রের ব্যাপক বিস্তর ঘটায়। আজকে যেসমস্ত শিক্ষার্থী ভাল ফলাফল করেছে তারা উচ্চ-মাধ্যমিকে ভর্তি হবার জন্য যার-যার নিকটস্ত কলেজের স্বরনাপন্ন হবে, কিন্তু মফস্বলের যে ডিগ্রি কলেজটি বিগত ৪/৫ বছর আগেও শুধুমাত্র পাসকৃত ছাত্র/ছাত্রী হলেই ভর্তি নিত তারাও এই ‘বাম্পার রেজাল্টে’ এর কল্যাণে ভর্তি যোগ্যতা জিপিএ-৫ দাবি করে বসবে। তখন যারা ঐ ভর্তিযোগ্যতার গ্যারাকলে আটকে যাবে, ভর্তি হতে পারবে না তাদের কি হবে?

তাদের তখন ঝড়ে পড়া অথবা প্রাইভেট কলেজেগুলোতে জবাই হতে যাওয়া ছাড়া আর কোন পছন্দ থাকবেনা। আর এ সুযোগের সন্ধানেই থাকে অলিতে-গলিতে ৪/৫ কক্ষ বিশিষ্ট ছোট্ট বিল্ডিয়ে স্থাপিত নিম্ন মানের কথিত প্রাইভেট কলেজের মালিক তথা শিক্ষা ব্যবসায়ীরা। এসব শিক্ষামানে প্রশ্নবিদ্ধ নতুন কলেজ সম্পর্কে শিক্ষাবোর্ডের সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা বলবে সরকারি কলেজেগুলোতে আসন সংকুলান হচ্ছেনা বিধায় তারা নতুন কলেজ অনুমোদন দিতে বাধ্য হচ্ছে।

এদিকে সদ্য তারুণ্যে পা দেওয়া শিক্ষার্থীরা শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে প্রাইভেট কলেজে হয়তো ভর্তি হবে ঠিকই কিন্তু সেখানে খেলাধুলার জন্য মাঠ পাবে না, সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবে না।
যে সময়টা তাদের মাঠে ব্যায় করার কথা ছিল তা ব্যায় করবে কম্পিউটারে বসে ভিডিও গেমস খেলে,
সাংস্কৃতিক চর্চার বদলে মোবাইল ফোনে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনে অথবা পর্ণ সাইটে বিচরন করে।
আর এদিকে এই প্রাইভেট কলেজগুলোই ২ বছর যাবৎ শিক্ষার্থীদের গলায় ছুরি চালিয়ে টাকা আদায় করে যাবে।
২ বছর পর এই শিক্ষার্থীরাই আবার উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহন করবে,
সরকারের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রাখতে পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীর হাতে ইন্টারনেটের বদৌলতে পৌছে যাবে প্রশ্নপত্র, আবার একটা ‘বাম্পার রেজাল্ট’ হবে। তারপর আসবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পালা।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ১টা সিটের বিপরীতে ৫০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে।
১ জন চান্স পাবে আর চান্স না পাওয়া বাকী ৪৯৯ জনের ভরসা হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন আসন সংকট আর সুদীর্ঘ্য সেশনজট তখন ঝড়ে পড়া অথবা ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে জবাই হওয়ার জন্য গলা বাড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা। তখন এই 'ব্যাম্পার রেজাল্ট' এর ফসল উঠবে শিক্ষাব্যবসায়ীদের ঘরে। আরেকদফা অনুমোদন পাবে আরোকিছু তথাকথিত বিশ্ববিদ্যালয়(!)
অভিভাবকরা তাদের উওরাধীকারিকে উচ্চ-শিক্ষিত করার দু:স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বশেষ সহায়-সম্বলটুকুও বাজি রেখে হলেও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করাবেন। ভর্তির সময় হাতিয়ে নেয়া হবে মোটা অঙ্কের টাকা, ক্রেডিট বাড়ানোর নামে জুড়ে দেওয়া হবে বাধ্যতামূলক কিছু সাপ্লিমেন্ট কোর্স, চলবে আজকে অমুক প্রোগ্রাম তো কালকে তমুক প্রোগাম এসবের অজুহাতে অফিসিয়াল চাঁদাবাজি।

এভাবে যারা পর্যায়ক্রমে অনার্স লেভেলটা অতিক্রম করবে তারা তখন চাকরীর জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্টানে ধরনা দেবে। এদের মধ্যে যাদের গায়ে আঘাতের চিহ্ন অথবা মামা/দুলাভাইয়ের সুপারিশ থাকবে তারা হয়তো ভালো একটা চাকরি কপালে জুটালেও জুটাতে পারে আর যাদের গায়ে শিক্ষাজীবনে মরামারি করে আঘাতের চিহ্ন থাকবেনা বা যাদের মামা-দুলাভাই উচ্চপদে বহাল নেই তাদের সার্টিফিকেটের ওপর ধুলো জমবে তখন তাদের শুধু দীর্ঘশ্বাস ফেলা অথবা চাহিদার যোগান দিতে ভূল পথে পা বাড়ানো ছাড়া আর কিছু করার থাকবেনা।

পরিস্থিতি বিবচেনায় বলতে হয়-
আমাদের এই দেশে সংখ্যাগরিষ্ট শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য হচ্ছে,
মরে গেলে মেধাবী সম্মাননা আর বেঁচে থাকলে বেকারত্বের অভিশাপ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×