somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমরা গভীর ভাবে শোকাহত নভেরা কে হারিয়ে

০৭ ই মে, ২০১৫ রাত ১:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাস্কর নভেরা আহমেদ আর নেই। তিনি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল
১০টায় ফ্রান্সের প্যারিসে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি
রাজিউন) মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
বুধবার রাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো
হয়েছে। তার মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর
গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
নভেরা আহমেদ ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাদেশের ভাস্কর্য শিল্পের অন্যতম
অগ্রদূত ছিলেন তিনি। নভেরা আহমেদ ভাস্কর হামিদুর রহমানের সাথে জাতীয় শহীদ
মিনারের প্রাথমিক নকশা প্রণয়ন করেছিলন। দীর্ঘদিন পর ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি
থেকে প্যারিসে তার রেট্রোসপেকটিভ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৭-এ বাংলাদেশ
সরকার তাকে একুশে পদক-এ ভূষিত করে।
তার বাবা সৈয়দ আহমেদ কর্মরত ছিলেন সুন্দরবন অঞ্চলে। সেই সূত্রে নভেরার জন্ম
সুন্দরবনে। চাচা আদর করে নাম রাখেন নভেরা। এ ফার্সি শব্দটির অর্থ নবাগত, নতুন জন্ম।
পৈতৃক নিবাস চট্টগ্রামের আসকারদিঘির উত্তর পাড়া। চাকরি সূত্রে পিতা সাইদ
আহমেদ পরবর্তীতে কলকাতায় ছিলেন। নভেরার শৈশব কেটেছে কলকাতায়।
কলকাতার লরেটা থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন তিনি। স্কুল জীবনেই তিনি ভাস্কর্য
গড়তেন।
১৯৪৭-এ ব্রিটিশ শাসনাধীন ভারত ভাগ হয়ে যাওযার পর তারা পূর্ব পাকিস্তানের
(বর্তমান বাংলাদেশ) কুমিল্লায় চলে আসেন। এ সময় নভেরা কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া
কলেজে ভর্তি হন। পিতার অবসরের পর তারা সবাই আদি নিবাস চট্টগ্রামে গিয়ে
স্থায়ী বসবাস শুরু করেন। চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন নভেরা।
১৯৫০ সালে তিনি লন্ডনে যান । লন্ডনে তখন তার মেঝ বোন শরীফা আলম বিবিসির
একটি অনুষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তখন বিবিসির বাংলা বিভাগের দায়িত্বে
ছিলেন নাজির আহমেদ। নাজির আহমেদের ছোট ভাই হামিদুর রাহমান তখন ঢাকা
আর্টস কলেজে পড়েন। কলেজের প্রথম ব্যাচের ছাত্রদের একজন তিনি। তার সহপাঠী
ছিলেন আমিনুল ইসলাম।
হামিদ যখন দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র, তখন নাজির আহমেদ তাকে নিয়ে গিয়ে
প্যারিসের বোজ আর্টস স্কুলে ভর্তি করে দিলেন। কিন্তু হামিদ প্যারিসে থাকতে
পারেননি, তিনি লন্ডনে ফিরে ভাইয়ের ফ্ল্যাটেই উঠলেন। আর তখনই নভেরার
সঙ্গে পরিচয় হামিদের। লন্ডনে হামিদ সেন্ট্রাল স্কুল অব আর্টে ভর্তি হলেন।
এখানে ভর্তি হবার জন্য আর্টের ওপর প্রাথমিক কিছু জ্ঞানের প্রয়োজন হতো।
নভেরা ১৯৫১ সালে ক্যাম্বারওয়েল স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফ্টসের ন্যাশনাল
ডিপ্লোমা ইন ডিজাইনের মডেলিং ও স্কাল্পচার কোর্সে ভর্তি হন। এখানে ভর্তি
হতে শিল্পকলা বিষয়ে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের প্রয়োজন ছিল না। ১৯৫১-৫২
শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ন্যাশনাল ডিপ্লোমা ইন ডিজাইন প্রথম
প্রবর্তিত হয়। এ সম্পর্কে প্রসপেক্টাসে বলা ছিল, ‘শিল্পকলার শিক্ষকদের জন্য এটি
একটি স্বীকৃত যোগ্যতা হবে।’ কোর্সটি চার বছরের প্রথম দুবছর পর ইন্টারমিডিয়েটে
পরীক্ষা, পরবর্তী দুবছর পর ডিপ্লোমার জন্য ফাইনাল পরীক্ষা। নভেরা ১৯৫৫ সালে
কোর্স শেষ করে ডিপ্লোমা পেলেন।
ক্যাম্বারওয়েলে স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড ক্র্যাফ্টসে ১৯৪৮ থেকে ১৯৫৯ সাল পর্যন্ত
ভাস্কর্য বিভাগের অধ্যক্ষ ছিলেন ডক্টর ক্যারেল ভোগেল।
১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দের জানুয়ারি মাসে নভেরা আহমেদ ও হামিদুর রহমান একসঙ্গে
ফ্লোরেন্সে যান। প্রথমে তারা শিল্পী আমিনুল ইসলামের আতিথ্য গ্রহণ করেন এবং
পরে তিনজন একত্রে একটি স্টুডিওতে উঠে যান। নভেরা মাস দুয়েক শুধু ঘুরে
দেখলেন। ডক্টর ফোগেল ভেন্তুরিনো ভেন্তুরির নামে এক ইতালীয় শিল্পীর
কাছে নভেরার নাম উল্লেখ করে একটি চিঠি দিয়ে দিয়েছিলেন। এই শিল্পীর
সাহচর্যে নভেরা দোনাতেলোসহ প্রাচীন কয়েকজন শিল্পীর কাজের সঙ্গে
পরিচিত হন এবং দুই মাস তার কাছে কাজ শেখেন। এরপর ফ্লোরেন্স থেকে
ভেনিসে যানন নভেরা ও হামিদ এবং সেখান থেকে লন্ডন। ১৯৫৪ সালের
ক্রিসমাসের ছুটিতে নভেরা ও হামিদ প্যারিসে রঁদার মিউজিয়াম দেখতে
গিয়েছিলেন। ভাস্কর্যের ছাত্রী স্বভাবতই অত্যন্ত অভিভূত হয়েছিলেন রঁদার কাজ
দেখে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০১৫ বিকাল ৩:৩৭
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×